জিএসপি সুবিধা ফিরে পেতে ইপিজেড এ ট্রেড ইউনিয়ন চালুসহ অবশিষ্ট তিনটি শর্তও পূরণ করা বিষয়ে মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেধে দেওয়া ১৬ শর্তের ১৩টি পূরণ করা হয়েছে। বাকি ৩টি শর্ত আগামী মে মাসের মধ্যে পূরণ করা সম্ভব হবে।
সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব জানান বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।  
জিএসপি সুবিধা পেতে বাংলাদেশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৬টি শর্ত জুড়ে দিয়েছিল।
বিষয়টি নিয়ে ১২ জানুয়ারি সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকে শর্ত পূরণের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এই ১৬ শর্তের ১৩টি পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাকি ৩টি পূরণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী মে মাসের মধ্যে এই শর্ত পূরণ হবে।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, বাকি ৩টি শর্তের মধ্যে একটি হলো ইপিজেড’এ ট্রেড ইউনিয়ন করার সুযোগ প্রদান । তিনি বলেন, ইপিজেড স্থাপনের সময় বিদেশি বিনিয়োগের স্বার্থে এখানে ট্রেড ইউনিয়নের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না বলে ইপিজেড আইনে উল্লেখ করা হয়েছিল। ট্রেড ইউনিয়নের ব্যাপারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এখনো এক ধরনের অনীহা রয়েছে।
অন্যদিকে আমাদের শ্রম আইনে ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার রয়েছে এবং ইপিজেডের বাইরে অন্য সব স্থানে ইতোমধ্যেই এটা প্রয়োগ করা হয়েছে। এমতাবস্থায় আমরা যদি শ্রম আইনটা সব জায়গায় প্রয়োগ করি এবং শ্রমিকের স্বার্থ রক্ষা করতে পারি তাহলে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।
দ্বিতীয় শর্ত বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গার্মেন্ট শিল্প পরিদর্শনে ২০০ জন পরিদর্শক নিয়োগের বিষয় নিয়ে সোমবার মন্ত্রিসভায়ও আলোচনা হয়েছে। এ পরিদর্শক নিয়োগ পিএসসির মাধ্যমে করতে হলে দু’বছর সময় লাগবে। এ কারণে প্রধানমন্ত্রীর প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে শিগগিরই ২০০ পরিদর্শক নিয়োগ দেওয়া হবে।
তৃতীয় শর্তের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯টি পোশাক কারখানায় শ্রমিক নির্যাতনের যে বিষয়টি বলা হয়েছে এটার তদন্তে আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। এ বিষয়ে ১৯টি পোশাক কারখানার মালিকদের ডেকে সাবধান করা হয়েছে। একইসঙ্গে এর পুর্নাবৃত্তি যেন না হয় সে ব্যাপারে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
১৯টি কারখানায় শ্রমিক নির্যাতন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা তদন্ত করা হবে এবং বিজিএমইএ সভাপতিসহ এসব কারখানার মালিকদের ডেকে আনা হবে ও তাদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে। আমরা চাই কোনো কল-কারখানায় যাতে অ্যাবিউজ না হয়।
[b]ঢাকা, ১০ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]