আজ ০৯ মে, ২০১৬ সোমবার বিকাল ৩টায় 'ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিড্স' এর সহযোগিতায় ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ, ইউনাইটেড ফোরাম এগেইনেস্ট টোব্যাকো (উফাত) এবং প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) সম্মিলিতভাবে সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বাজেট ২০১৬-১৭: কেমন তামাক কর চাই’শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠক আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব এম এ মান্নান এম.পি.।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী (ঢাকা-৯), আব্দুল মতিন খসরু (কুমিল্লা-৫), মো: নবী নেওয়াজ (ঝিনাইদহ-৩), মোজাফ্ফর হোসেন পল্টু, সভাপতি, নাটাব, এবং ডা. অরূপ রতন চৌধুরী, সভাপতি, মানস। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রোকসানা কাদের, অতিরিক্ত সচিব (বিশ্বস্বাস্থ্য ও জনস্বাস্থ্য), স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। অনুষ্ঠানে নির্ধারিত বিষয়ে প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলিকুজ্জামান আহমদ এবং ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।

আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. রুমানা হক, অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং হাসান শাহরিয়ার, সমন্বয়ক, প্রজ্ঞা। জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। গোল টেবিল বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন এটিএন বাংলার প্রধান প্রতিবেদক এবং এন্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স- আত্মা’র কো-কনভেনর নাদিরা কিরন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ প্রতিমন্ত্রী জনাব এম এ মান্নান বলেন, আগামী বাজেটে তামাকের উপর কর বাড়ানোর জন্য সরকার গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ২০৪০ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করার লক্ষ্য বাস্তবায়নে মাননীয় অর্থমন্ত্রী ইতোমধ্যে আগামী বছরে বর্তমান টোব্যাকো-ট্যাক্স সিস্টেম পুরোপুরি বদলানো এবং স্লাব নির্ভর কর ব্যবস্থা আর না রাখার জন্য এনবিআরকে নির্দেশনা দিয়েছেন যা তামাক নিয়ন্ত্রণে সরকারের সদিচ্ছারই বহিপ্রকাশ বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়াও তামাকপণ্যের উপর বর্তমান ১% স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ ২% এ উন্নীত করা, তামাক পোড়ানোর চুল্লিপ্রতি বাৎসরিক ৫০০০ টাকা লাইসেন্সিং ফি আরোপ এবং সিগারেটের ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা বাতিলের বিষয়ে সরকার চিন্তা-ভাবনা করছে বলে তিনি জানান।

এক্ষেত্রে তিনি তামাক নিয়ন্ত্রণে কর্তরত সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, বহুজাতিক তামাক কোম্পানিতে সরকারের অংশীদারিত্ব বাতিল করার জন্য এক্ষুণি উপযুক্ত সময়। তিনি অবিলম্বে তামাক কোম্পানির শেয়ার পরিত্যাগের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

ড. কাজী খলিকুজ্জামান আহমদ বলেন, সিগারেটের উপর বিদ্যমান স্তরভিত্তিক করকাঠামো বাতিল করতে হবে।

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, তামাকপণ্যে কর বাড়ানো হলে স্বল্প মেয়াদে সরকারের রাজস্ব কমার কোনো সম্ভাবনা নেই।         

গোল টেবিল বৈঠকে ২০১৬-১৭ বাজেটকে সামনে রেখে তামাকপণ্যে করারোপ বিষয়ে নিম্নোক্ত প্রস্তাবনাসমূহ তুলে ধরা হয়:

 

# সিগারেটের করারোপের জন্য ব্যবহৃত মূল্যস্তর প্রথা তুলে দিতে হবে, এই মূলস্তর প্রথা কর ফাঁকির অন্যতম প্রধান হাতিয়ার।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ একটি বহুজাতিক তামাক কোম্পানি (বিএটিবি) মধ্যম স্তরের সিগারেট নিম্নস্তর হিসেবে দেখিয়ে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে। করারোপে স্তরভিত্তিক প্রথা চালু থাকায় এধরনের ঘটনা ঘটছে।

# সব ধরনের সিগারেটের উপর একই হারে অর্থাৎ খুচরা মূল্যের ৭০ শতাংশ সমপরিমাণ সুনির্দিষ্ট এক্সাইজ ট্যাক্স আরোপ করতে হবে।

# বিড়ির উপর খুচরা মূল্যের ৪০ শতাংশ সমপরিমাণ সুনির্দিষ্ট এক্সাইজ ট্যাক্স আরোপ করতে হবে।

# জর্দা এবং গুলের উপর খুচরা মূল্যের ৭০ শতাংশ সুনির্দিষ্ট এক্সাইজ ট্যাক্স আরোপ করতে হবে।

# আয় এবং সময়ের সাথে সঙ্গতি রেখে প্রকৃত মূল্য বৃদ্ধির জন্য তামাকপণ্যের মূল্য বাৎসরিক সমন্বয় করতে হবে।

# খাদ্য নিরাপত্তা সুসংহতকরণে তামাকের ওপর বিদ্যমান রপ্তানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশে উন্নীত করা।

# তামাকের চুল্লি প্রতি বাৎসরিক ৫ হাজার টাকা লাইসেন্সিং ফি আরোপ করা।

# তামাকের কর প্রশাসন শক্তিশালী করা, কর সংগ্রহ ব্যবস্থা উন্নত করা এবং কর ফাঁকি রোধকল্পে তামাকপণ্যের শুল্কমুক্ত বিক্রয় প্রথা তুলে দিয়ে করারোপ করা।

# তামাকপণ্যের উপর ২% স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ আরোপ করা। এখান থেকে আদায়কৃত অতিরিক্ত রাজস্ব আয় তামাক নিয়ন্ত্রণ এবং অসংক্রামক রোগ মোকাবেলায় ব্যয় করা।

ইআর/এমআইএস