শেয়ারবাজার ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের আর্থিক ক্ষতি পোষাতে সরকারের বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন ঋণ সহায়তার তহবিল থেকে দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ ছাড়ের আবেদন জানিয়েছে তদারক কমিটি।

জানা গেছে, গত ২৬ জুন ওই তহবিলের দ্বিতীয় কিস্তি হিসেবে আরো ৩০০ কোটি টাকা ছাড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চিঠি দেয়া হয়। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

পুনঃঅর্থায়ন ঋণ সহায়তার তহবিল থেকে প্রথম কিস্তির ৩০০ কোটি টাকার মধ্যে ২৯৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। বিভিন্ন মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসের প্রায় ১১ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীর অনুকূলে ওই অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। জানা গেছে, পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে গত ১২ জুন পর্যন্ত মোট ৪২টি প্রতিষ্ঠান ৪৭৯ কোটি ২৬ লাখ টাকা বরাদ্দের আবেদন জানায়।

এর মধ্যে ২০টি মার্চেন্ট ব্যাংক ও ২২টি ব্রোকারেজ হাউস রয়েছে, যাদের ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ১৬ হাজার ৩২২। এ সময়ের মধ্যে মোট ৩২টি প্রতিষ্ঠানের ৩৫৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকার ঋণ আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে এরই মধ্যে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, ঋণ সুবিধা পাওয়া ১৩টি প্রতিষ্ঠানে মোট ৯ হাজার ৬ জন ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারী রয়েছেন, যাদের ২৩৯ কোটি ৫০ লাখ টাকার ঋণ সুবিধা পেয়েছেন। এর মধ্যে ৯টি মার্চেন্ট ব্যাংকের ৬ হাজার ৭২৫ জন ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারী পেয়েছেন ১৮৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। আর ৪টি ব্রোকারেজ হাউসের ২ হাজার ২৮১ জন ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারী পেয়েছেন ৫৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।

প্রসঙ্গত, সরকারি ঘোষণার প্রায় দুই বছর পর ৯০০ কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠনের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর অংশ হিসেবে গত বছর ২৭ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের প্রথম কিস্তি বাবদ ৩০০ কোটি টাকা দেয় আইসিবিকে। শর্ত ছিল প্রথম কিস্তির ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় হলে পরে সমান দুই কিস্তিতে বাকি ৬০০ কোটি টাকা ছাড় করা হবে।

কিন্ত ঋণের কঠিন শর্তের কারণে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকার ডিলার প্রতিষ্ঠানগুলো ওই তহবিল থেকে ঋণ নিতে আগ্রহী ছিল না। এ অবস্থায় সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় ঋণের শর্ত শিথিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। একই সঙ্গে পুনঃঅর্থায়নের তহবিল থেকে অর্থ পেতে সপ্তমবারের মতো আবেদনের সময় বাড়িয়ে ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়।

২০১০ সালের শেয়ারবাজার ধসের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ২০১১ সালের ২৩ নভেম্বর ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সহায়তায় বিশেষ স্কিমের ঘোষণা দেয়। ওই স্কিমের আওতায় তাদের এক বছরের মার্জিন ঋণের ৫০ শতাংশ মওকুফ এবং বাকি সুদসহ সমুদয় ঋণ ৩ বছরে সমান ১২ কিস্তিতে প্রদানের সুবিধা দেয়ার কথা বলা হয়।

এছাড়া আইপিওতে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ কোটা সুবিধা প্রদান করা হয়। ঋণ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিনিয়োগ সংস্থা আইসিবি। আইসিবিকে পুনঃঅর্থায়ন তহবিল তিন বছর মেয়াদে ২০১৬ সালে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ফেরত দেয়ার কথা বলা হয়েছে।

 ঢাকা, ১ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর