[b]ঢাকা: [/b]চলতি বছরের পূর্বাভাসে জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদার হার বাড়িয়েছে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ)। প্রবৃদ্ধি বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে পণ্যটির চাহিদা বাড়বে উন্নত দেশগুলোয়। সার্বিক চাহিদায় এর প্রভাব পড়বে। প্যারিসভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক অয়েল মার্কেট রিপোর্টে এ পূর্বাভাস দেয়া হয়।
চলতি বছর বিশ্বে জ্বালানি তেলের চাহিদা থাকবে দৈনিক ৯ কোটি ২৫ লাখ ব্যারেল। গত মাসে এ পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছিল ৯ কোটি ১২ লাখ ব্যারেল। এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বার্কলেসের বিশেষজ্ঞ মিস্বিন মহেশ এক ই-মেইল বিবৃতিতে জানান, চলতি বছর বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ায় তেলের চাহিদা বাড়তে পারে।
শীর্ষ উৎপাদনকারী দেশগুলোয় উৎপাদন বাড়ায় সরবরাহও থাকবে বাড়তির দিকে। তাই পণ্যটির বাজারে চাহিদা ও সরবরাহে ভারসাম্য বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। গত বছর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। চলতি বছরও পণ্যটির দাম নিম্নমুখী থাকবে বলে তার ধারণা।
অর্গানাইজেশন অব পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজের (ওপেক) সদস্যভুক্ত দেশগুলো থেকে সরবরাহ করা জ্বালানি তেলের মাধ্যমেই এ চাহিদা পূরণ করতে হবে বলে আইইএ জানিয়েছে। বর্তমানে বৈশ্বিক জ্বালানি তেল সরবরাহের ৪০ শতাংশ আসে ওপেক থেকে। চলতি বছর বৈশ্বিক চাহিদা পূরণে এ অঞ্চল থেকে প্রয়োজন হবে দৈনিক ২ কোটি ৯৪ লাখ ব্যারেল।
আইইএর তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে ওপেকের তেল সরবরাহ পাঁচ মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো বেড়েছে। দেশটির পণ্য উৎপাদন ডিসেম্বরে ৩ লাখ ১০ হাজার ব্যারেল বেড়ে দাঁড়িয়েছে দৈনিক ২ কোটি ৯৮ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল। সৌদি আরব ও আরব আমিরাত থেকে এ সময় সরবরাহ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।
সৌদি আরবে গত মাসে তেল উত্তোলন নভেম্বরের তুলনায় ৭৫ হাজার ব্যারেল বেড়ে হয়েছে দৈনিক ৯৮ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল। ইরানে তেল উত্তোলন ৪০ হাজার ব্যারেল বেড়ে হয়েছে দৈনিক ২৭ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল। ওপেকের ১২ সদস্যের মধ্যে শুধু ইরাকেরই উত্তোলন কমেছে। ডিসেম্বরে দেশটির তেল উত্তোলন ২৫ হাজার ব্যারেল কমে দাঁড়ায় দৈনিক ৩০ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল।
২০১৪ সালে জ্বালানি তেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকবে চীনে।
দেশটিতে পণ্যটির দৈনিক চাহিদা গত বছরের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেড়ে ঠেকবে দৈনিক ১ কোটি ৪ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেলে। আইইএর প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, এ বছরই বেশির ভাগ উন্নত দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ গড়ে পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছবে। চলতি বছর ওপেকের বাইরের দেশগুলো থেকে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমতির দিকে থাকবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ব্রাজিলে পণ্যটির মোট উত্তোলন দৈনিক ১৭ লাখ বেড়ে ঠেকবে ৫ কোটি ৬৪ লাখ ব্যারেলে। এ পরিমাণ গত মাসের পূর্বাভাসের তুলনায় এক লাখ ব্যারেল কম।
আন্তর্জাতিক বাজারে গতকাল সোমবার জ্বালানি তেলের বাজারে ওঠানামা দেখা গেছে। নিউইয়র্কের মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে আগামী মার্চে সরবরাহের জন্য প্রতি ব্যারেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ৯ সেন্ট বেড়ে এদিন লেনদেন হয় ৯৬ ডলার ৭৩ সেন্টে। লন্ডনভিত্তিক আইসিই ফিউচার্স ইউরোপ এক্সচেঞ্জে একই সময় সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্টের দাম ৩৭ সেন্ট কমে হয় ১০৭ ডলার ৫১ সেন্ট। এছাড়া ইউরোপিয়ান বেঞ্চমার্কে প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআই লেনদেনে প্রিমিয়াম ছিল ১০ ডলার ৭৮ সেন্ট। সূত্র:ব্লুমবার্গ।
[b]টাইমনিউজবিডি/এসএমআর[/b]
অর্থনীতি
জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদার পূর্বাভাস বাড়াল আইইএ
চলতি বছরের পূর্বাভাসে জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদার হার বাড়িয়েছে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ)। প্রবৃদ্ধি বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে পণ্যটির চাহিদা বাড়বে উন্নত দেশগুলোয়। সার্বিক চাহিদায় এর প্রভাব পড়বে। প্যারিসভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক অয়েল মার্কেট রিপোর্টে এ পূর্বাভাস দেয়া হয়।





