উদ্যোক্তাদের দ্রুত প্রয়োজনীয় সেবা দিতে মন্ত্রণালয়ের সকল স্তরে ই-ফাইলিং পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়। এর অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে দু’টি শাখায় পরীক্ষামূলকভাবে এ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসের মধ্যে গোটা মন্ত্রণালয়ে ই-ফাইলিং পদ্ধতি চালু হবে। এর ফলে দেশব্যাপী টেকসই শিল্পখাত বিকাশে মন্ত্রণালয়ের সেবাদান কার্যক্রম জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সদ্য যোগদানকৃত শিল্প সচিব মোঃ মোশাররফ হোসেন ভূইয়া এনডিসি এর সভাপতিত্বে ’গত পাঁচ বছরে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অর্জন ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক পর্যালোচনা সভায় এ তথ্য জানানো হয়। শিল্প মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আজ এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ ফরহাদ উদ্দিন। মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনা ও গত পাঁচ বছরে অর্জিত সাফল্য উপস্থাপন করেন সিনিয়র সহকারী সচিব মোঃ সলিম উল্লাহ। এতে মন্ত্রণালয়ের উধর্র্¦তন কর্মকর্তা এবং এর আওতাধীন বিভিন্ন কর্পোরেশন ও সংস্থার প্রধানরা আলোচনায় অংশ নেয়।

সভায় জানানো হয়, জাতীয় অর্থনীতিতে শিল্পখাতের অবদান বাড়াতে শিল্প মন্ত্রণালয় স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদী কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এর মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে জিডিপিতে শিল্পখাতের অবদান ৪০ শতাংশের পাশাপাশি শিল্পখাতে শ্রমশক্তি ২৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরের জিডিপিতে শিল্পখাতের অবদান প্রায় ৩২ শতাংশ এবং শ্রমশক্তির পরিমাণ ২০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

সভায় জানানো হয়, ২০০৯ সালের জুন থেকে ২০১৪ সালের জুলাই পর্যন্ত শিল্প মন্ত্রণালয় ৫শ’ ৩৪টি জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে এ শিল্পখাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লক্ষাধিক লোকের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি প্রায় ৬২ লাখ মেট্রিক টন লোহা পাওয়া গেছে। এ সময় ভারত, ডেনমার্ক, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বেলারুস ও কম্বোডিয়ার সাথে দ্বি-পাক্ষিক পুঁজি বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।

সভায় তথ্য প্রকাশ করা হয়, শিল্পখাতের উদ্যোক্তাদেরকে উৎসাহ দিতে মন্ত্রণালয় এ পর্যন্ত ১শ’ ৭০ জন উদ্যোক্তাকে সিআইপি (শিল্প) কার্ড প্রদান করেছে। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষ্যে এ পর্যন্ত ১০টি শিল্প প্রতিষ্ঠানকে ন্যাশনাল প্রোডাক্টিভিটি অ্যান্ড কোয়ালিটি অ্যাওয়ার্ড দেয়া হয়েছে। শিল্পখাতে আইন ও নীতি সহায়তা জোরদারের লক্ষ্যে গত পাঁচ বছরে জাতীয় শিল্পনীতি, শিল্প প্লট বরাদ্দ নীতিমালা, লবণনীতি, ভৌগলিক নির্দেশক আইন, ট্রেডমার্কস আইন, ভোজ্যতেলে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধকরণ আইন ও জাহাজ ভাঙ্গা ও জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।

সভায় বলা হয়, মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ৮টি দপ্তর/সংস্থার সাথে শিল্প মন্ত্রণালয় সমঝোতা স্মারক (গড়ট) স্বাক্ষর করেছে। এ সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে নিবিড় তদারিক হচ্ছে। শীঘ্রই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাথে শিল্প মন্ত্রণালয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্পর্কিত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করবে বলে সভায় তথ্য প্রকাশ করা হয়।

সভায় শিল্পসচিব বলেন, মন্ত্রণালয়ের কাজে গতিশীলতা আনতে অগ্রাধিকার কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করে তা     বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি এক্ষেত্রে প্রশাসনের নিচু স্তরের কর্মকর্তাদেরকে সৃজনশীল কর্ম পরিকল্পনা প্রণয়নের পরামর্শ দেন। শিল্পখাতের উন্নয়নে যে কোনো উদ্ভাবনি উদ্যোগ মন্ত্রণালয় দ্রুততার সাথে বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি জানান। তিনি জ্বালানী দক্ষতা বাড়াতে রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানাগুলোতে জ্বালানী সাশ্রয়ী সবুজ প্রযুক্তি ব্যবহারের তাগিদ দেন।

ঢাকা, ২৭ অক্টোবর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএমআর