রাজশাহীর তানোরে সোনালী ব্যাংক থেকে এক কোটি ১৮ হাজার টাকা আত্মসাতের ঘটনার মূলহোতা নাজির হোসেনসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

টাকা আত্মসাতের ওই ঘটনায় ব্যাংকটির ২০১২-১৩ অর্থবছরের রাজশাহী শাখার মহাব্যবস্থাপক, উপ-মহাব্যবস্থাপক, তানোর শাখার সিনিয়র অফিসারসহ তিন অডিট টিমের কর্মকর্তারাও জড়িত— র‌্যাবের কাছে এমন স্বীকারোক্তি দিয়েছেন গ্রেফতার নাজির।

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে র‌্যাব-৫ এর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলেনে অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহাবুব আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

র‌্যাবের বক্তব্য অনুযায়ী, নাজির হোসেন দাবি করেন, সোনালী ব্যাংক তানোর শাখার অভ্যন্তরীণ হিসেব থেকে লভ্যাংশের মোট এক কোটি ১৮ হাজার টাকা সরিয়েছেন।

তানোর শাখায় একটি একাউন্ট খুলে টাকাগুলো তিনি প্রথমে ট্রান্সফার করেন। এরপর সেগুলো পর্যায়ক্রমে তার স্ত্রী ও বাবার একাউন্টের মাধ্যমে উত্তোলন করেন।

তবে টাকা সরানোর বিষয়টি জেনে যাওয়ায় সোনালী ব্যাংক রাজশাহীর শাখার তৎকালীন মহাব্যবস্থাপককে ১৫ লাখ, উপ-মহাব্যবস্থাপককে ১০ লাখ, তিন অডিট দলকে পাঁচ লাখ এবং ওই শাখার সিনিয়র অফিসার হাসান মোহাম্মদ খালিদুলকেও কয়েক লাখ টাকা দিয়েছেন।

এর আগে, মঙ্গলবার রাতে নাজির হোসেন সোহেলসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। গ্রেফতার অপর দু’জন হলেন নগরীর দরিখরবোনা এলাকার মৃত কফিল উদ্দিনের ছেলে এস এম মাসুদ হাসান এবং নজির হোসেনের স্ত্রী সালমা জাহান লিমা।

সংবাদ সম্মেলেনে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহাবুব আলম আরও জানান, ২২ জুন নজির হোসেনকে অপহরণ করা হয়েছে— এমন অভিযোগ দেয় তার ভাই জুবায়েদ হোসেন জুয়েল।

এরপর থেকে নাজিরকে উদ্ধারে মাঠে নামে র‌্যাব সদস্যরা। এই অভিযোগের ভিত্তিতে র‌্যাব নাজিরকে উদ্ধার করতে গিয়ে গ্রেফতার হন মাসুদসহ নজিরের স্ত্রী সালমা। এরপর ব্যাংক থেকে টাকা আত্মসাতের মামলায় নাজিরকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

তিনি জানান, নাজির টাকাগুলো আত্মসাত করে এস এম মাসুদের সহযোগিতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে প্রায় তিনশ বিঘা জমি লিজ নিয়ে ধানসহ ফলের বাগান গড়ে তোলেন।

এ ছাড়া দুটি ট্রাক ও একটি মাইক্রোবাস কেনেন তিনি। এসব আত্মসাতের জন্যই নাজিরকে অপরহণ করে রেখেছিলেন মাসুদ।

তিনি আরও জানান, গ্রেফতার নাজির সোনালী ব্যাংক তানোর শাখার আইটি এক্সপার্ট হিসেবে কাজ করার সুবাদে এক কোটি ১৮ লাখ টাকা আত্মসাত করেন।

তার সঙ্গে আর যারা জড়িত তাদের সকলের নাম সে র‌্যাবের কাছে স্বীকার করেছে। তবে বিষয়টি যেহেতু দুদক তদন্ত করছে, সেহেতু তাদের নাম জানানো হয়নি।

উল্লেখ্য, রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক লিমিটেড রাজশাহীর তানোর শাখা থেকে এক কোটি ১৮ হাজার টাকা লোপাটের ঘটনা ঘটে। ওই শাখার তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক কর্মকর্তা নাজির হোসেন সোহেল ওই টাকা আত্মসাত করেন।

ওই ঘটনায় জড়িত থাকায় তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। ২৪ মে থেকে ব্যাংকের অভ্যান্তরীণ তদন্তে ওই টাকা আত্মসাতের ঘটনা জানাজানি হওয়ার পরে নাজির আত্মগোপনে চলে যান।

২৪ জুলাই তানোর শাখার ব্যবস্থাপক জিল্লুর রহমান বাদী হয়ে নাজির হোসেনসহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। যা তদন্তের জন্য দুদকে স্থানান্তর করা হয়।

এমকে