জাতীয় অর্থনীতিতে শিল্পখাতের অবদান ২৮ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে জাতীয় শিল্পনীতি-২০১৫ এর প্রাথমিক খসড়া ইতোমধ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয় গঠিত তিনটি উপকমিটির প্রতিবেদন সমন্বয় করে এ খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট স্টেক হোল্ডারদের সাথে আলোচনা করে শীঘ্রই শিল্পনীতির চূড়ান্ত খসড়া প্রণয়ন করা হবে।

দেশব্যাপী পরিকল্পিত শিল্পায়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে গঠিত জাতীয় শিল্প উন্নয়ন পরিষদের (এনসিআইডি) সভায় গৃহিত সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য শিল্পমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় শিল্প উন্নয়ন পরিষদের নির্বাহি কমিটি (ইসিএনসিআইডি) এর ২য় সভায় রোববার এ কথা জানানো হয়। শিল্প মন্ত্রণালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতের উন্নয়নে এসএমই ফাউন্ডেশন প্রণীত কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়। এসময় জানানো হয়, আগামী তিন বছরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১শ’টি এসএমই শিল্প ক্লাস্টার গড়ে তোলা হবে এবং এ সব ক্লাস্টারকে এসএমই ঋণ সহায়তার আওতায় আনা হবে। রপ্তানি দক্ষতা বাড়াতে ১শ’ জন এসএমই উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে বলে সভায় তথ্য প্রকাশ করা হয়।

সভায় শিল্প স্থাপনে যৌক্তিকভাবে জমির ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় শিল্প-কারখানা স্থাপনে জমি নির্ধারণের জন্য শিল্প, ভূমি, কৃষি, বন ও পরিবেশ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। একই সাথে ইতোমধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয় হতে ২১টি জেলায় সম্পন্ন করা ল্যান্ড জোনিং রিপোর্ট এর আলোকে জেলাগুলোতে শিল্পায়নের ব্যাপক পরিকল্পনা নেয়া হবে বলে জানানো হয়।

সভায় দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতে এসএমই ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম মূল্যায়নের জন্য আইএমইডি’র নেতৃত্বে একটি রিভিউ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ কমিটি এসএমই ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম মূল্যায়নের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকসহ এসএমইখাতের উন্নয়নে কর্মরত সকল প্রতিষ্ঠানের কাজের মধ্যে সমন্বয় সাধনের বিষয়ে সুপারিশ পেশ করবে বলে জানানো হয়।

সভায় শিল্পমন্ত্রী বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চালিকা শক্তি। এ খাতের টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের ও ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। তিনি এসএমই খাতের কার্যকর প্রসারে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করতে এসএমই ফাউন্ডেশনসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি অল্প জমিতে পরিকল্পিতভাবে শিল্প কারখানা গড়ে তুলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।

সভায় শিল্পসচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ্, কৃষি সচিব ড. এস.এম. নাজমুল ইসলাম, তথ্য প্রযুক্তি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদারসহ শিল্প, বস্ত্র ও পাট, মৎস ও প্রাণিসম্পদ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন, পরিবেশ ও বন, ভূমি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, বিসিক, বিনিয়োগ বোর্ড, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংক, এসএমই ফাউন্ডেশন, পরিকল্পনা কমিশন, এমসিসিআই ও চট্টগ্রাম চেম্বারসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এসএমআর