তিন বছরের কারাদণ্ডের সঙ্গে এক লাখ টাকার জরিমানার বিধান রেখে ‘পাট আইন ২০১৬’-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সেই সাথে প্রধানমন্ত্রী এও ঘোষণা দেন যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন সচিবদের সমান করতে হলে তাদেরও সচিবদের মতো দায়িত্ব পালন করতে হবে।
সচিবালয়ে সোমবার মন্ত্রীসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করেন।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম জানান, ‘পাট অধ্যাদেশ ১৯৬২ সালে জারি করা হয়। সর্বোচ্চ আদালতের রায় ও মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দু্টি সামরিক শাসনামলের জারিকৃত প্রয়োজনীয় অধ্যাদেশ বাংলায় অনুবাদ করে আইনে পরিণত করতে এ আইন উপস্থাপন করেছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়।’
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন সচিবদের সমান করতে হলে তাদেরও সচিবদের মতো দায়িত্ব পালন করতে হবে। যদি তাদের চাকরির মেয়াদ ৫৯ বছর করতে হয় তবে সচিবদের মতো তাদেরও ৯ টা-৫টা অফিস করতে হবে। এছাড়া তারা অন্য কোথাও পার্টটাইম চাকরি করতে পারবেন না।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এ প্রসঙ্গ উত্থাপন করলে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে ড. আনিসুজ্জামানের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এই শিক্ষকের সঙ্গে কি কোনো সচিবের তুলনা চলে? কাজেই শিক্ষকদের বলুন তারা সচিব হতে চান, নাকি নিজেদের স্বকীয় মর্যাদা চান? যদি তারা সচিবদের মতো বেতন চান তাহলে সচিবদের মতো তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।
পাট মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, পাট অধ্যাদেশ ১৯৬৩, ১৯৭৪ এবং ১৯৮৩ সালে সংশোধন করা হয়।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘নতুন আইনটি করতে যতদূর সম্ভব আগের আইনটিকে অনুসরণ করা হয়েছে।’
‘আইনে ৩২টি ধারা রয়েছে’ জানিয়ে শফিউল আলম বলেন, ‘এর মধ্যে পাট ও পাটজাত পণ্য উৎপাদন, গবেষণা ও উদ্ধুদ্ধকরণে সরকারের ক্ষমতা, পাট ও পাটজাত পণ্যের ব্যবসায়ে সরকারের ক্ষমতা, লাইসেন্স প্রদান, মূল্য নির্ধারণ, উন্নয়ন ফি আরোপ, উন্নয়ন তহবিল গঠন, চুক্তি নিবন্ধন, পাটখাড়ি হতে পণ্য উৎপাদন ও বিক্রয়, নিষিদ্ধকরণ ক্ষমতা, বিক্রয় নির্দেশনা প্রদান ক্ষমতা, তথ্যাদি তলবের ক্ষমতা, হিসাব বহির্ভুত মজুদ আটক করার ক্ষমতা, মিথ্যা বিবৃতি বা আইন লঙ্ঘনের দণ্ড, দায়মুক্তি ও জরিমানা ইত্যাদি।’
দণ্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এ আইন লঙ্ঘণে সর্বোচ্চ শাস্তি তিন বছরের কারাদণ্ড বা ১ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড।
তিন বছরের কারাদণ্ডের কথা অধ্যাদেশেই রয়েছে। জরিমানার কথাও ছিল তবে তার সীমা নির্দিষ্ট করা ছিল না।
প্রস্তাবিত আইনে জরিমানা ২৫ হাজার টাকা ছিল। এ অর্থ খুবই অপ্রতুল জানিয়ে মন্ত্রিসভা তা ১ লাখ করার জন্য বলেছে।’
এর আগে গত বছরের ২২ জুন পাট আইন নীতিগত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। তখন জানানো হয়েছিল, আইনে নতুন সংযোজন হিসেবে ‘পাটখড়ি’র কথা বলা হয়েছে। পাটখড়ি থেকে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য উৎপাদিত পণ্য ক্রয় বিক্রয়ে তথ্য সংগ্রহ ও নিয়ন্ত্রনের বিধান রাখা হয়েছে।
আরও জানানো হয়েছিল, পাটখড়ি কেউ ঘরে ব্যববহার করলে তা আইনের আওতায় আসবে না। তবে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করলে, তবে সেই ব্যবসা সরকার রেগুলেট করতে পারবে। এ বিষয়ে রিসার্চ ও তথ্য সংগ্রহও করতে পারবে।’
এমকে/এআই
অর্থনীতি
জরিমানার বিধান রেখে পাট আইন অনুমোদন
তিন বছরের কারাদণ্ডের সঙ্গে এক লাখ টাকার জরিমানার বিধান রেখে ‘পাট আইন ২০১৬’-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।





