বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য সচিব ও রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান। এর আগে বুধবার অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২৩তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর রায় ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছানোর পর বিষয়টি সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপন করা হয়। রায় ও মামলার নথিতে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকার বিষয়টি বিবেচনা করে তাদের বিরুদ্ধে চাকরিবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত তিন শিক্ষক হলেন— বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম।

এ ছাড়া স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছেন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহাবুবার রহমান ওরফে বাবু, তৎকালীন সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, সহকারী রেজিস্ট্রার হাফিজুর রহমান ওরফে তুফান, সেকশন অফিসার মো. মনিরুজ্জামান পলাশ, এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল, নিরাপত্তাকর্মী নূর আলম মিয়া এবং এমএলএসএস এ কে এম আমির হোসেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২৩তম সিন্ডিকেট সভায় শুধু স্থায়ী বহিষ্কারই নয়, আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভায় তিন শিক্ষকের পদ অবনমন এবং একটি ছাত্রী হলের নামকরণসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, শহীদ আবু সাঈদ হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া আদেশের কপি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পেয়েছে। নথিপত্র পাওয়ার পর বিষয়টি সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপন করা হয়। পরে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, শহীদ আবু সাঈদের প্রতি সম্মান এবং তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এর আগে আবু সাঈদ হত্যা মামলায় অভিযুক্তদের বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম ও বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয় বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়। গত ৯ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল মামলাটির রায় ঘোষণা করেন।

Sayeed_20261001_190809627

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেট-সংলগ্ন এলাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। ওই স্থানটি বর্তমানে ‘শহীদ আবু সাঈদ গেট’ নামে পরিচিত।

আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলির মুখে বুক পেতে দাঁড়িয়ে থাকা আবু সাঈদের মৃত্যুর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। পরবর্তী সময়ে তার মৃত্যু বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম প্রতীক হয়ে ওঠে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও বড় পরিবর্তন আসে।

আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পরবর্তী সময়ে মামলা হয় এবং তদন্ত শেষে বিষয়টি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন হয়। ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলো।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তের ফলে আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে অভিযুক্ত বেরোবির শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চাকরির বিষয়ে চূড়ান্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এমএম