বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই প্রকল্পের আটটি ক্রয় প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে পাঁচটি অনুমোদন পেয়েছে এবং বাকি তিনটি অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

অনুমোদিত প্যাকেজগুলোর মধ্যে লাইন-১-এর সিপি-০২, সিপি-০৬, সিপি-০৯ ও সিপি-১০ এবং লাইন-৫-এর সিপি-০৩ রয়েছে। এসব কাজের মধ্যে ডিপো, ভূগর্ভস্থ পথ, স্টেশন, ট্র্যাক, বিদ্যুৎ, সংকেত ও টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত।

লাইন-১-এর সিপি-০২ প্যাকেজে ডিপোর ওয়ার্কশপ, স্ট্যাবলিং শেড, অপারেশন ও কারিগরি ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, সহায়ক উপকেন্দ্র এবং ট্র্যাকশন উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। ভ্যাট ও করসহ এ কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ২৮৫ কোটি ৬ লাখ ৯৩ হাজার ৫৫৮ টাকা। এ প্যাকেজে সিনোহাইড্রো ও এসইবিসিএলের যৌথ উদ্যোগকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে।

সিপি-০৬ প্যাকেজে নাড্ডা স্টেশনের উত্তর প্রান্ত থেকে বিমানবন্দর স্টেশন পর্যন্ত ৫ দশমিক ১৮২ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ পথ নির্মাণ হবে। দুটি টানেল, বিমানবন্দর, বিমানবন্দর টার্মিনাল-৩ ও খেলক্ষেত স্টেশন এবং টিবিএম চালুর জন্য শ্যাফট থাকবে এ অংশে।

এ প্যাকেজে ভ্যাট ও করসহ ব্যয় হবে ১১ হাজার ৫৯০ কোটি ৫৮ লাখ ৭ হাজার ২৯৯ টাকা। জাপানের নিশিমাতসু, টিপিএল ও টোডার যৌথ উদ্যোগকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে।

লাইন-১-এর সিপি-০৯ প্যাকেজে ট্র্যাক, রেল, টার্নআউট, পয়েন্ট ও ক্রসিং নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। এতে ১৩২ কেভি প্রাথমিক ফিডার, রিসিভিং ও সহায়ক উপকেন্দ্র, ৩৩/০.৪১৫ কেভি বিতরণ নেটওয়ার্ক এবং ১ হাজার ৫০০ ভোল্টের ওভারহেড বিদ্যুৎ ব্যবস্থা থাকবে।

এই প্যাকেজে ব্যয় হবে ১১ হাজার ৬৫ কোটি ৫৭ লাখ ৭২ হাজার ১৫০ টাকা। ভারতের লারসেন অ্যান্ড টুব্রো ও সুমিতোমোর যৌথ উদ্যোগকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে।

সিপি-১০ প্যাকেজে মেট্রোরেল পরিচালনার জন্য সংকেত, টেলিযোগাযোগ, প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। যোগাযোগভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় ট্রেন নিয়ন্ত্রণ, অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক এবং এলটিইভিত্তিক বেতার যোগাযোগও এর আওতায় রয়েছে।

এ কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৫ লাখ ৩১ হাজার ৭১৬ টাকা। লারসেন অ্যান্ড টুব্রো লিমিটেডকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, লাইন-৫-এর সিপি-০৩ প্যাকেজে হেমায়েতপুর থেকে আমিনবাজার পর্যন্ত ৫ দশমিক ৬ কিলোমিটার এবং নতুন বাজারের পর থেকে ভাটারা পর্যন্ত শূন্য দশমিক ৯ কিলোমিটার—মোট ৬ দশমিক ৫০ কিলোমিটার উড়ালপথ নির্মাণ করা হবে।

এই অংশে হেমায়েতপুর, বলিয়ারপুর, বিলামালিয়া, আমিনবাজার ও ভাটারা এলাকায় পাঁচটি উড়াল স্টেশন নির্মাণের কথা রয়েছে। প্যাকেজটির ব্যয় হবে ২ হাজার ৬৭০ কোটি ৯৮ লাখ ৯৭ হাজার ৮৬০ টাকা। চীনের সিআরইসি, এমআইএল ও এমবিইএলের যৌথ উদ্যোগকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বৈঠকে লাইন-১-এর আরও দুটি এবং লাইন-৫ উত্তর রুটের একটি প্যাকেজের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

লাইন-১-এর সিপি-০৪ প্যাকেজে রামপুরা স্টেশনের উত্তর প্রান্ত থেকে নতুন বাজার স্টেশন পর্যন্ত প্রধান লাইন ও স্টেশন নির্মাণ করা হবে। এ প্যাকেজের মূল চুক্তিমূল্য ১৮ হাজার ৩৭ কোটি ২৫ লাখ ৮৯ হাজার ৬৫৬ টাকা। টোকিউ-মিল যৌথ উদ্যোগকে সুপারিশকৃত দরদাতা করা হয়েছে।

সিপি-০৭ প্যাকেজে ট্রানজিশন থেকে বালু নদীর শুরু পর্যন্ত ৫ দশমিক ০০৭ কিলোমিটার প্রধান লাইন ও স্টেশন নির্মাণের কথা রয়েছে। এর মূল চুক্তিমূল্য ২ হাজার ৫৩৪ কোটি ৯ লাখ ৪৩ হাজার ২৪১ টাকা। সিআরইসি-মিল-এমবিইসি যৌথ উদ্যোগকে সুপারিশ করা হয়েছে।

লাইন-৫ উত্তর রুটের সিপি-০২ প্যাকেজে ডিপোর পূর্ত ও ভবন নির্মাণকাজ হবে। এর মূল চুক্তিমূল্য ১ হাজার ৮৪৭ কোটি ৫২ লাখ ৪২ হাজার ৬৫৮ টাকা। কনকর্ড প্রগতি কনসোর্টিয়াম ও হ্যানিল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানির যৌথ উদ্যোগকে সুপারিশকৃত দরদাতা করা হয়েছে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, লাইন-১ ও লাইন-৫—দুই প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত প্রকল্প গত ১৬ সেপ্টেম্বর একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। প্রকল্প দুটির বাস্তবায়নকাল ২০১৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন করছে। বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) যৌথভাবে এতে অর্থায়ন করছে।

এস