খাদ্য-দ্রব্য ও ফলমূলে ফরমালিনের অপপ্রয়োগ সম্পর্কে গণমাধ্যমে একমাত্র সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদেরই বক্তব্য দেয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট রসায়নবিদরা। তারা বলেন, যারা এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ নন, জনস্বার্থে তাদের এ সম্পর্কে বক্তব্য দান থেকে বিরত থাকা উচিত। যে কেউ এ বিষয়ে বক্তব্য দিলে জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হতে পারে বলে তারা অভিমত দেন।
বাংলাদেশ রসায়ন সমিতি আয়োজিত ’ভোগ্যপণ্য ও রসায়ন’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে বক্তারা এ মন্তব্য করেন। শনিবার রাজধানীর বিসিআইসি মিলনায়তনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সকল পর্যায়ে রসায়নের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। রসায়নের ব্যবহারের ফলে উন্নতমানের ওষুধ, বস্ত্র, তৈজসপত্র, কস্মেটিকস্, টয়লেটরিজ, কুকারিজ, প্লাস্টিক, সুগন্ধি, জুয়েলারি ও চামড়াজাত পণ্যসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সকল ধরণের পণ্য তৈরি সম্ভব হয়েছে।
ভোগ্যপণ্যের উৎকর্ষতা, মাননিয়ন্ত্রণ ও স্থায়ীত্বের জন্য রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহৃত হলেও অতিমাত্রায় রসায়নের ব্যবহার মানব দেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর বলে তারা উল্লেখ করেন।
বক্তারা বলেন, মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় সুষম সার ও পরিবেশবান্ধব কীটনাশক ব্যবহার করা জরুরি। অতিমাত্রায় রাসায়নিক সার ব্যবহার করলে পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র হুমকির মুখে পড়তে পারে।
তারা সঠিক পদ্ধতিতে পরীক্ষা করে মৌসুমি ফল ও খাদ্যপণ্যে ফরমালিন ও কার্বাইডের মাত্রা নির্ধারণের তাগিদ দেন। দেশের ক্রেতা-ভোক্তাদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার লক্ষ্যে খাদ্য-পণ্য ও ফলমূলে রসায়নের অপপ্রয়োগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন বলে তারা মন্তব্য করেন।
শিল্পসচিব বলেন, সঠিক মাত্রায় রসায়নের ব্যবহার পরিবেশ সুরক্ষা, গুণগতমানের শিল্পায়ন, খাদ্য নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধ জীবন নিশ্চিত করতে পারে। তিনি বলেন, পুরান ঢাকার কেমিক্যাল গুদাম সরিয়ে নিতে সরকার একটি কেমিক্যাল পল্লি স্থাপনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। তিনি গুণগতমানের শিল্পায়নের ধারা বেগবান করতে গবেষণা ও উন্নয়নখাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। এখাতে বিনিয়োগকারি উদ্যোক্তাদের জন্য কর রেয়াত সুবিধা নিশ্চিত করতে তিনি রসায়নবিদদের সোচ্চার হবার পরামর্শ দেন।
বাংলাদেশ রসায়ন সমিতির সভাপতি অধ্যাপক জসীম উদ্দীন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিসিআইসি’র পরিচালক আবুল বাসার মিয়া। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক মোঃ আবুল খায়ের। সেমিনারে অতিথি ছিলেন শিল্পসচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ্ ও বিসিআইসি’র চেয়ারম্যান মোঃ মুনসুর আলী সিকদার।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আল-নকীব চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তাজমেরি এস.এ. ইসলাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোঃ আবুল হাসেম, অধ্যাপক ড. মোঃ আমজাদ হোসেন আলোচনায় অংশ নেন।
ঢাকা, ২৮ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর





