কনসলিডেটেট (Consolidated) ভিত্তিতে পুঁজিবাজারে ব্যাংক-কোম্পানীর মোট বিনিয়োগের সীমা নির্ধারণ স্পষ্ট করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ সংক্রান্ত নীতি-মালা মঙ্গলবার বাংলাদেশে কার্যরত সকল তফসিলি ব্যাংকের প্রধানদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব অফ-সাইট সুপারভিশন থেকে জারিকৃত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে যে, ব্যাংক-কোম্পানী আইন, ১৯৯১ (২০১৩ পর্যন্ত সংশোধিত) এর ধারা ২৬ক এর উপধারা (১) মোতাবেক  ব্যাংক-কোম্পানী কর্তৃক অন্যান্য কোম্পানীর শেয়ার ধারণের ক্ষেত্রে সামষ্টিক বা এককভাবে কোন কোম্পানীর শেয়ার ধারণের সর্বোচ্চ সীমার বিষয়ে অধিকতর স্পষ্টীকরণের লক্ষ্যে ডিওএস সার্কুলার নং-০২/২০১৩ ইতোমধ্যে জারী করা হয়েছে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিকভাবে অনুসৃত সর্বোত্তম নীতিমালায় ব্যাংক-কোম্পানীর মূলধন পর্যাপ্ততাসহ সার্বিক ঝুঁকি পরিমাপ ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কনসলিডেটেট ভিত্তি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনুসৃত নীতিমালার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বাংলাদেশে কার্যরত তফসিলি ব্যাংকগুলোর পুঁজিবাজার কার্যক্রমে উদ্ভুত ঝুঁকি গ্রহণযোগ্য মাত্রায় রেখে মূলধন ভিত্তি সুদৃঢ় করার উদ্দেশ্যে পূর্বোক্ত সার্কুলারে বর্ণিত নির্দেশনার অতিরিক্ত অনুসরণীয় নির্দেশনাবলী জারী করা হলো।
বলা হয়েছে, পুঁজিবাজারে কোন ব্যাংক-কোম্পানীর কনসলিডেটেট (Consolidated)  ভিত্তিতে মোট বিনিয়োগের বাজারমূল্য সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীতে উল্লিখিত কনসলিডেটেট ভিত্তিতে আদায়কৃত মূলধন, শেয়ার প্রিমিয়াম হিসাবে রক্ষিত স্থিতি, সংবিধিবদ্ধ সঞ্চিতি ও রিটেইন্ড আর্নিংস এর মোট পরিমাণের ৫০% এর বেশী হবে না। কনসলিডেটেট ভিত্তিতে মোট বিনিয়োগ হিসাবায়নের ক্ষেত্রে
(ক) ডিওএস সার্কুলার নং-০২/২০১৩ এর ২(১) - (ক), (গ), (ঘ) এবং (ঙ) ক্রমিকে বর্ণিত সকল উপাদান; তবে (ক) ক্রমিকে বর্ণিত ধারণকৃত সকল প্রকার শেয়ারের মধ্যে নিজস্ব সাবসিডিয়ারী কোম্পানী বা কোম্পানীসমূহকে প্রদত্ত মূলধনের বিপরীতে ধারণকৃত ইক্যুয়িটি শেয়ার- এর অন্তর্ভুক্ত হবে না ;
(খ) সাবসিডিয়ারী কোম্পানী বা কোম্পানীসমূহ কতৃর্ক পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে গঠিত কোন প্রকার তহবিলে প্রদত্ত চাঁদা;
(গ) সাবসিডিয়ারী কোম্পানী বা কোম্পানীসমূহ কতৃর্ক ধারণকৃত সকল প্রকার শেয়ার, ডিবেঞ্চার, কর্পোরেট বন্ড, মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট এবং অন্যান্য পুঁজিবাজার নিদর্শনপত্রের বাজারমূল্য;
(ঘ) সাবসিডিয়ারী কোম্পানী বা কোম্পানীসমূহ কতৃর্ক গ্রাহককে প্রদত্ত মার্জিন ঋণের স্থিতি;
(ঙ) ভবিষ্যৎ মূলধন প্রবাহ বা শেয়ার ইস্যুর বিপরীতে সাবসিডিয়ারী কোম্পানী বা কোম্পানীসমূহ কতৃর্ক বিভিন্ন কোম্পানীকে প্রদত্ত ব্রীজ লোন।  
(২) ডিওএস সার্কুলার নং-০২/২০১৩ এর ২(২) নং ক্রমিকে বর্ণিত সকল উপাদান কনসলিডেটেট ভিত্তিতে ব্যাংকের মোট বিনিয়োগ হিসাবায়নের ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত হবে না।
২। পুঁজিবাজারে যেসব ব্যাংক-কোম্পানীর কনসলিডেটেট ভিত্তিতে বিনিয়োগের মোট পরিমাণ এই সার্কুলার লেটারের ১(১) নং ক্রমিকে বর্ণিত সীমার উর্ধ্বে রয়েছে, সেসব ব্যাংক-কোম্পানী ২১ জুলাই, ২০১৬ এর মধ্যে পুঁজিবাজারে কনসলিডেটেট ভিত্তিতে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ক্রমান্বয়ে নির্ধারিত সীমার মধ্যে নামিয়ে আনার বিষয়টি নিশ্চিত করবে।
নির্দেশনাগুলো অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং একইসাথে ডিওএস সার্কুলার নং-০২/২০১৩ এর সাথে প্রদত্ত ছকসমূহ সংশোধিত বলে গণ্য হবে।
[b]ঢাকা, ২৫ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]