কোনোভাবেই পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। নানামুখী উদ্যোগের পর পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমলেও ফের বাড়ে বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১৩০ টাকা।

এ অবস্থায় সরবরাহ বাড়ানো ছাড়া দাম কমানোর বিকল্প দেখছে না বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। রোদ-বৃষ্টিসহ বিভিন্ন অজুহাতে বেড়েই চলছে পণ্যটির মূল্য।

প্রতিকেজি পেঁয়াজের মূল্য এখন খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১৩০ টাকা করে। এমন পরিস্থিতিতে অসহায় দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। অন্যদিকে, এই পণ্যটি নিয়ে কোনও কথা বলতে রাজি হননি বাণিজ্য সচিব ড. জাফর উদ্দিন।

গতকাল দেখা যায় ‘সকালেই সচিবালয়ে ঘোষণা করা হয়েছে- আজ সচিবালয়ের কর্মচারীদের জন্য টিসিবি পেঁয়াজ বিক্রি করবে। শোনার পরপরই অফিসে স্যারের কাছ থেকে বলে পেঁয়াজ কিনতে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি।’ তাঁর মতো আরো শতাধিক কর্মচারী লাইনে।

সচিবালয়ের পশ্চিম পাশে আর জাতীয় প্রেসক্লাবের পূর্ব পাশে রাস্তার মধ্যে সকাল সকাল এক লাইন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লাইনে লোকের সংখ্যা বাড়ে। এক পর্যায়ে তা লোকে লোকারণ্য। লাইনে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। খোঁজ নিয়ে জানাগেল পেঁয়াজের লাইন।

বেলা সোয়া ১ টার দিকে একটি ট্রাক এসে থামলো লাইনের মাথায়। ট্রাকটির সামনে লেখা আছে ‘টিসিবির কর্তৃক খোলা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি।’ ট্রাকের ভেতরে চার থেকে পাঁচ বস্তা পেঁয়াজ। বস্তাগুলো ভেদ করে গাছ উঁকিঝুকি মারছে। এ পেঁয়াজ কিনতেই সকাল ৯ টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন শতশত মানুষ।’

একমাস আগে, হঠাৎ করে ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিলে হু হু করে বাড়তে থাকে পেঁয়াজের দাম। সে সময় প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৩০ টাকা বেড়ে নব্বই থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হতে থাকে। এরপর মিয়ানমার, তুরস্ক ও মিশর থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করে সরকার।

এছাড়া টিসিবিও পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করে। বাজার নিয়ন্ত্রণে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালতও।

সরকারি বিপণন প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) খোলাবাজারে ৪৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করছে। টিসিবি বর্তমানে ঢাকার ৩৫টি স্থানে ট্রাকে পেঁয়াজ বিক্রি করছে। প্রতিদিন প্রতিটি ট্রাকে এক হাজার কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করছে তারা। একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ ২ কেজি পেয়াজ কিনতে পারছেন।

দাম সামান্য কমে আসলেও আবারও বৃষ্টির অজুহাত ও মিয়ানমারের পেঁয়াজের মান খারাপের অজুহাতে অস্থির হয়ে পড়েছে বাজার।

ভারত থেকে আগের এলসি করা পেঁয়াজ প্রবেশ করলেও বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। এক শ্রেণির মুনাফালোভী ব্যবসায়ী দাম বাড়ার জন্য দায়ী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এএস