রাজধানীতে সপ্তাহের ব্যবধানে আদা, চাল, চিনি ও সবজির দাম বেড়েছে। শনিবার রাজধানীর খুচরা বাজারে চড়া দামে বিক্রি হয়েছে নিত্যপণ্যে। এদিকে আদার দাম বাড়ছেই অন্যদিকে কিছুতেই কমছে না চাল ও চিনির দাম। বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের চাল। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
[b]
বছর ব্যবধানে আদার দাম বেড়েছে তিন গুণ[/b]: অস্থির হয়ে উঠছে দেশের আদার বাজার। সম্প্রতি কয়েক দফায় পণ্যটির দাম ওঠানামা করেছে। তবে দাম ওঠানামা করায় দেশি আদার তুলনায় এগিয়ে আছে চায়না আদা। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য মতে, চলতি বছর ১৪ মার্চ রকমভেদে আদার দাম ছিল ১২০ টাকা থেকে ১৮০ টাকা। ১৪ এপ্রিল ২০১৪ এর দাম ছিল ১৭০ টাকা থেকে ২৪০ টাকা।
শনিবার খুচরা বাজারে চায়না আদা ২৬০ টাকা কেজি দরে এবং অন্য আদা ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। পাইকারি বাজারে চায়না আদা ২৩০ টাকা এবং অন্য আদা ১৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
তবে আদার দাম নিয়ে ধাঁধা লাগার তথ্যটি হচ্ছে পণ্যটির দাম এক বছরের ব্যবধানে তিন থেকে চারগুণ বেড়েছে। এক বছর আগে খুচরা বাজারে পণ্যটির দাম ছিল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা।
[b]দাম বেড়েছে চাল চিনির:[/b] রাজধানীর বাজারে খুচরা পর্যায়ে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে দুই থেকে চার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এ ছাড়া রমজান মাস আসার আগেই পেঁয়াজ, আলু, চিনি, ডালসহ কয়েকটি নিত্যপণ্যের দামও বেড়েছে। এতে সীমিত ও নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর চাপ বেড়েছে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজান মাস সামনে রেখে দোকানিরা দাম বাড়িয়েছেন। বিক্রেতারা অজুহাত দেখাচ্ছেন পরিবহনব্যয় ও পাইকারি পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধিকে। তবে মাছ ও শাকসবজির দাম প্রায় স্থিতিশীল রয়েছে।
দুই সপ্তাহ ধরে খুচরা পর্যায়ে হঠাৎ করে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে দুই থেকে চার টাকা বেড়েছে। নাজিরশাইল চালের দাম মানভেদে প্রতি কেজি ৪৭ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেজিতে দাম বেড়েছে চার টাকা পর্যন্ত। মিনিকেটের দামও বেড়েছে একই হারে। মানভেদে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৪৮ টাকায়।
কেজিতে তিন টাকা বেড়ে পাইজাম চালের দাম মানভেদে ৩৬ থেকে ৪০ টাকা। ব্রি-২৮ বা মোটা চালের দামও কেজিতে বেড়েছে দু-তিন টাকা।
পাশাপাশি প্রতি কেজি চিনিতে বেড়েছে ২ থেকে ৩ টাকা। বিক্রেতারা বলছেন, চাল ও চিনির দাম কমার কোনো লক্ষণ আপাতত নেই। আসন্ন রমজানে মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে। এ ছাড়া ৪৮ টাকার প্রতি কেজি চিনি গতকাল বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকায়।
[b]দাম বেড়েছে যেসব পণ্যের:[/b] রমজান মাস আসার আগেই আলুর দাম কেজিতে তিন টাকা বেড়ে হয়েছে ১৮ টাকা। চার থেকে পাঁচ টাকা বেড়ে এক কেজি চিনির দাম এখন ৬৪-৬৫ টাকা। এক সপ্তাহ আগেও ৩২ থেকে ৩৫ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া দেশি পেঁয়াজের দাম গতকাল ছিল ৩৯ থেকে ৪২ টাকা। আমদানি করা পেঁয়াজের দাম ৩৫ টাকা। আগে ছিল ২৮ টাকা।
ভালো মানের মসুর ডালের দাম কেজিতে তিন থেকে পাঁচ টাকা বেড়ে ১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ মানের মসুর ডাল ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি।
সব ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত গুঁড়া দুধের দাম বেড়েছে ১০ টাকা করে। ৪০০ গ্রামের ডানো ২৫০ টাকা, মার্কস ও ফ্রেশ ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিপ্লোমার ৫০০ গ্রাম ওজনের প্যাকেটজাত দুধ ৩০৫ টাকা। তবে বোতলজাত তেলের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় মাছের দাম কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। গরু ও খাসির মাংসের দাম আগের মতোই।
