রাজধানীতে জমে উঠেছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের আওতাধীন কোরবানির পশুর হাট। ঈদ সামনে রেখে হাটগুলোতে পশুর ব্যাপক সমাগম ঘটেছে। এসব হাটে প্রতিদিন গড়ে সহস্রাধিক ট্রাক গরু-মহিষ নিয়ে আসছে। এছাড়াও, খোলা ভ্যানে আনা হচ্ছে ছাগল-ভেড়া। হাটগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতিও বেড়েছে। তবে বিক্রেতারা পশুর মূল্য অনেক বেশি বাড়িয়ে দিচ্ছেন বলে ক্রেতাদের অভিযোগ রয়েছে। চলছে ক্রেতা-বিক্রেতার দর কষাকষি। এতসবের মধ্যেও বিক্রি হচ্ছে বেশ।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের সিডিউল অনুযায়ী ৩ অক্টোবর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোরবানির পশুর হাট শুরু হওয়ার কথা। সে হিসেবে আজ শুক্রবার বেচা-বিক্রির প্রথম দিন। এরই মধ্যে ১৮টি হাটে গরু, ছাগল মহিষ ছাড়াও ভেড়া এবং উট আনা হয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন এলাকায় এবার যে ১০টি কোরবানির পশুর হাট বসেছে সেগুলো হলো- ঝিগাতলা হাজারীবাগ মাঠ, রহমতগঞ্জ খেলার মাঠ, নারিন্দায় সাদেক হোসেন খোকা মাঠ, গোলাপবাগ মাঠের পাশে সিটি করপোরেশনের আদর্শ স্কুল মাঠ ও আশেপাশে ডিসিসির খালি জায়গা, আরমানিটোলা মাঠ, উত্তর শাজাহানপুর খিলগাঁও রেলগেট বাজার সংলগ্ন মৈত্রী সংঘের মাঠ, ধুপখোলা ইস্ট অ্যান্ড ক্লাব মাঠ, গোপীবাগে ব্রাদার্স ইউনিয়নের সংলগ্ন মাঠ, পোস্তগোলা শ্মশান সংলগ্ন খালি জায়গা, বাংলাদেশ মাঠ এবং কামরাঙ্গীরচর ইসলাম চেয়ারম্যানের বাড়ির মোড় থেকে দক্ষিণ দিকে বুড়িগঙ্গা নদীর বাঁধ সংলগ্ন জায়গা।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অধীনে বসেছে অস্থায়ী আটটি পশুর হাট। এগুলো হচ্ছে- আগারগাঁও, খিলক্ষেত, উত্তরা আজমপুর, সোনারগাঁও জনপথ, তেজগাঁও পলিটেকনিকের মাঠ, বারিধারা জে ব্লক, মিরপুর-৬ এবং বনানী রেলস্টেশন সংলগ্ন খালি জায়গা।

নগরীর এসব পশুর হাট ইতিমধ্যে জমে উঠেছে। এবারও নানা জাতের গরু হাটে তোলা হয়েছে। এর মধ্যে আছে ভারতের হরিয়ানা, নেপালি ভুট্টি, মিরকাদিমের সাদা গাই, দক্ষিণাঞ্চলের পালা মহিষ, পাকিস্তানের সিন্ধি ও দেশি গরু। গাবতলী হাটে এবার দেশি গরু এসেছে বেশি।

এবছর ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের আওতাধীন অস্থায়ী কোরবানির হাটগুলোর মধ্যে ১৮টি হাটের ইজারা দেয়া হয়েছে। তবে এসব পশুহাটের সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আরো কমপক্ষে ২০টি অবৈধ হাট বসানো হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন মোড়ে ও রাস্তার ধারেও কোরবানির পশু বিক্রি হতে দেখা গেছে।

রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিটি হাটেই বিভিন্ন ধরনের পশুর ব্যাপক সমাগম হয়েছে। অনেক হাটেই পশুর জায়গা সংকুলান না হওয়ায় হাটের নির্ধারিত স্থান অতিক্রম করে এর বাইরেও পশু বেচা-বিক্রি চলছে।  বিভিন্ন অলিগলিতেও অবস্থান নিয়েছেন পশু বিক্রেতারা। এসব পশুর মধ্যে গরু ও ছাগলের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি। তবে এর সঙ্গে ভেড়া এবং উটও যোগ হয়েছে। হাটে বিক্রিও জমে উঠেছে।

রাজধানীর একমাত্র স্থায়ী পশুহাট গাবতলীতে  দেখা গেছে, সারিবদ্ধ করে রাখা হয়েছে কোরবানির পশুগুলো। ক্রেতারাও হেঁটে হেঁটে তাদের পছন্দের পশুটি খোঁজার চেষ্টা করছেন। তবে দামের ব্যাপারে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ। তাদের অভিযোগ, বিক্রেতারা তাদের ইচ্ছেমতো দাম হাঁকাচ্ছেন।

রাজধানীর অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাটগুলো ঘুরে দেখা গেছে, হাটে অবস্থানরত পশুগুলোর মধ্যে দেশি গরুর সংখ্যাই বেশি। গরুর বিক্রেতারা জানান, গাবতলীসহ অন্য পশুরহাটগুলোতে এবার কুষ্টিয়া, খুলনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, মাগুরা, ঝিনাইদহ, যশোর ও সিরাজগঞ্জ অঞ্চল থেকে বেশি পশু আসছে। তবে ভারত, নেপাল ও ভুটান থেকেও কিছু গরু ও উট এসেছে। হাটে ছাগলের আগমনও যথেষ্ট।

হাটগুলোতে ৩০ থেকে ৫০ হাজারের মধ্যে বেশি গরু বিক্রি হচ্ছে। ৫০ থেকে একলাখ টাকার মধ্যেও পশু বিক্রি হচ্ছে। খাসি ছাগল ও ভেড়াও বিক্রি হচ্ছে যথেষ্ট। দাম চারহাজার টাকা থেকে ২৫ হাজার টাকার মধ্যে। তবে ছয়হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা দামের ছাগল বেশি বিক্রি হচ্ছে।

মরুর বাহন উটের দিকেও ক্রেতাদের নজর বেশি। দাম তিন থেকে সোয়া তিন লাখ টাকার মধ্যে। তবে এখনো উট বিক্রি জমে উঠেনি।

কুষ্টিয়া থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী আমীর হোসেন জানান, তারা আটজনে মিলে গাবতলী হাটে এবার ৬০টি গরু উঠিয়েছেন। শুক্রবার সকাল থেকে পশু বিক্রি শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৪টি গরু বিক্রি করেছেন। তবে ক্রেতাদের অবস্থান দেখে তিনি ধারণা করছেন- সন্ধ্যার মধ্যে অর্ধেক গরু বিক্রি হয়ে যাবে।

চাঁদপুর থেকে আসা ব্যবসায়ী রুহুল আমিন বলেন, ‘মোটা তাজা গরুর দিকেই ক্রেতাদের দৃষ্টি বেশি। তবে হরমোন খাওয়ানো পশুগুলোর ভয়ে আছেন তারা। এজন্য গরু কেনার সময় ক্রেতারা শর্ত জুড়ে দেন গরুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার।’

জেআই