পুঁজিবাজারে কারসজি রুখতে ও এর শক্তিশালী ভিত গঠনে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) চালু করেছে নতুন ইনস্ট্যান্ট ওয়াচ মার্কেট সার্ভিল্যান্স সফটওয়্যার।
এর মাধ্যমে অস্বাভাবিক লেনদেন ক্ষতিয়ে দেখা, সক্ষমতা বাড়ানোসহ বাজারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা। আজ মঙ্গলবার ডিএসই কার্যালয়ে সফটওয়্যারটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেণ পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি’র চেয়ারম্যান এম খায়রুল হোসেন।
নতুন এ সফটওয়্যার উদ্বোধন করে বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে সাম্প্রতিককালে ডিএসইতে যে বিষয়গুলো সংযোজন হয়েছে তা ভবিষ্যতে ইতিবাচক ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। বাজারে কী ধরনের অনিয়ম হয় তা আমরা সার্ভিল্যান্স সফটওয়্যারের মাধ্যমে বুঝতে পারি।
যদি কোনো ব্রোকারেজ হাউজে অস্বাভাবিক লেনদেন হয় তবে সফটওয়্যারে তাৎক্ষণিক সিগন্যালের মাধ্যমে তা বোঝাতে পারি। এমনকি কোনো কোম্পানির মূল্য সংবেদশীল তথ্য নিয়ে কোনো কারসাজি হচ্ছে কি না সেটিও বোঝা যায়।
বিএসইসি এ পর্যন্ত ৪৪ ধরনের ম্যানিপুলেশন শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। এখন থেকে ডিএসই নতুন এ সফটওয়্যারের মাধ্যমে কোনো কারসাজি হলে তা সহজেই বুঝতে পারবে।
ডিএসই’র প্রেসিডেন্ট আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, ইনসট্যান্ট মার্কেট ওয়াচ সার্ভিল্যান্স সফটওয়্যার সংযোজনের ফলে পুঁজিবাজারের স্বচ্ছতা বাড়বে। এখন থেকে ট্রিগার বাই (আগ্রাসী ক্রয়) হবে না। আর ট্রিগার হলেও পরবর্তী ম্যানুয়াল কি হবে তা নির্ধারণ সহজ হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা যখন দায়িত্ব নিয়েছি তখন বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা ছিল। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার আগের দৈনিক গড় লেনদেন ছিল সাড়ে তিনশ কোটি টাকার ঘরে। আর এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচশ কোটি টাকার ঘরে।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের নভেম্বর থেকে সফটওয়্যারটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করে ডিএসই। এটি বিএসইসি’র সার্ভিল্যান্স সফটওয়্যারের মতোই অত্যাধুনিক। এই সফটওয়্যার অস্বাভাবিক লেনদেন সনাক্ত করতে সক্ষম। সুইডেনের ট্রাপেটস এবি নামক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সফটওয়্যারটি নেওয়া হয়েছে।
এ সময় বিএসইসি’র চার কমিশনার, ডিএসই’র প্রেসিডেন্ট আহসানুল ইসলাম টিটু, পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ এবং ডিএসই’র সাবেক প্রেসিডেন্ট রকিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
[b]ঢাকা, ১১ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]