ইসলামী ব্যাংক বরাবরই বিনিয়োগকারীদের ভালো লভ্যাংশ দিয়ে আসছিল। এ বছরও তেমনই প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তির ফারাকে বিনিয়োগকারীরা হতাশ। এ কারণে গতকাল রোববার ব্যাংকটির শেয়ারে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে।
গতকাল ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংক ঘুরে দেখা গেছে, বিনিয়োগকারীরা ইসলামী ব্যাংকের লভ্যাংশ কমে যাওয়ায় হতাশ ও বিরক্ত। তারা বিষোদ্গার করছেন পরিচালনা পর্ষদের। প্রসঙ্গত গত বৃহস্পতিবার ইসলামী ব্যাংকের নতুন পরিচালনা পর্ষদ ২০১৬ সালে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। এদিকে ব্যাংকটির শেয়ারের মূল্য গতকাল ১২ দশমিক ৪১ শতাংশ বা ৪ টাকা ৮০ পয়সা কমেছে। গতকাল শেষ লেনদেন হয়েছে ৩৬ টাকায়।
জানা গেছে, ১৯৮৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির পর ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করলেও পরের বছরগুলোতে অল্পবিস্তর বেড়েছে কোম্পানিটির লভ্যাংশ। ২০১৫ সালে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। এ ছাড়া ২০১২ সালে ১৭ শতাংশ বোনাস শেয়ার দিয়েছিল। ২০০৩, ২০০৪ ও ২০০৯ সালে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২০ শতাংশ, ২০০৫, ২০০৭ এবং ২০১১ সালে ২৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার দিয়েছিল। ২০০৮ সালে ৩০ শতাংশ এবং ২০১০ সালে ৩৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার দিয়েছিল ব্যাংকটি। ফলে এ বছরও বিনিয়োগকারীরা ভালো লভ্যাংশের প্রত্যাশা করেছিলেন।
এ বিষয়ে পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের প্রেসিডেন্ট মিজান উর রশিদ বলেন, ইসলামী ব্যাংক প্রতিবছর ভালো লভ্যাংশ দেয়। ব্যাংকটির ব্যবসা ভালো, ইপিএস ভালো, এনএভি ভালো। কিন্তু এরপরও কেন লভ্যাংশ কমেছে সে বিষয়ে নজরদারি করা উচিত।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গতকাল সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে পুঁজিবাজারে সূচকের বড় পতনের কারণ ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। এদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্য সূচক (ডিএসইএক্স) ২৮ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৬৯১ পয়েন্টে অবস্থান করেছে। ডিএসইতে দর হারানোর শীর্ষে (লুজার) উঠে এসেছে ইসলামী ব্যাংক। কোম্পানির শেয়ারের দর কমেছে ১২ দশমিক ৪১ শতাংশ। বৃহস্পতিবার ব্যাংকটির শেয়ারের সমাপনী মূল্য ছিল ৪১ দশমিক ১ টাকা, যা গতকাল লেনদেন শেষে দাঁড়ায় ৩৬ টাকায়। এ দিন কোম্পানির শেয়ার ৩৪ টাকা থেকে ৩৮ টাকায় লেনদেন হয়।
ব্যাংকটির প্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০১৬ সালে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে এককভাবে ২ টাকা ৭৭ পয়সা আর সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৭৮ পয়সা। এর আগের বছর একই সময়ে ব্যাংকটির এককভাবে ইপিএস ছিল ২ টাকা ৪ পয়সা এবং সমন্বিত ইপিএস ২ টাকা ৪ পয়সা। গত বছরের তুলনায় ব্যাংকটির ইপিএস ৩৬ শতাংশ বেড়েছে।
বিদায়ী বছরে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি প্রকৃত সম্পদমূল্য (এনএভি) হয়েছে এককভাবে ৩০ টাকা ২৭ পয়সা এবং সমন্বিত ৩০ টাকা ৩৪ পয়সা। এর আগের বছর একই সময়ে এককভাবে এনএভি ছিল ২৯ টাকা ৪৮ পয়সা এবং সমন্বিত ২৯ টাকা ৫৪ পয়সা। একই সঙ্গে নেট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো বা নগদ কার্যকর প্রবাহ শেয়ারপ্রতি এককভাবে হয়েছে (ঋণাত্মক) ৬ টাকা ৭৭ পয়সা এবং সমন্বিত (ঋণাত্মক) ৬ টাকা ৮১ পয়সা। এর আগের বছর ছিল এককভাবে ৭ টাকা ২০ পয়সা এবং সমন্বিত ৮ টাকা ৮৪ পয়সা।
জারিফ





