চলতি অর্থবছরের আট মাসে (জুন-ফেব্রুয়ারি) ব্যাংক খাত থেকে নেয়া সরকারের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৬৮১ কোটি ৪১ লাখ টাকা। তবে বাংলাদেশ ব্যাংককে পরিশোধ করায় এ সময়ে সরকারের নিট ঋণ হয়েছে চার হাজার ৬৫৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। যা এর আগের মাস জানুয়ারি শেষে ছিল তিন হাজার ৪২৮ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে সরকারের ঋণের পরিমাণ বেড়েছে এক হাজার ২২৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদায়ী বছরে সরকারের ব্যাংক ঋণ নেয়ার প্রবণতা কম লক্ষ্য করা গেলেও এখন তা একটু একটু করে বাড়ছে। সম্প্রতি ঘোষিত মুদ্রানীতির কারণে তা ভবিষ্যতে আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। কেননা ঘোষিত নতুন মুদ্রানীতিতে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের হার আগের তুলনায় কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে ব্যাংকাররা তারল্য সংকটে পড়ার আশঙ্কা করছেন। তারা বলছেন, সরকারের অতিরিক্ত ব্যাংকমুখী ব্যাংকিং খাতের জন্য সুখকর না। এছাড়া ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে বেশি পরিমাণে ঋণ নেয়ার কারণে তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয়ও বাড়ছে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, সরকারের ঋণ দিয়ে যে পরিমাণ মুনাফা করা হচ্ছে, আমানত সংগ্রহ করতে ব্যয় হচ্ছে তার চেয়ে বেশি।
এতে দেখা যাচ্ছে সরকারের ঋণ দিতে গিয়ে তাদের নিট লোকসান হচ্ছে। আর এ লোকসান সমন্বয় করা হচ্ছে বেসরকারি খাত থেকে তুলনামূলক বেশি সুদ নিয়ে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. হাসান জামান বলেন, ঋণ গ্রহণের হার বাড়ানো হলেও বছর শেষে সরকারের ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়, ২০১৩-১৪ অর্থবছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরকারের ব্যাংকঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৯১ হাজার ৬৪০ কোটি ৬২ লাখ টাকা। যা জুন শেষেও ছিল ৭৭ হাজার ৯৫৯ কোটি ২১ লাখ টাকা। সে হিসেবে চলতি অর্থবছরের আট মাসে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণের স্থিতি বেড়েছে ১৩ হাজার ৬৮১ কোটি ৪১ লাখ টাকা।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আলোচ্য সময় পর্যন্ত ব্যাংক খাত থেকে সরকার ঋণ নিয়েছে এক লাখ ১৩ হাজার ৮৫২ কোটি ৫ লাখ টাকা, যা গত অর্থবছর শেষে ছিল এক লাখ ৯ হাজার ১৯৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা। সে হিসেবে আলোচ্য সময়ে সরকারের নিট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে চার হাজার ৬৫৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা হাজার ৪২৮ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অলোচ্য সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার বদলে উল্টো ধার পরিশোধ করেছে সরকার। এ সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পাওনা হিসেবে নয় হাজার ২৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার ঋণ হিসেবে পরিশোধ করেছে সরকার।
প্রসঙ্গত, বিদায়ী অর্থবছরে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ২৪ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা নিট ঋণ নিয়েছে সরকার। যা এর আগের অর্থবছরের বাজেটে ২৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। সে হিসেবে সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে লক্ষ্যমাত্রার দুই হাজার কোটি টাকা বেশি ঋণ নিয়েছে। তবে এই ঋণ সংশোধিত বাজেটের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম। কেননা চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার সময় সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ২৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা করা হয়েছে।
[b]ঢাকা, ৯ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]