চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৬.৬ শতাংশ থেকে বেড়ে হবে ৬.৭ শতাংশ। আর আগামী ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ৬.৯ শতাংশে।

একই সঙ্গে চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়াবে ৬.২ শতাংশে, যা ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ছিল ৬.৪ শতাংশ।

বুধবার এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) বার্ষিক প্রতিবেদনে এমন পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।

'এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক-২০১৬ আপডেট' শীর্ষক প্রতিবেদনটি সারা বিশ্বে একযোগে প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের এডিবির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এডিবির প্রিন্সিপাল কান্ট্রি স্পেশালিস্ট মোহাম্মদ পারভেজ এমদাদ প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর কাজুহিকো হিগুচি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, রফতানি বৃদ্ধি, রেমিটেন্স বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ বাড়ার ফলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়বে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতিও সহনীয় পর্যায়ে থাকবে।

তবে চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি দশমিক ১ শতাংশ বাড়ার কারণ সম্পর্কে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাটি বলছে, পোশাক খাতের রফতানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক রফতানি বাড়বে, সরকারি পে-স্কেল বাস্তবায়িত হওয়ায় এবং রেমিটেন্স বাড়ায় বেসরকারি ভোগ বাড়বে।

খাতভিত্তিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে কৃষিখাতে প্রবৃদ্ধি সামান্য কমবে। অর্থাৎ এ খাতে প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ৩.২ শতাংশে, যা ২০১৫ অর্থবছরে ছিল ৩.৩ শতাংশ।

শিল্পখাতে সামান্য প্রবৃদ্ধি বাড়বে। এ খাতে প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ৯.৪ শতাংশ, যা ২০১৬-১৭ অর্থবছরে হবে ৯.৭ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে তৈরি পোশাকখাত ম্যানুফ্যাকচারিং, অভ্যন্তরীণ বাজার এবং নির্মাণ শিল্প বেশ ভূমিকা রাখবে।

সেবাখাতে প্রবৃদ্ধি সামান্য বাড়বে। এটি দাঁড়াবে ৫.৯ শতাংশে, যা অর্থবছর ২০১৪-১৫ এ ছিল ৫.৮ শতাংশ। এক্ষেত্রে শিল্পের প্রসার, পর্যটন, টেলিযোগাযোগ, স্বাস্থ্য, শিল্প এবং প্রযুক্তিখাত ভালো ভূমিকা রাখবে।

এডিবি জানিয়েছে, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বেশ কিছু নীতি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এগুলো হচ্ছে- নির্দিষ্ট সময়ে ভ্যাট আইনের প্রয়োগ, জমি রেকর্ড এবং ভূমি ব্যবস্থাপনার ডিজিটাল করা, রফতানি বাধা দূর করা, তেল ও বিদ্যুতের সঠিক ব্যবহার, এডিপি বাস্তবায়ন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আর্থিক খাতের শৃংখলা ফেরাতে সংস্কার করা।

ওএফ