নতুন বাজটে বড় অঙ্কের আয়কর আহরণের চ্যালেঞ্জ নিচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন অর্থবছরে প্রায় ৬৫ হাজার কোটি টাকা আয়কর আহরণ করবে রাজস্ব আহরণকারী সংস্থাটি। এ হিসাবে চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় দেড় গুণ রাজস্ব সংগ্রহ করতে চায় এনবিআর। তবে চলতি অর্থবছর এ খাতের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সংশয়ে রয়েছে আয়কর বিভাগ।
সূত্র জানায়, এনবিআরের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৩৫ শতাংশ বা ২২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা করপোরেট, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আহরণ করা হবে। বৃহৎ করদাতা ইউনিটের (এলটিইউ) আওতায় থাকা ৭০০ ব্যক্তি ও ৩০০ কোম্পানি করদাতার কাছ থেকেই আদায় হবে এ অর্থ।
এ জন্য বছরজুড়ে করপোরেট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর কঠোর নজরদারি করবে এনবিআরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। এলটিইউ থেকে চলতি অর্থবছরে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ করার জন্য কাজ চলছে।
উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরে পুনর্নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ করবে এনবিআর। এর মধ্যে শুল্ক ৩২ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা, ভ্যাট ৪৬ হাজার ৮৫০ কোটি, আয়কর ৪৪ হাজার ৩৬০ কোটি ও অন্যান্য কর ৯২০ কোটি টাকা। রাজস্ব আহরণের এ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৬৮ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা আহরিত হয়েছে। অর্থবছরের বাকি সময়ে ৫৬ হাজার ৫৫৬ কোটি টাকা আহরণ করতে হবে। এ সময়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ।
জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের বাজেটে প্রায় ৩৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে বাজেটে ৪৮ হাজার ৩০০ কোটি টাকা আয়কর আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে এনবিআর। যদিও বর্তমানে আয়করে প্রবৃদ্ধি ১৪ শতাংশ। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আহরণ না হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ৪৪ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা নির্ধারণ করে।
গবেষণা ও পরিসংখ্যান বিভাগের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে আয়করে গত বছরের একই মাসের তুলনায় ২৫৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা কম আহরণ হয়েছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে কর বিভাগ আয়কর পেয়েছিল ২ হাজার ৮২২ কোটি ৫২ লাখ টাকা। সেখানে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ২ হাজার ৫৬৮ কোটি ১৬ লাখ টাকা আহরণ করা হয়। এ হিসাবে ৯ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ফেব্রুয়ারিতে। জানা গেছে, এনবিআর চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে গত আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) আয়কর আহরিত হয়েছে ২৫ হাজার ৬৬ কোটি টাকা।
এ হিসাবে অর্থবছরের বাকি সময়ে আয়কর খাতেই আহরণ করতে হবে ১৯ হাজার ২৯৪ কোটি টাকা, যা অসম্ভব বলে মনে করছেন মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
এরই মধ্যে অধিকাংশ কর অঞ্চল লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আহরণ অসম্ভব জানিয়ে চিঠি দিয়েছে।
সেখানে মাঠ পর্যায়ের বেঁধে দেয়া লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে পুনর্নির্ধারণের অনুরোধ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের চাপে এনবিআর বড় অঙ্কের আয়কর আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যা অনেকটাই অসম্ভব। কারণ বড় অঙ্কের রাজস্ব আহরণে করজাল বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। সে অনুযায়ী কর বিভাগকে সম্প্রসারণ করা হয়নি। একই সঙ্গে জনবল দেয়া হয়নি।
এসব সমস্যা দূর না করে বড় রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা দিলে সেটি অর্জন করা অসম্ভব। তা না হলে অর্থবছরের শেষের দিকে লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে আনতে হবে, যা পুরো সামষ্টিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি করবে। একই সঙ্গে বাজেট ঘাটতি বেড়ে যাবে।
[b]ঢাকা, ৩ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]
অর্থনীতি
বাজেটে আয়কর আহরণের লক্ষ্যমাত্রা দেড় গুণ বাড়ছে
নতুন বাজটে বড় অঙ্কের আয়কর আহরণের চ্যালেঞ্জ নিচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন অর্থবছরে প্রায় ৬৫ হাজার কোটি টাকা আয়কর আহরণ করবে রাজস্ব আহরণকারী সংস্থাটি। এ হিসাবে চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় দেড় গুণ রাজস্ব সংগ্রহ করতে চায় এনবিআর। তবে চলতি অর্থবছর এ খাতের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সংশয়ে রয়েছে আয়কর বিভাগ।





