সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্পে (এডিপি) বরাদ্দ নিয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দ্বন্দ্বের মুখেই পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের কড়া সমালোচনার জবাব দিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সমালোচনার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ‘নাহ, আমার কোনো রিঅ্যাকশন নেই।’ পরিকল্পনামন্ত্রীকে ইঙ্গিত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, “উনি (পরিকল্পনামন্ত্রী) শুধু ভুল তথ্যের ভিত্তিতে কেবল বক্তৃতাই দিয়েছেন। মন্ত্রী হিসেবে সরকারি পর্যায়ে এক ধরনের শিষ্টাচার মেনে চলা উচিত। নো কমেন্টস, হি শ্যুড মেইনটেইন শিষ্টাচার।”
মঙ্গলবার সচিবালয়ে বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাইস প্রেসিডেন্ট ফিলিপ লি হররোর সঙ্গে বৈঠক করেছেন অর্থমন্ত্রী। পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিকল্পনামন্ত্রী গতকাল অভিযোগ করে বলেন, অর্থমন্ত্রী বিশ্বব্যাংকের পেনশন নেন। তাই তিনি বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলে তিনি (মুস্তফা কামাল) বিশ্বাস করেন না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘আমি সরকার ছাড়া কারও কাছ থেকেই পেনশন নিই না। পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংক আমাদের যে অপমান করেছে, সে কারণে বলেছিলাম মামলা করব। আমি যখন মন্ত্রী থাকব না তখন করব।’
সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি (পিপিপি) না বোঝা নিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চান সাংবাদিকেরা। এ সময় মুহিত বলেন, ‘এটা ওনার দুর্বলতা। পিপিপি একটি আন্তর্জাতিক ধারণা।’
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) সংশোধন নিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রীর সঙ্গে  বিরোধ সম্পর্কে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এটা সব সময় হয়। তারা বেশি টাকা চায়। আমরা দিতে পারি না।’
বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী মুহিত বলেন, “হ্যাঁ, পদ্মা সেতু প্রকল্পে অসম্মান করায় আমি বলেছিলাম যে মামলা করবো। তবে মন্ত্রী হিসেবে তো আমি মামলা করবো না। মামলা করতে পারি মন্ত্রী থেকে অবসরে যাওয়ার পর। কেননা, সরকারের মন্ত্রী হিসেবে বিশ্বব্যাংক হচ্ছে হাইয়েস্ট ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (শীর্ষ উন্নয়ন সহযোগী)।”
সরকারের পিপিপি প্রসঙ্গ টেনে এনেও অর্থমন্ত্রীকে এদিন বিঁধেন পরিকল্পনামন্ত্রী মোস্তফা কামাল। তিনি বলেন, “উনি পিপিপি না কী যেনো একটা বানিয়েছেন। এটা গরু না ছাগল, তা মানুষ জানে না। একটা অফিসও নিতে পারেননি।”
এদিকে পরিকল্পনামন্ত্রীর পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) নিয়ে মন্তব্যের জবাব দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, “এটা উনার (পরিকল্পনামন্ত্রী) দুর্বলতা। পিপিপি হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের একটি কার্যক্রম। এটা কোনো নতুন ইস্যু নয় বা আমি নিজে এটা তৈরি করিনি।”
এডিপির অর্থ বরাদ্দ নিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মধ্যকার দ্বন্দ্ব প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী মুহিত বলেন, “এটা তো সবসময়ই হয়। আর এটাও তো কোনো নতুন বিষয় নয়। প্রত্যেক বছরেই সংশোধিত বাজেটে এডিপি কাঁটছাট হয়।”
সোমবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে কয়েকজন সাংবাদিকের উপস্থিতিতে মুস্তফা কামাল আরো বলেছিলেন, “অর্থমন্ত্রী বিশাল বাজেট দেন। বাস্তবায়ন করতে পারেন না। সংসদে বাজেট দিতে গিয়ে তিনি ‘শুয়ে’ পড়েন। আমি অর্থমন্ত্রী হলে সবচেয়ে ছোট বাজেট বক্তৃতা দিতাম।”
অবশ্য অর্থমন্ত্রী এ বাপারে কোনো জবাব না দিয়ে বলেন, “নো কমেন্টস।”
[b]ঢাকা, ১ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]