[b]ঢাকা:[/b] প্রথম শুক্রবারেই জমজমাট হয়ে উঠেছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। সপ্তাম দিনে এসে মেলা পেয়েছে তার চিরচেনা রূপ। দর্শনার্থীর পাশাপাশি বেড়েছে বেচাকেনাও। গত ১১ জানুয়ারি শুরু হওয়া এ মেলায় গতকালই প্রথম প্রবেশ গেইটে চোখে পড়ে দীর্ঘ লাইন। পার্কিস স্পেসসহ আশপাশের স্থানগুলো ভরে ওঠে কানায় কানায়। তবে গতকালও বেশকিছু স্টল-প্যাভেলিয়নে সংস্কারকাজ করতে দেখা যায়। ঘষামাজার কাজ চলছিল অধিকাংশ স্টলে।
বাণিজ্য মেলার সহ-আয়োজক রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) উপপরিচালক ও মেলার সদস্য সচিব বিকর্ণ কুমার ঘোষ বলেন, গত কয়েক দিনে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় বেড়েছে দর্শনার্থী সংখ্যাও। সামনের দিনগুলোতে মেলা আরো জমবে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমরা আশা করছি মেলা তার কাংখিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হবে।
মেলা প্রাঙ্গন ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ স্টল-প্যাভেলিয়নেই প্রচুর ক্রেতা সমাগম। খোলা জায়গাগুলোতেও চোখে পড়ে মানুষের ভীড়। বিশেষ করে ইলেক্ট্রিক, ইলেক্ট্রনিক্স, সিরামিক ও গৃহস্থালি পণ্যের স্টল-প্যাভেলিয়নগুলোয় বেচাকেনা হচ্ছে অপেক্ষাকৃত বেশি। যদিও অধিকাংশ স্টলমালিক চলমান বেচাকেসায় সন্তুষ্ট হতে পারছেন না। তাদের অনুযোগ, অনেকে এখন পছন্দ করছেন, কিনছেন কমই।
বিভিন্ন পর্যায়ের দর্শনার্থীর সাথে কথা বলে জানা যায়,
প্রাংগন ঘুরে দেখা যায়, বেশকিছু প্যাভিলিয়ন সাজানো হয়েছে মনমুগ্ধকর সাজে। ওয়ালটনের জনসংযোগ ও মিডিয়া বিভাগের পরিচালক হুমায়ূন কবির এ প্রসঙ্গে বলেন, প্রবেশ গেইটের খুব কাছাকাছি, আকর্ষনীয় সাজসজ্জা, সামনে সুপ্রশস্ত খালি জায়গা, ব্যান্ড হিসেবে নিজস্ব ঐতিহ্য এবং ক্রেতা-দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে লিফটের ব্যবস্থা থাকায় এবার ওয়ালটন প্যাভেলিয়নে লক্ষ করছি উপচেপড়া ভীড়। ক্রেতাদের চাহিদা এবং সময়কে মাথায় রেখে মেলা উপলক্ষে দেশীয় পণ্যের অন্যতম প্রধান ব্র্যান্ড ওয়ালটন নতুন কিছু আপডেট মডেল  নিয়ে এসেছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রযুক্তি পণ্যে এবারের মেলার প্রধান আকর্ষণ ৮৫ ইঞ্চি সাইজের স্মার্ট এলইডি টিভি ইতোপূর্বে অনেকেই হয়তো দেখেননি। আর তাই এটি দেখতে সবাই ভিড় করছেন।
প্যাভিলিয়নের ইনচার্জ আকতারুজ্জামান অপু জানান, মেলার প্রথম দিন থেকে ওয়ালটনের প্যাভিলিয়নে প্রচুর দর্শনার্থী ইন্টারনেট টিভি ও মোটরসাইকেল দেখতে এলেও তারা মোবাইল বেশি কিনছেন। তিনি আরো জানান, ওয়ালটন দেশীয় ব্র্যান্ড হওয়ায় এ প্যাভিলিয়নে মানুষের একটা আলাদা আগ্রহ রয়েছে। এজন্যই প্রচুর মানুষ এখানে আসছেন। মেলায় ক্রেতাদের ইলেক্ট্রনিকক্স পণ্যে বেশ আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
মেলাতে সনি র‌্যাংগস নিয়ে এসেছে বিদেশী কোম্পানির নজর কাড়া সব পণ্য। প্যাভিলিয়ন ইনচার্জ সারোয়ার জাহান চৌধুরী জানান, বিক্রিও হচ্ছে ভালো। প্যাভিলিয়নের বিক্রয় কর্মীরা জানান, এবার মেলাতে প্রথম দিকে হতাশা থাকলেও আজ (শুক্রবার) উপস্থিতি আমাদের আশা জাগিয়েছে। আজ যেমন উপস্থিতি তেমননি বেচাবিক্রি। এ ভাবে মেলার বাকি দিন গুলো থাকলে সব ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য পূরণ হবে।
মেলায় কনকা ব্র্যান্ড নিয়ে এসেছে রাইস কুকার, মাইক্রোওভেন, এলইডি টেলিভিশন, ফ্রিজ ও এসি। আর বিভিন্ন ছোট ছোট বিভিন্ন চায়না ব্র্যান্ডের সাড়ে ১৭ হাজার টাকার একটি মাইক্রোওভেন কিনলেই সঙ্গে ফ্রি দেয়া হচ্ছে ৪২ হাজার টাকার ইলেক্ট্রনিক্স পন্য।  
আরএফএল প্যাভিলিয়নের বাজার ব্যবস্থাপক জিয়াদ জানান, প্রথম দুই দিনে গোছানোর কাজ একটু বেশি ছিল। বেচা বিক্রিও তেমন হয়নি। তবে আজ দর্শনার্থীদের ভীড় বাড়ছে। আশা করছি আগামিতে বেচা বিক্রি আরও ভাল হবে। তবে হরতাল অবরোধ থাকলে তা ব্যাহত হবে বলে মনে তিনি।
দুই মেয়েকে নিয়ে মেলাতে এসেছেন বাড্ডার শিরিন আক্তার। তিনি বলেন, ছুটির দিনে ওদের নিয়ে বেড়াতে এসেছি। রাস্তায় যানজট কম থাকায় মেলাতে এসে ভালোই লাগছে। হরতাল অবরোধ থাকলে আতংকে ঘর থেকে বের হওয়া যায় না। বাচ্চাদের নিয়ে মেলাতে ঘুরতে ভালোই লাগছে বলে জানান তিনি। হরতাল অবরোধ থাকলে মেলায় এতো মানুষ আসতো না বলেও অভিমত দেন তিনি।
[b]টাইমনিউজবিডি/এসএমআর[/b]