যুক্তরাষ্ট্র কেবল মাত্র শাস্তি দেয়ার জন্য জিএসপি সুবিধা স্থগিত করেনি বরং বাংলাদেশ যেন শ্রমিক অধিকার এবং কারখানার পরিবেশ নিরাপদ করতে যথেষ্ট ব্যবস্থা নেয়, সে জন্যই এটা করা হয়েছে। এমনটাই জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি মাইকেল ডিলানি।
তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ আমেরিকার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশটি এ অঞ্চলে ও বিশ্বে উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত রেখেছে। ১৬ কোটি মানুষের মধ্যপন্থী, ধর্ম-নিরপেক্ষ ও মুসলিম অধ্যুষিত দেশ হিসেবে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়া জন্য ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে।
রোববার বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা কাঠামোর (টিকফা) প্রথম বৈঠক উপলক্ষে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিলানি বলেন, আপনারা সবাই অবগত আছেন, বিশেষত তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জোরালো দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো এদেশে প্রচুর বিনিয়োগ করে থাকে। শেভরন ও কনোকোফিলিপস ভূমি ও পানিতে প্রাকৃতিক গ্যাস খনন ও উৎপাদন করছে।
মাইকেল জে ডিল্যানি বলেন, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের নিকট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি এ অঞ্চলে ও বিশ্বে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়ার জন্য ইতিবাচক ভুমিকা পালন করছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করে দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অন্যতম চাবিকাঠি।
তিনি আরোও বলেন, টিকফা যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য এ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আলোচনার প্রাথমিক কৌশল এবং এই ফোরাম এর মাধ্যমে পরিবেশ, মেধাস্বত্ব রক্ষা, শ্রমিক অধিকার ও নিরাপত্তা এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন বিষয় সমূহ প্রাধান্য পাবে। দুদেশের মধ্যকার নিয়মিত ও আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংলাপ আয়োজনের উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
 বাংলাদেশের তৈরী পোষাক খাতের ক্ষেত্রে শ্রমিকের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিতকরন, কারখানার মালিক ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং সরকারের পক্ষ থেকে আইনী সংষ্কার সাধন, যার মাধ্যমে বাংলাদেশের আইন আন্তর্জাতিক মানের সংঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হয় প্রভৃতি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখার আহবান জানান তিনি।
বাংলাদেশে নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা বলেন, দীর্ঘ ১২ বছর বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা ও পর্যালোচনার পর টিকফা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং এর ফলে দুদেশের মধ্যকার বাণিজ্য সম্পর্ক আরোও সুদৃঢ় হবে ও বাণিজ্যের হার বৃদ্ধি পাবে।
আলোচনার কালে বিজিএমইএ’র সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেন, তৈরী পোষাক খাতের কারখানা গুলোর ক্ষেত্রে “বিল্ডিং কোড” মেনে চলার বিষয়ে কোন ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি আরোও বলেন, রানা প্লাজার ঘটনা থেকে আমদের কে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। তিনি আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের ক্ষেত্রে বিশেষ শুল্কমুক্ত সুবিধা (জিএসপি) বজায় রাখার দাবি জানান। 
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)’র সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান খান বলেন, বাংলাদেশী পণ্যের ব্যাপক সম্প্রসারণের জন্য টিকফা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, টিকফার সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত সহযোগিতার মাধ্যমে এটি একটি চুড়ান্ত রূপ পাবে।
আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (এ্যামচেম)’র সভাপতি আফতাব উল ইসলাম বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্য সম্পর্ক আরোও বাড়ানোর উপর জোরারোপ করেন।
ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি ওসামা তাসীর, পরিচালক হায়দার আহমদ খান, এফসিএ, মোঃ ইফতেখারউদ্দিন (নওশাদ), নেসার মাকসুদ খান, মুক্তার হোসেন চৌধুরী, হোসেন এ সিকদার, আলহাজ্ব আব্দুস সালাম, মোঃ শোয়েব চৌধুরী, এ কে ডি খায়ের মোহাম্মদ খান, প্রাক্তন সভাপতি আর মাকসুদ খান, এম এইচ রহমান, বেনজীর আহমেদ, হোসেন খালেদ, আবুল কাসেম খান এবং আসিফ ইব্রাহীম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
[b]ঢাকা, ২৭ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেএইচ// এমআর [/b]