দেশের রাজনীতিবিদ ও শিল্প-প্রতিষ্ঠানের মালিকদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটলেও স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরে এসেও শ্রমজীবি মানুষের  কোন উন্নতি হয়নি। সীমিত আয় দিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে চলা তো দুরের কথা দু’মুঠো ভাত ঠিকমত খেতে পারছেনা বাংলাদেশের অধিকাংশ শ্রমজীবি মানুষ। একদিকে স্বল্প আয় অন্যদিকে চলমান মূল্যস্ফীতির আগুনে পুড়ছে ওইসব খেঁটে খাওয়া দরিদ্র মানুষগুলো।
এখনো দেশে শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। শ্রমিক অধিকার সংরক্ষন করার জন্য গণতান্ত্রিক শ্রম আইনও নেই। নেই ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার ও পোশাগত নিরাপত্তা। কারখানায় অধিকারের কথা বললেই বা ট্রেড ইউনিয়ন কার্যক্রম চালালেই শ্রমিককে ছাটাই করা হয়। অথচ মালিকের অবহেলার কারণে শ্রমিক নিহত হলে সেই মালিক ধরা ছোয়ার বাইরে থেকে যায়।
একই সাথে বেড়ে চলেছে ধনী ও দরিদ্রের বৈষম্য। আর সবচে বেশি বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন দেশের নারী শ্রমিকেরা।  দেশের অর্থনীতি এগুচ্ছে।  দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি বছরে ৫ শতাংশের  বেশি হারে বাড়ছে। বাড়ছে শিক্ষার হার, মাথা পিছু আয়। কিন্তু এতসব উন্নতির পরও বঞ্চনা কমছে না  দেশের নারী শ্রমিকদের। ইটভাটা থেকে নির্মাণ খাত, কৃষি থেকে শিল্প-কারখানা কোথাও পুরুষ শ্রমিকের সমান মজুরি পায় না নারী শ্রমিকরা। সব ক্ষেত্রই তারা বঞ্চনার শিকার।
শ্রম মজুরি নিয়ে সাম্প্রতিক কোনো জরিপ নেই। ২০১০ সালে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান বুে র‌্যে করা শ্রমশক্তি জরিপই একমাত্র নির্ভরযোগ্য উৎস। ওই জরিপে নারী ও পুরুষ শ্রমিকের মজুরি বৈষম্যের চিত্র উঠে এসেছে। ৪ বছর পরও অবস্থার তেমন পরিবর্তন হয়নি। শহর ও শ্রামাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল  থেকে পাওয়া সাম্প্রতিক তথ্যেও মজুরি বৈষম্য স্পষ্ট হয়ে উঠে।
জাতীয় শ্রমশক্তি জরিপ প্রতিবেদন অনুসারে দেশে নারী শ্রমিকের সংখ্যা সাড়ে ৮ লাখ। এদের সবাই মজুরি বৈষম্যের শিকার। পুরুষ শ্রমিকদের সাথে সমান কাজ করেও তাদের তুলনায় কম মজুরি পান এরা। গ্রামাঞ্চলে পুরুষ শ্রমিকরা গড়ে পান ১৮৪ টাকা। একই কাজ করে নারী শ্রমিক পান ১৭০ টাকা।
মালিবাগে একটি গার্মেন্টে কাজ করে সালমা। টাইমনিউজ বিডিকে সে জানায়, ৪ বোন ও ৩ ভাইয়ের সংসারে সবার বড় সে। দেশের বাড়িতে প্রায় উপোস থাকত, সহ্য করত পঙ্গু বাবার অত্যাচার। মায়ের সাহায্য নিয়ে একদিন খালার সঙ্গে চলে আসে ঢাকায় এবং তারপর থেকে কাজ করছে গার্মেন্টে কাটিং সেকশনে। বেতন যা পায়, তার সিংহভাগ পাঠিয়ে দেয় সংসাদ খরচের জন্য। রামপুরায় একটি ছোট রুমে তারা ৬ জন গাদাগাদি করে থাকে।
পুষ্টিকর এবং পরিমাণমত খেতে না পাওয়ায় পুষ্টিহীনতায় ভুগছে সালমা। ৪ বছর ধরে ১২ ঘণ্টা একটানা কাজ করতে হয় বলে কোমরে ব্যথা লেগে থাকে। অভাবের তাড়নায় ডাক্তার দেখানো হয় না কোনো মাসে সামান্য ক’টা টাকা যদি এভাবে নষ্ট করে ফেলে, তাহলে হয়তো বন্ধ হয়ে যাবে ছোট ভাইয়ের পড়া এবং বাবার চিকিৎসা। এই চিত্র শুধু সালমার জীবনে একার নয়, আমাদের দেশের রাজস্ব আয়ের অন্যতম খাত গার্মন্টেস কাজ করা হাজার হাজার মেয়ের জীবনের চিত্র।
