গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে প্রদিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এ আহবান জানানো হয়। এতে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন। এসময় জিসান ই এন্ড সির অন্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।


লিখিত বক্তব্যে জয়নাল আবেদীন বলেন, আমি জিসান ই এন্ড সি, দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষে ২০২১ সালের ২ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর বরাবর উনার কার্যালয়ে একটি লেটার অব ইনডেন্ট ( এলওআই) জমা দেই। যার স্মারক নং-৩১৩৪। এর বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, গত বছরের শুরুর দিকে জিসান ই এন্ড সি এর চেয়ারম্যান প্রফেসর মি. বি এম চৈ এবং প্রেসিডেন্ট প্রফেসর চাং কিউ ইউন দক্ষিণ কোরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত ডা. আবিদা ইসলাম ও ট্রেড ডিভিশন কনসোলার ড. মিজানুর রহমানের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং মধ্যাহ্নভোজে মিলিত হন। জিসান ই এন্ড সি’র চেয়ারম্যান এবং প্রেসিডেন্ট মহোদয় অত্যন্ত সৌহাদ্যপূর্ণ আলোপ আলোচনায় দুই দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে কথা বলেন। উক্ত আলোচনায় জিসান ই এন্ড সি বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূতকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব দেন।


প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ছিল প্রধানমন্ত্রীর ফরেন ইকোনমিক এডভাইজার পোস্ট এপোয়েন্ট বা বৈদিশিক অর্থ উপদেষ্টা নিয়োগ সংক্রান্ত। প্রধানমন্ত্রীর বৈদেশিক অর্থ উপদেষ্টা নিয়োগপত্র পাওয়ার পর জিসান ই এন্ড সি নিন্মলিখিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এর মধ্যে রয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়া-বাংলাদেশ জয়েন্ট প্রজেক্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড, ফরেন ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ড ফর বাংলাদেশ, ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ডস, হাই-টেক ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট কনস্ট্রাকশন ফান্ড, মামুথ হসপিটাল (সামস্যাং সিউল হসপিটাল), পাওয়ার প্ল্যান্টস, স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ, টঙ্গি ঝিলমিল সাবওয়ে বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য।


সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, দুই পক্ষের আলোচনায় মাননীয় রাষ্ট্রদূত জিসান ই এন্ড সি’কে বাংলাদেশ সরকারের কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। যেহেতু জিসান ই এন্ড সি উন্নত বিশ্বের উন্নত প্রযুক্তির স্বনামধন্য একটি প্রতিষ্ঠান, তারই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর বৈদিশিক অর্থ উপদেষ্টা নিয়োগ পাওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেন। তারই অংশ হিসেবে গেল একবছর ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সাথে টেলিফোনে কথা বলি। তিনি আমাকে যাবতীয় ডকুমেন্টস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উনার পি এস গোলাম মাওলার কাছে জমা দিতে বলেন। আমি প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সমস্ত কাগজপত্র জমা দিই। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সিনিয়র সচিব তোফাজ্জল হোসাইন মিয়ার নিকট মোবাইলে ফোন করি এবং পরে উনার হোয়াটসঅ্যাপে সমস্ত কাগজপত্র প্রেরণ করি।


যেহেতু ‘এলওআই’ টি এক বৎসর সময় পার হয়ে গেল, তাই জিসান ই এন্ড সি এর অনুরোধে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করি। তিনি দক্ষিণ কোরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত ও জিসান ই এন্ড সি কর্মকর্তাদের মধ্যে আলাপকৃত বিষয়গুলো নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণসহ হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এমআর