বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্য সামনে রেখে আগামী ২৭ জানুয়ারি চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি-জুন) জন্য মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওইদিন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে মুদ্রানীতি ঘোষণা করবেন। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
ইতোমধ্যে মুদ্রানীতির বিভিন্ন কৌশল নির্ধারণের জন্য অর্থনীতিবিদ, তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী, ব্যবসায়ী নেতা, অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাসহ বিশেষজ্ঞ মতামত নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, নতুন মুদ্রানীতিতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অপরিবর্তিত রাখা হচ্ছে। এটি বাড়ানো হচ্ছে না । অর্থবছরের প্রথমার্ধে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম প্রবৃদ্ধি হওয়ায় এ অর্ধে এটি বাড়ানোর প্রয়োজন নেই বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধ তথা জানুয়ারি-জুন-এই ছয় মাসের জন্য এ মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হবে। ইতোমধ্যে এ মুদ্রানীতির কৌশল চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নেওয়া হয়েছে অর্থনীতিবিদ ও গবেষকদের মতামত। প্রাপ্ত সব মতামতই সম্প্রসারণমূলক মুদ্রানীতির পক্ষে বলে জানা গেছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক পুরো সম্প্রসারণমূলক মুদ্রানীতিতে যাবে না। বরং এক ধরনের ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করবে, যাতে অর্থের প্রবাহ বাড়লেও তাতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়।
গত কয়েক বছর ধরেই সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ করে আসছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঋণ বা নগদ অর্থের প্রবাহের লাগাম কঠোরভাবে ধরে রেখেছে। কয়েক দফা আমানতের বিপরীতে বিধিবদ্ধ তারল্য সংরক্ষণ বা সিআআর-এর হার বাড়িয়ে ব্যাংকিং খাত থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে বাড়তি টাকা। এতে ঋণ ও বিনিয়োগ ব্যাহত হচ্ছে এমন অভিযোগ উঠলেও তাতে কর্নপাত করেনি বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এবার ভিন্ন পরিস্থিতির কারণে ওই অবস্থান থেকে সরে আসছে মুদ্রা বাজারের অভিভাবক।
জানা গেছে, গত কয়েক মাসের রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিশেষ করে হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচির কারণে শিল্প-বাণিজ্য মুখ থুবড়ে পড়ার প্রেক্ষিতে আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে শিল্প উদ্যোক্তারা গত কয়েক মাসে নতুন বিনিয়োগের ঝুঁকি নেন নি। এ কারণে বেসরকারি খাতে শিল্প ঋণ বিতরণের পরিমাণ কমে যায়। অন্যদিকে এ সময়ে মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানিও হয়েছে কম।এমন অবস্থায় বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান চাঙ্গা করতে অর্থ প্রবাহ বাড়ানোর কথা ভাবছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
তবে নতুন মুদ্রানীতিতেও বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ বাড়ানোর লক্ষ্য আগের অর্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) সমান তথা ১৬ দশিমক ৫০ শতাংশ রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে বাস্তবে ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ শতাংশের কাছকাছি।
আগে প্রতিবছর একবার মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হলেও ২০০৬ সাল থেকে অর্ধবার্ষিক ভিত্তিতে মুদ্রানীতি প্রণয়ন করে আসছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
[b]টাইমনিউজবিডি/এসএমআর[/b]
অর্থনীতি
নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা ২৭ জানুয়ারি
বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্য সামনে রেখে আগামী ২৭ জানুয়ারি চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি-জুন) জন্য মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওইদিন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে মুদ্রানীতি ঘোষণা করবেন। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।