ঢাকার হাতিরপুলের কাছে একটি গার্মেন্টসে কাজ করা রত্না নবম শ্রেণী পাস। তার কাজে প্রমোশনের ব্যবস্থা না থাকায় একই সেকশনে কাজ করছে ৪ বছর। বছরে যে হারে বেতন বাড়ে সে টাকায় সংসার চালানো কঠিন।
অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে ছুটি হলে টাকা কেটে রাখে। একে তো কম বেতন, তার ওপর ছুটির সময় টাকা কাটার কথা বলতেই আক্ষেপের সুরে বলেন, একদিন অর্ধেক বেলা কাজ করে অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় তিনি ওই দিনের বেতন পাননি।
টাকার অভাবে ডাক্তারের কাছেও যেতে পারেননি। বর্তমানে প্রতিটি জিনিসের দাম বাড়লেও বাড়েনি রত্না ও রাজিয়াদের বেতন, তাই পুষ্টিহীনতার কারণে অর্ধেক পথ এসে থেমে যায় তাদের জীবনের চাকা।
জানা গেছে, দেশে বর্তমানে গার্মেন্ট কমূরত শ্রমিকের সংখ্যা ১ দশমিক ৫ লাখেও বেশি, এর মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ হলো মেয়ে এবং মেয়েরাই সবচেয়ে কম বেতন পায় শুধু মেয়ে হওয়ার কারণে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, একজন মেয়ে সুপারভাইজার একজন ছেলে সুপারভাইজারের চেয়ে ১৩ শতাংশ কম বেতন পায়।
এ বিষয়ে রামপুরার একটি গার্মেন্টসের পরিচালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মেয়েদের কাজের দক্ষতা, আগ্রহ, শিক্ষা ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে বেতন স্কেলটা কম হয়। তিনি আরো বলেন, কাজের চাপ বেশি এবং পরিচালনা করার ক্ষমতা কম থাকায় মেয়েরা কর্মী থেকে সুপারভাইজার হতে চায় না।
আট শ্রম ঘন্টাসহ শ্রমিকের অধিকার আদায়ের দাবিতে শতবছর আগে শিকাগোর হে শহরে শ্রমিকরা আন্দোলন করলেও বাংলাদেশে এখনও সে সব দাবি বাস্তবায়ন হয়নি। শ্রমিক নেতাদের মতে, বাংলাদেশে সেই দাবিতে আন্দোলন করতে হয়। তারপরও নেই সেই আন্দোলন করার অধিকার। কোন দাবিতে শ্রমিকরা সংগঠিত হচ্ছে জানতে পারলেই সেই শ্রমিককে ছাটাই করা হয়। কখনো কখনো এলাকা ছাড়া করা হয়।
অথচ ওই মালিকদের সীমাহীন অবহেলার কারণে শ্রমিকের মৃত্যু হলে সেই মালিক ধরা ছোয়ার বাইরে থেকে যায়। সেই দোষী মালিককে আইনের আওতায় আনতে আন্দোলন করতে হয়। পোশাক শ্রমিক, কৃষি শ্রমিক, গৃহ শ্রমিক, নির্মাণ শ্রমিক, সড়ক-পরিবহন শ্রমিক, হোটেল ও রেস্টুরেন্ট শ্রমিক, প্রেস শ্রমিকরা বেঁচে থাকার জন্য ১০ থেকে ১২ ঘন্টা কাজ করতে হয়। শ্রমিকদের নেতারা মনে করেন শ্রমিকরা কাজ করেন মালিকদের বড় করা আর নিজেদের কোনমতে বেঁচে থাকার জন্য।
প্রবীন শ্রমিক নেতা ও সিপিবি’র সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান খান টাইমনিউজবিডিকে বলেন, ধনিক মালিক ও বিদেশি পোশাক ক্রেতারা একই স্বার্র্থে কাজ করে। নারী শ্রমিকদের কোন নিরাপত্তা নেই। রাতে কাজ করানো নিষেধ থাকলেও তাদের জোর করে কাজ করানো হয়। তারা নিরাপত্তা ঝুকি নিয়ে প্রতিমুহুর্তে চলা ফেরে করেন। এরপরও তাদের ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার নেই। ট্রেড ইউনিয়ন কার্যক্রম চালালেই তাকে ছাটাই করা হয়।
পেশাগত নিরাপত্তা নেই-অগ্নিকান্ড, কারখানা ধসে শ্রমিক নিহত হন। মালিকের দোষে শ্রমিক নিহত হলে সেই মালিককে গ্রেপ্তার করে দ্রুত শাস্তি দিয়ে শ্রমিকদের নিরাপত্তা সৃষ্টিতে কোন উদ্যোগ নেই। তিনি বলেন, মালিকরা অপরাধ করে পার পেলে যান-এটা একটি সংস্কৃতি হয়ে গেছে।
