বৈষম্য নীতির কারণে আমদানি-রপ্তানি কমে গেছে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে। বন্দরের ব্যবসায়ীদের ওপর কাষ্টমস কর্মকর্তাদের নানা অজুহাতে হয়রানী, চলছে সময় ক্ষেপণ, উৎকোচ গ্রহণ, ভৌতিক টাকা দিতে হচ্ছে প্রতি বিল অব এন্ট্রিতে, ব্যবসায়ীদেরকে গচ্চা দিতে হচ্ছে অতিরিক্ত ডিটেনশন চার্জ, শত ভাগ রাজস্ব জমা দেয়ার পরও আমদানিকারকদেরকে ঘুরপাক খেতে হচ্ছে হিলি থেকে রংপুর কমিশনারের অফিস পর্যন্ত। এক বছরে সরকার হারিয়েছে প্রায় এক’শ কোটি টাকার রাজস্ব।
রাজস্ব আয় করতে সরকার বানিজ্য প্রসারের গুরুত্ব দিলেও কতিপয় কাষ্টমস কর্মকর্তাদের কারণে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা এবন্দর ছেড়ে পালিয়ে গেছে অন্য স্থলবন্দরে। বেশীর ভাগ ব্যবসায়ীরা তাদের হাত গুটিয়ে নিয়েছে। এতে এ বন্দরের পন্য আমদানি কমেছে অনেকগুনে।
কাস্টমস সূত্রে জানাগেছে, ২০১২-১৩ অর্থ বছরে ৫৫ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য মাত্রার বিপরিতে আদায় করতে সক্ষ্যম হয়েছিলো ২শ ২২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। গত অর্থ বছরে ২শ ৩৮ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা বেধে দেয় জাতীয় রাজস্ব বোড। সেখানে ১০ মাসে লক্ষ্যমাত্রা ১শ ৮৬ কোটি ১০ লাখ টাকার বিপরিতে আয় করেছিল ১শ ৫১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।
পরে ওই অর্থ বছরের শেষার্ধে লক্ষমাত্রা সংশোধন করে ১শ ৫৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বিপরিতে বিভিন্ন খাত থেকে জোড়াতালি দিয়ে কাষ্টমস কতৃপক্ষ রাজস্ব আয় দেখিয়েছে ১শ ৫৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। দুই অর্থ বছরের তুলনায় সরকার হারিয়েছে কোটি টাকার রাজস্ব। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বেঁধে দেয়া লক্ষমাত্রা থেকে দিন দিন পিছিয়ে পড়ছে হিলি কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক আমদানীকারক অভিযোগ করে জানান, হিলি কাস্টমস কর্মকর্তাদের হাতে প্রতিনিয়ত আমদানীকারক ও তাদের প্রতিনিধিরা হয়রানীর শিকারে পড়ে থাকেন। আমদানিকৃত পন্যে শুল্ক থাক আর নাইবা থাক প্রতি বিল অফ এন্ট্রিতে দিতে হবে আড়াই হাজার টাকা। না দিলে কোন পেপারের আউটপাশ হয় না। বেশী কথা বল্লেই লইসেন্স বাতিলেরও হুমকিতে থাকতে হয় ব্যবসায়ীদের।
আবার শতভাগ ডিউটি পরিশোধকারি অনেক আমদানিকারকের পন্য ছাড়দিতে বিভাগীয় তদন্তটিমের মাধ্যমে তদন্ত সেরে ওই পন্যের ছাড় দিয়ে থাকেন। আবার অনেক আমদানি কারকের পন্য নানা তালবাহানা দেখিয়ে আটকিয়ে রেখে গচ্চা দিতে হচ্ছে ডিটেনশন চার্জ। রেফারেন্স পেপারের সঠিক মুল্যায়ন না করায় ব্যবসায়ীরা জিম্মি হয়ে পড়েছেন কাষ্টমস কতৃপক্ষের কাছে। অনেক আমদানিকারক এ স্থলবন্দর দিয়ে অনেক পন্য আমদানি বন্ধ করেও দিয়েছেন।
ফল আমদানি কারক ব্যবসায়ী আ: মান্নান জানান, কাঁচাফল পন্য সামগ্রী এখন আসছে একই কমিশনারের আওতায় বুড়িমারি ও বাংলাবান্দা স্থলবন্দর দিয়ে। অথচ হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ফল আমদানি পুরোটাই বন্ধ রয়েছে।
ব্যসায়ীদের মধ্যে আরও অনেকে বলেন, বুড়িমারি ও বাংলাবান্দা স্থলবন্দর দিয়ে মৌসুমি ফল ব্যবসায়ীরা পাচ্ছেন নানা সুযোগ সুবিধা। এখানে পাচ্ছেন নির্দিষ্ট মাপের ওভার বানিজ্য। জমে উঠেছে সিন্ডিকেটে কাঁচা ফল আমদানি বানিজ্য।
তারা আরও বলেন, সিন্ডিকেট ঠিক, তো সব ঠিক। আর ওই সিন্ডিকেটটি নিয়ন্ত্রন করছেন দু’জন রাজনৈতিক নেতা, একজন ক্লিয়ারিং এজেন্ট, কাষ্টমস সংশ্লিষ্ট নয় এমন একজন অসাধু কর্মকর্তা।
এ ব্যপারে হিলি স্থবন্দরের সহকারী কমিশনার মহিববুর রহমান ভুঞা জানান, যে সব পন্য এ বন্দর দিয়ে আসছে ঘোষনা অনুযায়ী আমরা তার শুল্কায়ন করছি। ব্যবসায়ীদের অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন, তারা মনগড়া অনেক কিছুই বলে থাকেন বলে তিনি জানান। এ বন্দর দিয়ে কাঁচা ফল আমদানি না হওয়ার ব্যপারে তিনি কিছুই জানেন না।
ঢাকা, ১১ সেপ্টেম্বর,টাইমনিউজবিডি.কম, এআর