[b]শাকসবজি:[/b] গ্রীষ্মকালীন তরকারি পটল এখনও বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫২টাকায়। চাহিদা কম থাকায় বৈশাখের ইলিশ নেমে এসেছে তার স্বাভাবিক দরে। গত চার দিনে দাম প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে জানান বিক্রেতারা। তবে তরকারীর দাম কমতে আরো কিছু দিন সময় লাগবে বলে জানান তারা।
কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঝিঙ্গা ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০ টাকা,আলু ১৫ টাকা, পেঁপে ২৫ টাকা, বরবটি ৫০ টাকা,বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ ২৮ থেকে ৩০ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ২৮ টাকা থেকে ৩০,দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া ৮০০ গ্রাম থেকে ১ ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৫শ থেকে ২ হাজার টাকা দরে। দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৫০ টাকা,বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে কোনোভাবেই লাগাম টানা যাচ্ছে না মূল্যস্ফীতির। বিভিন্ন উদ্যোগের পরও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ব্যর্থ। নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ায় চলতি এপ্রিল মাসেও মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত ১৬ বছরের ইতিহাসে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ স্তরে পেঁৗছেছে। গত মার্চ মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্টে এ হার দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৯৬ শতাংশে। ফেব্রুয়ারি মাসে এ হার ছিল ১৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
১ মাসের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে শূন্য দশমিক ৩৯ শতাংশ। অপরদিকে ফেব্রুয়ারি মাসের মতো মার্চ মাসেও দেশের গড় মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে। মার্চ মাসে সাধারণ মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ১০ শতাংশে, যা ফেব্রুয়ারি মাসে ছিল ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশ। ১ মাসের ব্যবধানে কমেছে শূই্য দশমিক ৩৩ শতাংশ।
খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে চলছে। চলতি অর্থবছরের মার্চ মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্টে এ হার দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৯৬ শতাংশে, যা ফেব্রুয়ারি মাসে ছিল ১৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ। ১ মাসের ব্যবধানে দেশে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়েছে শূন্য দশমিক ৩৯ শতাংশ। অন্যদিকে জানুয়ারি মাসে এ হার ছিল ১৩ দশমিক ১৬ শতাংশ। গ্রামে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি বাড়লেও কমেছে শহরে।
বিবিএসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমান দেশে সাধারণ মূল্যস্ফীতি হচ্ছে ১০ দশমিক ১০ শতাংশে। ফেব্রুয়ারি মাসে ছিল ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশ। ১ মাসের ব্যবধানে কমেছে শূন্য দশমিক ৩৩ শতাংশ। জানুয়ারি মাসে এ মূল্যস্ফীতি ছিল ১১ দশমিক ৫৯ শতাংশ।
মার্চ মাসে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ২৮ শতাংশে। ফেব্রুয়ারি মাসে এই হার ছিল ৮ দশমিক ৯২ শতাংশ। ১ মাসের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি কমেছে শূন্য দশমিক ৬৪ শতাংশ। ২০১১ সালের জানুয়ারি মাসে এ হার ছিল ১০ দশমিক ৯০ শতাংশ। এরই বিবিএসের তথ্যমতে, মার্চ মাসে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৯৬ শতাংশে। ফেব্রুয়ারি মাসে এটি ছিল ১৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ। সে তুলনায় ১ মাসের ব্যবধানে বেড়েছে শূন্য দশমিক ৩৯ শতাংশ। জানুয়ারি মাসে এ হার ছিল ১৩ দশমিক ১৬ শতাংশ। সেই হিসাবে বেড়েছে শূন্য দশমিক ৮০ শতাংশ।
[b]ঢাকা, ১৯ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]
অর্থনীতি
অস্থির আদা, চাল, চিনি, সবজির বাজার
রাজধানীতে সপ্তাহের ব্যবধানে আদা, চাল, চিনি ও সবজির দাম বেড়েছে। শনিবার রাজধানীর খুচরা বাজারে চড়া দামে বিক্রি হয়েছে নিত্যপণ্যে। এদিকে আদার দাম বাড়ছেই অন্যদিকে কিছুতেই কমছে না চাল ও চিনির দাম। বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের চাল। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।