এ ব্যাপারে গার্মেন্টস শ্রমিক ফোরামের সভাপতি মোশরেফা মিশু টাইমনিউজবিডি বলেন, মালিকের অবহেলার কারণে শ্রমিক নিহত হলে, সেই মালিককে দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আমেরিকাতে ‘ইন্ডাস্টিয়াল হোমিসাইড‘ আছে। কোন মালিকের অবহেলার কারণে শ্রমিক নিহত হলে তাকে সর্বোচ্চ শান্তি নিশ্চিত করার হয়। বাংলাদেশেও শ্রমিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও  ক্ষতিপূরণে এ ধরনের বাধবাধকতা সৃষ্টিত করতে হবে।
ট্রেড ইউনিয়ন করা শ্রমিকদের মৌলিক আইনি অধিকার। দেশের শ্রম আইনের পাশাপাশি আইএলও সনদে স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। কিন্তু বাংলাদেশে ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার কার্যত নিষিদ্ধ। কি শ্রমিক, কৃষি শ্রমিক, গৃহ শ্রমিক, নির্মাণ শ্রমিক, সড়ক-পরিবহন শ্রমিক, হোটেল ও রেস্টুরেন্ট শ্রমিক বা প্রেস শ্রমিক। কোথাও ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার নেই।
শ্রমিকনেতারা বলছেন, এখন ট্রেড ইউনিয়ন মালিকদের ইচ্ছামত হয়। যে সব সংগঠন গণতাস্ত্রিক ট্রেড ইউনিয়ন করে তারা ট্রেড ইউনিয়নের নিবন্ধন পান না। আর যারা মালিক ও মালিক সংগঠনগুলোর পেছনে পেছনে পেছনে ঘোরেন তারা নিবন্ধন পায়। এ কারণে ওই সব কারখানাতে ট্রেড ইউনিয়নের কার্যক্রমও নেই।
সকল খাতের পেশাগত অধিকার নিশ্চিত করে-শ্রমিকদের এমন একটি শ্রম আইনের দাবি দীর্ঘদিনে হলেও পোশাক শ্রমিক, পাটকল শ্রমিকসহ কয়েকটি খাত ছাড়া সকল খাতের শ্রমিকদের আইনি স্বীকৃতি নিশ্চিত করা হয়নি।
শ্রম আইনে গৃহ শ্রমিক কৃষি শ্রমিককের ব্যাপারে সাম্প্রতি শ্রম আইনে কিছুটা ধারনা  দিলেও স্পষ্টতা নেই। শ্রমিকের অধিকার নিশ্চত করতে হলে-এগুলো অবশ্যই করতে হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এদিকে এক জরিপে উঠে এসেছে বেশি কাজ করেও কম মজুরি পায় গৃহকর্মীরা।
একজন গৃহকর্মী সপ্তাহে গড়ে ৫৮.১ ঘণ্টা কাজ করে, যা একজন কৃষি ও অকৃষি শ্রমিকের চেয়ে চার ঘণ্টা বেশি। অথচ বেশি কাজ করেও কৃষি শ্রমিকের চেয়ে ১.২৭ গুণ এবং পোশাক শ্রমিকের চেয়ে ২.০৯ গুণ কম মজুরি পায় গৃহকর্মীরা।
বাংলাদেশে গৃহকর্মীদের নিয়ে প্রথমবারের মতো পরিচালিত জরিপে উঠে আসা বৈষম্যের এ চিত্র তুলে ধরেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'উন্নয়ন অন্বেষণ'। এতে গৃহকর্মীদের অমানবিক জীবন তুলে ধরে তাদের শ্রমিক হিসেবে অধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে প্রিিতষ্ঠানটি।  
জরিপে দেখা যায়, একজন গৃহকর্মীর মাসিক আয় যেখানে দুই হাজার ৫৩৫ টাকা, সেখানে পোশাক শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি পাঁচ হাজার ৩০০ টাকা। অথচ খাটাখাটনি সবচেয়ে বেশি করে গৃহকর্মীরাই। এর পাশাপাশি একজন নারী গৃহকর্মী সপ্তাহে গড়ে ৬৩ ঘণ্টা কাজ করে, যা নারী কৃষি শ্রমিকের চেয়ে ৯ ঘণ্টা এবং অকৃষি শ্রমিকের চেয়ে ১২ ঘণ্টা বেশি। অথচ একজন নারী গৃহকর্মী যে মজুরি পায়, তা একজন কৃষি ও অকৃষি শ্রমিকের মজুরির যথাক্রমে ৫৬.২ ও ৩০.৮ শতাংশ মাত্র।
গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির মাঠপর্যায়ের জরিপ অনুযায়ী, ৫৭.৫ শতাংশ শিশু গৃহকর্মী দৈনিক ৯ ঘণ্টার বেশি সময় কাজ করে এবং ১২ শতাংশের কাজের নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। অথচ তারা মাসে গড় মজুরি পায় এক হাজার ১৮৫ টাকা। এমনিক ২৮.৭ শতাংশ শিশু গৃহকর্মী কোনো নিয়মিত মজুরি পায় না।
আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসকে ঘিরে প্রকাশ করা এসব তথ্য উঠে এসেছে প্রতিষ্ঠানটির 'ডমেস্টিক ওয়ার্কার্স : ডিভ্যালুয়েশন অ্যান্ড ডিসক্রিমিনেশন, স্টেট অব লেবার ইন বাংলাদেশ-২০১৪' নামক গবেষণা গ্রন্থে। বিভিন্ন পদ্ধতিতে দেশের সাতটি প্রশাসনিক বিভাগের সাতটি জেলায় জাতীয় পর্যায়ের জরিপটি করা হয়। এ ছাড়া মোট ৫৩৬ জন গৃহকর্মীর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়ছে। এর মধ্যে ১৮৯ জন গ্রাম এবং ৩৪৭ জন শহরের।
অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির ঝুঁকিতে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মধ্যবিত্তরা সঞ্চয় ভেঙে খাচ্ছে অথবা তাদের জীবনযাত্রার মান কমেছে। আর নিম্নবিত্তদের জীবনযাত্রার মান কমছেই। আগামীতে এটি আরও বাড়ার আশংকা রয়েছে। অর্থনীতিবিদরা হুসিয়ার করে দিয়েছেন, মূল্যস্ফীতি আরও বাড়লে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বেকার ও নির্দিষ্ট আয়ের শ্রমজীবি মানুষেরা।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হিসাবে ২০১৩-১৪ অর্থবছরের মার্চে খাদ্য পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৮৪, যা তার আগের মাসে ছিল ৮ দশমিক ৮১ শতাংশ। এর থেকে সহসা মুক্তি মেলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বর্তমানে নিত্যপণ্যের বাজারে ঊর্ধমুখী ভাব বিরাজ করছে।
এ প্রসঙ্গে অর্থনীতিবিদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. মির্জা আজিজুল ইসলাম টাইমনিউজবিডিকে বলেন, চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি বিরাজ করছে। রাজনৈতিক অবস্থার কারণে খাদ্য ও খাদ্য বহির্ভূত পণ্য বিতরণ ব্যবস্থায় বিঘ্রিত হওয়ায় মূল্যস্ফীতি হয়েছে। বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ফলে ক্রেতার ওপর এসে পড়েছে। তবে দেশের প্রথা হয়ে গেছে উৎপাদন খরচ বাড়লে তার চেয়ে বেশি বাড়ে মূল্যস্ফীতি।
তিনি বলেন, প্রথম দিকে সরকার স্বীকার না করলেও এখন বলছে দেশের অর্থনীতি সমস্যার মধ্যে রয়েছে। এটা ভালো দিক, তবে কেবল স্বীকার করলেই হবে না মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
মির্জা আজিজুল ইসলাম আরও বলেন, মূল্যস্ফীতি বাড়লে নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ এবং যাদের আয় নেই, তারাই বেশি ক্ষতির শিকার হয়।
দ্রব্যমূল্যের চাপে নুয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষ। আয় না বাড়লেও থেমে নেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্য বৃদ্ধি। প্রতিটি মানুষ পুড়ছে মূল্যের স্ফুলিঙ্গে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে এক নম্বর প্রতিশ্রুতি ছিল দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা হবে। সরকারের প্রতিশ্রুতির কোন প্রতিফলন হয়নি। ফলে সীমিত আয়ে উচ্চমূল্যে পণ্য ক্রয় করতে ভোক্তাকে কাটছাঁট করতে হচ্ছে পারিবারিক নানা দিকের বাজেট। অনেকে হিমশিম খাচ্ছে এই পরিস্থিতি উত্তরণ করতে।
সংশ্লিষ্টরা আরো বলেছেন, স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরে এসেও দেশের রাজনীতিবিদ ও শিল্প-কলকারখানার মালিকদের ভাগ্যের পরিবর্তন হলেও শ্রমজীবি মানুষেরা যেখানে ছিল, সেখানে রয়ে গেছে। তাদের রক্ত ভেজা ঘামে দেশের উন্নতি হলেও তাদের উন্নতির জন্য কেউ এগিয়ে আসেনি বরং বার বার অধিকার আদায় করতে গিয়ে সেই শ্রমিকদের রক্তে ভিজেছে রাজপথ।
[b]ঢাকা, ১ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]