তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩ শতাংশ। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দেশে ২৬৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার প্রবাসী আয় এসেছিল।

সংশ্লিষ্টদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা এবং ওই অঞ্চলে কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাওয়ায় রেমিট্যান্স প্রবাহে কিছুটা ধীরগতি এসেছে। নতুন কর্মীদের বিদেশে যাওয়ার হার কমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে এর প্রভাব পড়তে পারে বলেও তারা মনে করছেন।

সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশে ভিসা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কড়াকড়ির কারণে নতুন কর্মী যাওয়ার গতি কমেছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি কমে যাওয়ায় নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও প্রভাব পড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৪২৭ জন কর্মী বিদেশে গেছেন।

এর আগের বছরের একই সময়ে বিদেশে যাওয়া কর্মীর সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৪২ হাজার ৪৩৮ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ছয় মাসে বিদেশে যাওয়া কর্মীর সংখ্যা কমেছে ২ লাখ ৯ হাজার ১১ জন। শতাংশের হিসাবে এই কমার হার প্রায় ৩৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

ব্যাংকাররা বলছেন, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে ডলারের বিনিময় হার এবং সরকারের নগদ প্রণোদনা এখনো প্রবাসী আয়কে উৎসাহিত করছে। ফলে মাসভিত্তিক প্রবাহে কিছুটা ওঠানামা থাকলেও দেশের বৈদেশিক মুদ্রার জোগানে রেমিট্যান্সের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

এদিকে টানা চার মাস ধরে দেশে মাসিক রেমিট্যান্সের পরিমাণ ৩০০ কোটি ডলারের নিচে রয়েছে। জুন ও জুলাইয়ে প্রবাসী আয় এসেছিল যথাক্রমে ২৮২ কোটি ও ২৮৬ কোটি ডলার। এর আগে টানা ছয় মাস মাসিক রেমিট্যান্স তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি ছিল।

সংশ্লিষ্টদের মতে, চার মাস ধরে রেমিট্যান্স তিন বিলিয়ন ডলারের নিচে থাকলেও এটিকে এখনই বড় ধরনের পতন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ জুন থেকে সেপ্টেম্বর—এই চার মাসেই আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি রেমিট্যান্স এসেছে।

তাদের ধারণা, কয়েক মাসের অস্বাভাবিক উচ্চ প্রবাহের পর বর্তমানে প্রবাসী আয় কিছুটা স্বাভাবিক বা মৌসুমি পর্যায়ে ফিরে এসেছে।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে, অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ৮৫৯ কোটি ১০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৭৫৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার। সে হিসাবে তিন মাসে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ।

এর আগে বুধবার মুদ্রানীতি ঘোষণার সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান বলেন, রেমিট্যান্স প্রবাহ ১৮ দশমিক ৯০ শতাংশ বেড়েছে, যা বৈদেশিক খাতে সহায়তা করেছে। তার মতে, তুলনামূলক স্থিতিশীল বিনিময় হারও আমদানি করা পণ্যের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হয়েছে।

এস