চলতি ২০১৪ সালে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়াবে ৫.৬ শতাংশে। এমনই পূর্বাভাস দিয়েছে এশিয়ান ডেভলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)।
সংস্থাটি বলেছে, রেমিট্যান্স প্রবাহ কমার ধারা অব্যাহত ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বছরের অর্ধেক সময় পর্যন্ত কমে যাওয়া এবং ভোগ্যপণ্য, মূলধনী যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি কমে যাওয়া এর কারণ। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত এডিবি’র কার্যালয়ে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ পূর্বাভাস তুলে ধরা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, এডিবির ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর ওলেগ টনকনওজেননোভ, ইকনোমিক আউট লুক তুলে ধরেন চিফ ইকনোমিক জাহিদ হোসেন।
ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর বলেন, বাংলাদেশকে এ মুহূর্তে অবকাঠামো খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগে মনোযোগী হওয়া উচিত। এ ছাড়া উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের দক্ষতা বাড়ানো দরকার। পাশাপাশি অবশ্যই ট্যাক্স পলিসির ক্ষেত্রে সংস্কারের সঙ্গে কর প্রশাসনকে শক্তিশালী করা উচিত।
বাংলাদেশের অর্থনীতির ক্ষেত্রে প্রধান তিনটি ঝুঁকির কথা তুলে ধরেছে এডিবি।
বলা হয়েছে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা যদি বজায় না থাকে তাহলে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়ে যাবে এবং মূল্যস্ফীতি বাড়বে। রাজস্ব আদায় বাড়ানোকেও ঝুঁকি হিসেবে মনে করা হচ্ছে। তা ছাড়া বৈদেশিক অর্থায়ন বৃদ্ধি করাও একটি চ্যালেঞ্জ। সব কিছুর উপরে রাজনৈতিক আবহাওয়া অনুকুলে না থাকলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হবে।
এডিবি বলেছে, ২০১৫ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ২ শতাংশে। যদি রেমিটেন্স প্রবাহ এবং রফতানি বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি আমেরিকা ও ইউরোপের মন্দা অবস্থা পূনরুদ্ধার হয়।
খাতভিক্তিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, কৃষিখাতে প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ২ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ৩ শতাংশে। শিল্পের প্রবৃদ্ধি ৯ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়াবে ৮ শতাংশে। সেবাখাতের প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়াবে ৫ দশমিক ৪ শতাংশে। আশা করা হচ্ছে, শিল্পখাতের প্রবৃদ্ধি ২০১৫ সালে বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৯ শতাংশে।
মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালে গড় মূল্যস্ফীতি বর্তমানের ৬ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে। সরকারি বেসরকারি বেতন বৃদ্ধি ও বিদ্যুৎ এবং জ্বালানির মূল্য বাড়ার কারণেই ২০১৪ সালে গড় মূল্যস্ফীতি বাড়বে।
[b]ঢাকা, ১ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]