গাজীপুর সিটি করপোরেশনের আমবাগ এলাকায় অবস্থিত তৈরি পোশাক কারখানা ‘হানিউল গার্মেন্ট লিমিটেড’ কার্যত গত তিনমাস ধরে বন্ধ রয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, এ কারখানার পিএম জিল্লুর রহমান, ফ্লোর ইনচার্জ আলমগীর হোসেন, স্টোর ইনচার্জ শওকত উল্লাহ, ম্যাকানিক সেক্টরের রহমান মিয়া ও জাহাঙ্গীরসহ কিছু নামদারি ‘শ্রমিক নেতা’ একত্র হয়ে পোশাক কারখানাটি বন্ধের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।
ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তারা বহিরাগত কিছু লোক নিয়ে বেশ কয়েকবার কারখানার সামনে হট্টগোলের মাধ্যমে কারখানায় অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে এবং কাজ বন্ধ করতে সাধারণ শ্রমিকদের বাধ্য করে। জুন, জুলাই ও আগস্ট এ তিনমাস শ্রমিকদের কাছ থেকে দৈনিক হাজিরা খাতায় সাক্ষর নিয়ে তাদের কাজ থেকে বিরত রাখেন পিএম জিল্লুর, আলমগীর,শওকত, রহমান ও জাহাঙ্গীর সিন্ডিগেট।
মালিক সূত্রে জানা গেছে, ‘হানিউল গার্মেন্ট লিমিটেড’-এর মালিক হাবিবুর রহমান (হাবিব বক্স) ২০১৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি মারা যান। এরপর বাবার গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানটির হাল ধরেন গার্মেন্ট ব্যবসায় ‘অনভিজ্ঞ’ ৩০ বছর বয়সি যুবক মশিউর রহমান জয়। মশিউর রহমানের ‘অনভিজ্ঞতার’ সুযোগ নিয়ে পিএম জিল্লুর রহমান তার কাছ থেকে বিভিন্ন সময় বড় অঙ্কের অর্থ বিল পাস করিয়ে নিতেন। এক সময়
হিসেব নেওয়া শুরু করেন মশিউর রহমান। এরপরই পিএম জিল্লুর রহমান কারখানার তরুণ মালিক মশিউরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় এবং জিল্লুরের ষড়যন্ত্রে ধাপে ধাপে হেরে শেষ পর্যন্ত্র বাবার গড়া প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ঘোষনা করেন মশিউর।
তিনি বলেন, ‘আমি আমার কারখানার শ্রমিকদের পক্ষে। আমি জানি, তাদের ঘামেই শক্তিশালী হচ্ছে আমাদের অর্থনীতি। আমি তাদের শ্রমের সঠিক মূল্যায়ন করতে চেয়েছি এবং করেছি। তাদের শতভাগ বেতন পরিশোধ করে কারখান বন্ধ ঘোষণা করি।’
হানিউল গার্মেন্টের অ্যাকাউন্টস থেকে জানা যায়, ‘‘এ কারখানার শ্রমিক সংখ্যা ৬৪২জন। ৪৫০ জনের শতভাগ বেতন, বোনাস ও বকেয়া পরিশোধ করা হয়েছে। ১৫০ জনের বেতনের ৬০ ভাগ এবং ৪২ জনের পূর্ণ বেতনের ৫০ ভাগ পরিশোধ হয়েছে।’’
মশিউর রহমান আরো বলেন, ‘‘গত তিনমাস নামমাত্র কারখানা খোলা রেখে শ্রমিকদের কাজ থেকে বিরত রেখে উৎপাদন বন্ধ রাখেন ‘জিল্লুর, আলমগীর,শওকত, রহমান ও জাহাঙ্গীর সিন্ডিগেট’। ফলে সঠিক সময়ে পন্য রপ্তানি করতে কারখানা ব্যর্থ হয়। একইসঙ্গে এ সিন্ডিগেট কারখানার গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার সুবাদে বিদেশ থেকে ব্যাংকে আসা কারখানার টাকা ষড়যন্তর্মলকভাবে আটকে দেয়- যেন আমি শ্রমিকদের বেতন পরিশোধে ব্যর্থ হই।"
"অপরদিকে, তারাই শ্রমিকদের কারখানার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়। গত ঈদে সুপারশপ স্বপ্নের জন্য তৈরি হওয়া প্রায় ১৫ হাজার পিস পাঞ্জাবিসহ লাখ লাখ টাকার পোশাক ও মেশিনারিজ চুরি অথবা সরিয়ে নেয় তারা। তবে, এর সঙ্গে সাধারণ শ্রমিকদের দোষারোপ করছি না। কারখানায় ৬৪২ জন শ্রমিক কাজ করে। কিন্তু আন্দোলনের নামে যা হয়ে সেটা বহিরাগত ৩০/৪০ লোককে দিয়ে করা হয়েছে।"
বিজিএমইএ সূত্রে জানা যায়, ‘‘হানিউল গার্মেন্টের ২৫ জন শ্রমিককে ঢাকার হাতিরঝিলে অবস্থিত বিজিএমইএ-এর কার্যালয়ে এক সাধারণ বৈঠকে ডাকা হয়। ওই বৈঠকে উপস্থিত ২৫ জন শ্রমিকের কাছে বিজিএমইএ জানতে চায়, তাদের কারোর বেতন আটকে আছে কিনা। ওই সময় উপস্থিত শ্রমিকেরা কেউ বেতক আটকে থাকার ব্যাপারটি বিজিএমইএ-কে জানায়নি।’’
তিনি বলেন, ‘‘বাবা মারা যাবার পর আমি কারখানার হাল ধরতে এসে সবার সাহায্য চেয়েছি। কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের সামনে গিয়ে বারবার বলেছি, আমি মালিক হয়ে নয়, আপনাদের ভাই হিসেবে সবার সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে চাই এবং আপনাদের সুখে-দুখে পাশে থাকতে চাই। সাধারণ শ্রমিকরা আমাকে আশ্রস্থ করেছেন ও কাজও করেছেন, আমি তাদের তেমন দোষারোপ করতে চাই না।
আমাদের দেশের পোশাক শ্রমিকরা দরিদ্র ও সরল প্রকৃতির। তাদেরকে অনেকে অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেন। যেমন ব্যবহার করেছেন আমার প্রতিষ্ঠানের পদস্থ কিছু লোক। তাদের ষড়যন্ত্রে শিকার হয়ে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছি।’’
ইআর





