টানা অবরোধ আর হরতালের কারণে বেনাপোল কাস্টমস হাউসে চলতি অর্থ বছরে ৮৬ দিনে ১৯ কোটি টাকার রাজস্ব আয় কম হযেছে। ৩১ ডিসেম্বর -২০১৪ পর্যন্ত রাজস্ব আয় ৬২ কোটি টাকা উদ্বৃত ছিল।
বিএনপি নেতৃত্বাধিন ২০ দলীয় জোটের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধ আর দফায় দফায় হরতালের কারণে চলতি অর্থ বছরে গত ৮৬ দিনে বেনাপোল কাস্টম হাউসে লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে ১৯ কোটি টাকা কম রাজস্ব আদায় হয়েছে।
জানুয়ারি (২০১৫) মাসে ১৯৭ কোটি ২১ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১৭২ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। ফেব্রুয়ারি মাসে ২১৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১৮৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। মার্চ মাসে ২৫৯ কোটি টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ২১৪ কোটি টাকা। ৮৬ দিনে সব মিলিয়ে ১৯ কোটি টাকা রাজস্ব আয় কম হযেছে।
বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি আলহাজ্ব মফিজুর রহমান সজন বলেন, লাগাতার অবরোধ আর দফায় দফায় হরতালের কারণে গত ৮৬ দিনে বেনাপোল কাষ্টমস হাউস রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্য পূরণ করতে পারিনি। অবরোধ-হরতাল কেটে গেলে বন্দর রাজস্ব আদায়ে আবার স্বাভাবিক হয়ে আসবে। তবে বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের দাবিকৃত ক্লিয়ারিং হাউস চালু হলে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা কয়েকগুন বাড়বে।
তিনি আরো বলেন, রাসায়নিক পরীক্ষা ও আমদানিকৃত পণ্যের ওপর কাস্টম কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত লোড না চাপালে রাজস্ব আদায় বাড়বে কয়েকগুন। সবার আন্তরিকতা থাকলে আমদানি-রফতানি কার্যক্রমের গতিশীলতা যেমন বাড়বে তেমনি সরকারের রাজস্ব আদায়ও বেড়ে যাবে।
বেনাপোলে আমদানি রফতানি কারক সমিতির সহ-সভাপতি আমিুনল হক জানান এ বন্দর দিয়ে কাঁচা ফলমুল আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, সীমান্তে চোরাচালান বন্ধ, বেনাপোল স্থলবন্দরের নানা বিড়ম্বনা, অনৈতিক সুযোগ গ্রহণ, ইক্যুইপমেন্ট সমস্যা, চুরিরোধসহ সুযোগ-সুবিধা বাড়লে আমদানি-রফতানির পরিমাণ বৃদ্ধির সাথে সাথে বাড়বে রাজস্ব আদায়ও।
বেনাপোল কাস্টম হাউজের যুগ্ম কমিশনার সৈয়দ আতিকুর রহমান জানান, দেশের অবরোধ হরতাল অব্যহত থাকলে আগামীতে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরণের ধস নামবে। আর যদি বর্তমান সমস্যা দ্রুত কেটে যায় তাহলে রাজস্ব আদায় আবার গতিশীলতা ফিরে পাবে।
এআর





