দেশে আস্থাশীল রাজনৈতিক পরিবেশ না থাকায় সরকারি খাতে বাড়লেও বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ছে না বলে মনে করে গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
সংস্থাটি বলছে, অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা কমলেও অনিশ্চয়তা কাটেনি। এতে ব্যবসায়ীরা মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছেন না। একটি সমঝোতামূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলেই এ আস্থার অভাব কেটে যাবে।
সিডিপির ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরের তৃতীয় অন্তর্বর্তীকালীন পর্যালোচনা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এমন মত প্রকাশ পেয়েছে।
রোববার রাজধানীর ব্র্র্যাক ইন সেন্টারে ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি ২০১৩-১৪ তৃতীয় অন্তবর্তীকালীন পর্যালোচনা’ রিপোর্ট প্রকাশকালে এ কথা জানান সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান।
লিখিত বক্তব্যে ড. মোস্তাফিজ বলেন, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিনিয়োগ একেবারে মুখ থুবরে পড়েছে। তৃতীয় প্রান্তিকে এসে অস্থিরতা কমলে কাটেনি অনিশ্চয়তা। আর এ কারণে দেশে ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগ বাড়ছে না।
রিপোর্টে বলা হয়, বাংলাদেশে জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার গত কয়েকবছর ৬ শতাংশের আশেপাশেই ঘুরছে। আর চলতি অর্থবছরে এ প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশেরও কম হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। এটার জন্য অভ্যন্তরীণ সব বিষয়গুলোইতে রয়েছে।
আর অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোতে প্রবৃদ্ধি না হওয়ার জন্য বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্বল প্রক্রিয়া, বাজেটের ঘাটতি অর্থায়ন বিন্যাসের সঠিক রুপরেখা না থাকা ও সংস্কারের দুর্বলতাই দায়ি।
তৈরিপোশাক ছাড়াও রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণে জোর দিয়েছে সিপিডি। তাদের মতে, তৈরিপোশাকের পর চামড়া ও জুতা শিল্প হতে পারে প্রধান রপ্তানি পণ্য। পাশাপাশি দক্ষিণ-দক্ষিণ বাণিজ্য বাড়ানোর সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।
জ্বালানি খাতের উন্নয়ন করতে গিয়ে যেন দাম না বাড়ে এবং বাড়তি দাম যাতে উৎপাদক ও ভোক্তার ওপর এসে না পড়ে সেদিকে নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে সিডিপি। যথাযথ তদারকি ও প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা নেয়া না হলে ২০২৮ সালের পর জ্বালানির মজুদ থাকবে না বলেও প্রতিবেদনে আশঙ্কা করা হয়।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্থাটির গবেষণা পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, জ্যেষ্ঠ গবেষক তৌফিকুল ইসলাম খান, অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।
[b]ঢাকা, ১ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]