রানা প্লাজায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য চার কোটি ডলারের তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সাথে আন্তর্জাতিক ওই তহবিলে অংশ নিতে বিদেশি ক্রেতা-প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএর পক্ষে বিজিএমইএর সভাপতি আতিকুল ইসলাম এই অনুরোধ জানান। শনিবার বিজিএমইএ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পোশাক খাত-সংশ্লিষ্ট তিনটি সংগঠন এ অনুরোধ জানায়।
আতিকুল ইসলাম বলেন, রানা প্লাজায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য চার কোটি ডলারের তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই এ তহবিল থেকে সহায়তা দেওয়া শুরু হবে। পোশাক শিল্পের সব ব্র্যান্ড এ ব্যাপারে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এ সময় শেয়ারড বিল্ডিংয়ে থাকা কারখানাগুলো থেকে কাজ সরিয়ে নেওয়া বন্ধ করে পোশাকের দাম বাড়াতে বিদেশি ক্রেতাদের প্রতি আহ্বান মো. আতিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, এখনও প্রায় ৩০ শতাংশ কারখানা শেয়ারড বিল্ডিংয়ে, যেখানে কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা ১৫ লাখ। শ্রমিকদের স্বার্থেই কার্যাদেশ বাতিল না করে পোশাকের দাম বৃদ্ধি করুন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার শেয়ারড বিল্ডিংয়ে থাকা ৫৭টি কারখানা থেকে গত ছয় মাসে ১১ কোটি ডলারের কার্যাদেশ বাতিল হয়েছে অভিযোগ করেন বিজিএমইএ সভাপতি।
একই সঙ্গে পোশাক কারখানা ও অন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে এমন ভবনকে শেয়ারড বিল্ডিং বলা হয়। সব পোশাক কারখানা একক ভবনে স্থানান্তরের জন্য বিদেশি ক্রেতাদের চাপ রয়েছে।
আতিকুল ইসলাম বলেন, গত ৪ বছরে পোশাক শ্রমিকদের বেতন বেড়েছে ২১৯ শতাংশ। গ্যাস-বিদ্যুৎসহ অন্যান্য খরচ বেড়েছে ৩৫ শতাংশ। এই হিসেবে উৎপাদন খরচ বেড়েছে ১৮ শতাংশ। এছাড়া ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে পোশাকের দাম কমেছে পাঁচ শতাংশ। এই অবস্থায় শেয়ার্ড বিল্ডিংয়ের জন্য কার্যাদেশ বাতিল না করে পোশাকের দাম বাড়ানো আবশ্যক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে ক্রেতাদের উদ্দেশে বলেন, মুখেই শুধু সহানুভূতি প্রকাশ নয়, কার্যকরভাবে শ্রমিকদের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়ান। রানা প্লাজার ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের জন্য গঠিত তহবিল সহায়তায় ক্রেতাদের প্রতি আহ্বান জানান
আতিকুল ইসলাম আরও বলেন, পোশাকশিল্পে গত আট বছরে ৩৮টি ট্রেড ইউনিয়ন গঠিত হয়েছে। আর চলতি বছরে হয়েছে ১৫০টি। ক্রেতারা এ কাজগুলো দেখছেন না।
সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএর সভাপতি তিন সংগঠনের পক্ষে রানা প্লাজা ধসের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে ২৪ এপ্রিল বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এর মধ্যে শোক র্যলি, স্মরণসভা, দেশের সব পোশাক কারখানায় দোয়া মাহফিল ও শ্রম প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে জুরাইনে কবর জিয়ারত উল্লেখযোগ্য।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মিকাইল শিপার বলেন, শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সরকারি মানদণ্ড নিম্নমানের। তাই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সহায়তা দেওয়া হবে। সেই লক্ষ্যে এক কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার তহবিলে জমা পড়েছে। আমি আশাবাদী, চার কোটি ডলার পর্যন্ত তহবিল সংগ্রহ হবে।
শ্রমসচিব আরও বলেন, শ্রম আইন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের এক লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি আমরা রক্ষা করতে পেরেছি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে যে অর্থ দেওয়া হয়েছে, তা ‘রানা প্লাজা ডোনারস ট্রাস্ট ফান্ড’-এর সঙ্গে সমন্বয় করার কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে সব তথ্য তহবিলের দায়িত্বপ্রাপ্তদের দেওয়া হবে। তাঁরা যদি মনে করেন এই অর্থ কেটে নেবেন, নিতে পারেন। আবার না-ও নিতে পারেন।
সংবাদ সম্মেলনে শ্রমসচিব মিকাইল শিপার, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বর্তমান সহসভাপতি এস এম মান্নান ও শহিদুল্লাহ আজিম, বিকেএমইএর সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। তবে বিটিএমইএর কোনো নেতা উপস্থিত ছিলেন না।
[b]ঢাকা, ১৯ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]
অর্থনীতি
রানা প্লাজা ধস: ৪ কোটি ডলার তহবিল গঠনের উদ্যোগ
রানা প্লাজায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য চার কোটি ডলারের তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সাথে আন্তর্জাতিক ওই তহবিলে অংশ নিতে বিদেশি ক্রেতা-প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানানো হয়েছে





