এক বছরে তৃতীয়বারের মতো বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটনভিত্তিক সংস্থাটি সতর্ক করে, বিশ্বের সব প্রান্তে পুনরুদ্ধার একই গতিতে এগোচ্ছে না এবং প্রবৃদ্ধি কমার ঝুঁকি তিন মাস আগের তুলনায় বেড়েছে।

হালনাগাদ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে আইএমএফ বলে, ২০১৪ সালে বিশ্ব অর্থনীতির আকার ৩ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা জুলাইয়ের পূর্বাভাসের চেয়ে দশমিক ১ পয়েন্ট কম। এপ্রিল প্রতিবেদনেও এ পূর্বাভাস কমিয়েছিল আইএমএফের অর্থনীতিবিদরা।

জুলাইয়ে ২০১৫ সালের বৈশ্বিক জিডিপিতে ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি আশা করলেও ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জগুলোর কথা মাথায় রেখে আইএমএফ এখন বলছে তা ৩ দশমিক ৮ শতাংশ হতে পারে। গত তিন বছরে আইএমএফ ১২টি পূর্বাভাসের মধ্যে নয়বারই বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি পূর্ববর্তী প্রত্যাশার তুলনায় কমবে বলে সতর্ক করেছে।

সর্বশেষ প্রতিবেদনে আইএমএফ বলে, ২০১৪ সালের প্রথমার্ধে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আশানুরূপ না বাড়ায় প্রবৃদ্ধি কমার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট অর্থনীতিবিদরা।

আইএমএফ আরো বলে, দেশভেদে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের গতিতে আগের চেয়ে বেশি তফাত দেখা যাচ্ছে। একেক দেশের একেক রকম চ্যালেঞ্জ বৈশ্বিক পুনরুদ্ধারকে আরো চাপের মুখে ফেলছে।

চলতি বছর উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর গড় প্রবৃদ্ধি হবে ১ দশমিক ৮ শতাংশ, যা পূর্ববর্তী পূর্বাভাসের সমান। তবে জুলাইয়ে ২০১৫ সালে উন্নত বিশ্বের জিডিপি ২ দশমিক ৪ শতাংশ পর্যন্ত আশা করলেও সর্বশেষ পূর্বাভাসে তা ২ দশমিক ৩ শতাংশে নামিয়ে এনেছে আইএমএফ।

এদিকে বিকাশমান অর্থনীতিগুলোর গড় প্রবৃদ্ধি চলতি বছর থাকবে ৪ দশমিক ৪ এবং ২০১৫ সালে ৫ শতাংশ। উভয় ক্ষেত্রেই জুলাইয়ের পূর্বাভাসের চেয়ে কম প্রবৃদ্ধি আশা করা হচ্ছে। তবে পূর্বাভাস কমে এলেও বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিতে সিংহভাগ অবদান থাকবে উন্নয়নশীল ও উদীয়মান অর্থনীতিগুলোরই।

‘প্রবৃদ্ধির পাওয়ার হাউস’ চীনের প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস চলতি বছরের জন্য ৭ দশমিক ৪ শতাংশ এবং আগামী বছরের জন্য ৭ দশমিক ১ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে আইএমএফ। তবে এপ্রিলে উভয় ক্ষেত্রেই বেশি প্রবৃদ্ধি আশা করছিল তারা। আইএমএফের প্রধান অর্থনীতিবিদ অলিভার ব্ল্যানচার্ড বলেন, পরিবর্তিত পরিকল্পনা ও পরিস্থিতির প্রভাবে চীনের প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমলেও তা যথেষ্ট থাকবে।

ব্ল্যানচার্ড আরো বলেন, উন্নত বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য পুনরুদ্ধারে সবচেয়ে এগিয়ে থাকলেও তাদের প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা গত দশকের প্রথম দিকের তুলনায় কম বলে মন্তব্য করেছে আইএমএফ। ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি ২ দশমিক ২ শতাংশ বাড়বে, যা জুলাই পূর্বাভাসের তুলনায় দশমিক ৫ পয়েন্ট বেশি। ২০১৫ সালেও যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সক্ষম হবে (৩ দশমিক ১ শতাংশ)।

ইউরো অঞ্চলের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও এর গতি পূর্ববর্তী প্রত্যাশার তুলনায় কমে আসবে। চলতি এবং আগামী বছরে মুদ্রা ব্লকটির প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস যথাক্রমে দশমিক ৮ এবং ১ দশমিক ৩ শতাংশে নামিয়ে এনেছে আইএমএফ।

দেশভেদে ভিন্ন চিত্র উন্ননয়শীল ও বিকাশমান অর্থনীতিগুলোর ক্ষেত্রেও দেখছেন ব্ল্যানচার্ডরা। ২০১৪ সালে চীনের ৭ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির বিপরীতে ভারতের ৫ দশমিক ৬, লাতিন ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ১ দশমিক ৩ এবং রাশিয়ার দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস এরই একটি প্রতিফলন।

বিকাশমান বাজারগুলোর গড় প্রবৃদ্ধিও এখন ২০১১ সালের তুলনায় শতকরা ১ দশমিক ৫ পয়েন্ট কম। নচলতি এবং আগামী বছরের প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস কমেছে জাপানেরও।

সূত্র: বিবিসি ও সিনহুয়া।

ঢাকা, ৯ অক্টোবর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএমআর