হ্যাকড হয়ে যাওয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ১০ কোটি ডলার উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-এফবিআই’র সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এজন্য বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে যান বাংলাদেশ ব্যাংকের দুজন কর্মকর্তা।
এদিকে, ফিলিপাইনের অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিল- AMCL জানিয়েছে, হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের অর্থ পাচারের অভিযোগে, ছয় ব্যক্তি ও দুটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে জব্দ করা হয়েছে এদের সংশ্লিষ্ট সব ব্যাংক হিসাবও।
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ বা রিজার্ভের যতটুকু যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে জমা ছিল, তার একটা অংশ চুরি হয়েছে, সাইবার এ্যাটাকের মাধ্যমে। স্বাভাবিকভাবেই এখনও ঝুঁকিমুক্ত নয়, সেই অনলাইন ব্যবস্থা সুইফট। তাই বাংলাদেশ ব্যাংকসহ কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংক সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে তাদের সুইফট অপারেশন।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, চুরি যাওয়া অর্থ উদ্ধারে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে মার্কিন তদন্ত সংস্থা এফবি আইয়ের। একইসঙ্গে ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে, একটি প্রতিবেদন দিয়েছে অর্থমন্ত্রণালয়কে। তবে এ বিষয়ে ক্যামেরার সামনে বিস্তারিত জানাতে চায়নি বাংলাদেশ ব্যাংক।
এদিকে, ফিলিপাইনের ইনকোয়েরা পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ চুরি এ ঘটনায় ছয়জনকে নজরদারীতে রেখেছে ফিলিপাইনের মুদ্রাপাচারবিরোধী সংস্থা AMCL।
এরই মধ্যে ফিলিপাইনের চারটি ব্যাংকে থাকা তাদের সংশ্লিষ্ট সব ব্যাংক হিসাব ৬ মাসের জন্যে জব্দের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির আদালত।
সন্দেহের তালিকায় রয়েছে গো কোম্পানি ও সেঞ্চুরিটেক্স ট্রেডিং নামে দুটি প্রতিষ্ঠানও। কর্তৃপক্ষের দাবি, সন্দেহভাজন ছয়জন এই কোম্পানি দুটির ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করেছে। এজন্য প্রতিষ্ঠান দুটির সব হিসাবও জব্দ করা হয়েছে।
AMCL জানিয়েছে, হ্যাকাররা চুরি করা অর্থ ক্যাসিনোতে ব্যবহার করায়, পরিস্থিতি বেশ ঘোলাটে হয়ে আছে। ক্যাসিনো অ্যান্টি মানি লন্ডারিং আইনের আওতায় না থাকায়, প্রায় ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার কীভাবে আদায় হবে তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। তবে সংস্থাটি অর্থ উদ্ধারে সবাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এসটি





