নারী উদ্যোক্তাদের উদেশ্যে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, অর্থায়ন আপনাদের একটি বড় সমস্য। প্রয়োজনীয় ঋণের অভাবে অনেক সময় আপনাদের শিল্প উদ্যোগ বাধাগ্রস্থ হয়। তবে এসব সমস্য কাটিয়ে উঠতে সরকার কাজ করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে ‘বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কর্মার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিডব্লিউসিসিআই) প্রগ্রোসিভ অ্যাওয়ার্ড-২০১৩’ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রগ্রোসিভ অ্যাওয়ার্ড-২০১৩ অনুষ্ঠানটি স্পন্সর করেছে ইফাদ গ্রুপ।
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিডব্লিউসিসিআই এর সভাপতি সঙ্গীতা আহমেদ, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সেলিমা আহমাদ, গ্রীণডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ফারজানা চৌধুরী, ইফাদ গ্রুপের পরিচালক তাসফিন আহমেদ প্রমুখ।
শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারী উদ্যোক্তাদের বন্ধকী বা কোলেটারেল ছাড়া ঋণ দিতে চায় না। কিন্তু বর্তমান সরকার আপনাদের জন্য বন্ধকী ছাড়া ঋণের ব্যবস্থা করেছে। বর্তমানে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত বন্ধকী ছাড়া ঋণ দেয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে এর সীমা বাড়ানো হবে বলেও উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পায়নের ক্ষেত্রে নারীরা এখনো পিছিয়ে আছে। এরপরও সম্প্রতি শিল্প উদ্যোক্তা হিসেবে নারীদের অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়েছে। দেশের নারীরা এখন দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশে তাঁদের অর্জনের স্বীকৃতি পাচ্ছেন।
তিনি আরো বলেন, নারীদের পিছিয়ে থাকার মুলে কাজ করছে সাম্প্রদায়িকতা। নারীদের উন্নয়নে যখনই প্রগতিশীল কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চেয়েছে তখনই মোল্লার এর বিরোধীতা করে নারী উদ্যোক্তাদের এগুতে দেয়নি।
তাই তিনি সাম্প্রদায়িক মৌলবাদিরা আবার যেন মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে যে জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের এই বর্ষিয়ান নেতা।
বিডব্লিউসিসিআই এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সেলিমা আহমাদ বলেন, বাংলাদেশের নারীরা এগুচ্ছে না এগিয়ে গেছে। আরো এগিয়ে নিয়ার জন্য সরকারের সাপোর্ট লাগবে।
তিনি বলেন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সহজে নারী উদ্যোক্তারা ঋণ দিতে চায় না। ঋণ দিলেও সুদহার অনেক বেশি। আর নারী উদ্যোক্তাদের ঋণের ক্ষেত্রে গ্রেস পিরিয়ড ছয় মাস করার দাবি জানান তিনি।
সেলিমা আহমাদ বলেন, নারীরা এখন আর বুটিক ও বিউটি পার্লারে আবদ্ধ থাকতে চান না। তারা এখন বড় বড় শিল্প-কারখানা করতে চায়। তাই ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে নারী বান্ধব হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে শিল্পাঞ্চল এলাকায় নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ৩০ শতাংশ জায়গা বরাদ্ধ রাখার দাবি জানান।
[b]‘বিডব্লিউসিসিআই প্রগ্রোসিভ অ্যাওয়ার্ড-২০১৩’ পেলেন যারা[/b]
বরিশাল বিভাগ থেকে মামনি টেইলার্সের সত্তাধিকারি আয়মা আকতার, চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে আবির বুটিকস হাউসের মালিক শামিমা আরা লিপি, ঢাকা বিভাগ থেকে ভ্যানিটি ব্যাগ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বর্ণালী’র স্বত্তাধিকারি ফারজানা ফাতেমা, খুলনা বিভাগ থেকে তানজিমা হস্তশিল্পের প্রধান নির্বাহী তানজিমা জেসমিন, রংপুর বিভাগ থেকে কারু পণ্যের স্বত্তাধীকারী চন্দনা ঘোষ, রাজশাহী বিভাগ থেকে সংযুক্তা বুটিকস হাউসের স্বত্তাধীকারী মরিয়ম বেগম এবং সিলেট বিভাগ থেকে মোনালিসা লেডিস টেইলার্স এর স্বত্তাধীকারী ফরিদা আলম।
এছাড়া নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে শ্রেষ্ঠ প্রতিবেদনের জন্য ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া থেকে বৈশাখী টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার ইমতিয়াজ শাহরিয়ার ইমন ও প্রিন্ট মিডিয়া থেকে দৈনিক সমকালের স্টাফ রিপোর্টর শামসুল হক মো. মিরাজ।
প্রধান অতিথি শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু অ্যায়ার্ড প্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা, সনদ পত্র ও ক্রেস্ট তুলে দেন।
[b]ঢাকা, ২৪ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]





