ধারাবাহিকভাবে পতনে রয়েছে দেশের পুঁজিবাজার। ৭ কার্যদিবস একটানা অব্যাহত পতনে রয়েছে দেশের উভয় শেয়ারবাজারের সূচক। সূচকের সঙ্গে প্রতি কার্যদিবসেই কমছে টাকার পরিমাণে লেনদেনের পরিমাণ। একই সঙ্গে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর পতনেই রয়েছে।
সোমবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) টাকার পরিমাণে লেনদেন দীর্ঘ ৭ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নিষ্ক্রিয়তার কারণে পুঁজিবাজারে পতনের কারণ বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
বাজার বিশ্লেষনে দেখা গেছে,  ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) টাকার পরিমাণে লেনদেন হয়েছে ২১৭ কোটি ৭ লাখ টাকার। এর আগে ২০১৩ সালের ২২ অক্টোবর ১৮৮ কোটি ৮২ লাখ টাকার লেনদেন হয়। ডিএসইর আজকের লেনদেন দীর্ঘ ৬ মাস ২৭ দিন বা ১৩৯ কার্যদিবসের মধ্যে সর্বনিম্ন। সোমবার ডিএসইর সঙ্গে সিএসইতেও লেনদেন কমেছে। সিএসইতে টাকার পরিমাণে লেনদেন হয়েছে ১৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।
ডিএসইতে ব্রড ইনডেক্স ৩৮ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৪৩৬৪ পয়েন্টে। ডিএসইতে মোট ২৯৩টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৮৪টি, কমেছে ১৭৮টি আর অপরিবর্তিত রয়েছে ৩১টি কোম্পানির শেয়ারের।
গতকাল রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ব্রড ইনডেক্স কমেছিল ১৪ পয়েন্ট। এদিন মোট লেনদেন হয় ২২৯ কোটি ১৯ লাখ টাকার।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন,  শেয়ারবাজারে ১৪ কার্যদিবসের মধ্যে সূচক কমে ১১ কার্যদিবস আর সূচক বাড়ে ২ কার্যদিবস। এর মধ্যে এক কার্যদিবস সূচক অপরিবর্তিত ছিল। এদিকে গত ২৪ এপ্রিল বাজারে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৬৭৩ কোটি টাকা এবং ১৮ মে তা কমে দাঁড়ায় ২২৯ কোটি টাকা। ১৪ কার্যদিবসের ব্যবধানে বাজারে লেনদেন কমেছে প্রায় তিনভাগের দুভাগ।
তাদের মতে, সাম্প্রতিক বাজারে তালিকাভুক্ত মিউচ্যুয়াল ফান্ডের সংখ্যা ৪১টি। ব্যাংকের সংখ্যা ৩০টি এবং ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউটের সংখ্যা ২৩টি। সব মিলিয়ে প্রায় ৯৪টি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী বাজারে অবস্থান করছে। তারা যদি ৫ কোটি টাকা করেও লেনদেন করতো, তাহলে এর পরিমাণ দাঁড়াতো ৫০০ কোটি টাকা।
এছাড়া আছে বড় বিনিয়োগকারী, বিদেশী বিনিয়োগকারী এবং কয়েক লাখ সাধারণ বিনিয়োগকারী। কিন্ত সব মিলিয়ে বাজারে মোট ২০০ কোটি টাকা লেনদেন হওয়া প্রমাণ করে বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী মোটেও সক্রিয় নয়। তাদের নিষ্ক্রিয়তার কারণে বাজারের সূচক এবং লেনদেন প্রতিদিন নিম্নমুখী হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।
এ ব্যাপারে বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজানুর রশিদ বলেন,  প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাজ হলো বাজারের ক্রান্তিকালে তারা বাজারকে সাপোর্ট দেবে এবং অনাকাক্সিক্ষত পতন রোধ করবে। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা তা না করে তারাও ডে-ট্রেডারের মতো আচরণ করছে।
যে কারণে বাজারে পতন গত সাড়ে ৩ বছরেরও রোধ করা সম্ভব হয়নি। তাদের ডে-ট্রেডারের এ ধরনের আচরণ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে, তবে বাজারে স্থিতিশীলতা আসবে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক ৬১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৮৪০৭ পয়েন্টে। সিএসইতে মোট ২০৯টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৪৯টির, কমেছে ১৩৮টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ২২টি কোম্পানির শেয়ারের।
[b]ঢাকা, ১৯ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]