ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রীতি সম্মিলনী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের মোহাম্মদ ইউনুছ অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মুস্তাফা আনোয়ার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন- এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. ইসকান্দার আলী খান, ডিরেক্টর মো. আবুল হোসেন, স্পন্সর জাকিউদ্দিন আহমেদ ও ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ দাউদ খান, সাবেক প্রধান নির্বাহী এম আযীযুল হক, এম কামাল উদ্দিন চৌধুরী ও এম ফরিদ উদ্দিন আহমেদসহ ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ও উর্ধ্বতন নির্বাহীরা। ব্যাংকের বর্তমান ও সাবেক নির্বাহীগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ব্যাংকের পাঁচটি নতুন প্রোডাক্ট ও একটি মোবাইল অ্যাপস উদ্বোধন করা হয়। সকল শাখা ও জোন কার্যালয়ে শুভেচ্ছা বিনিময়, আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

১৯৮৩ সালের ৩০ মার্চ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রথম ইসলামী ব্যাংক হিসেবে যাত্রা শুরু করে এ ব্যাংক।

ইঞ্জিনিয়ার মুস্তাফা আনোয়ার প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন- ইসলামী ব্যাংক ৩৩ বছর ধরে জনকল্যাণ ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ করছে। বর্তমানে এ ব্যাংক কোটি গ্রাহকের ব্যাংক যা বিশ্বের মোট ইসলামী ব্যাংকিং গ্রাহকের এক-চতুর্থাংশ।

তিনি বলেন, তৈরি পোশাক শিল্প ও রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির দুইটি প্রধান স্তম্ভ। এ দুই খাতে ইসলামী ব্যাংকের মার্কেট শেয়ার যথাক্রমে ২১ ও ২৬ শতাংশ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের শিল্পায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে ইসলামী ব্যাংক। ৪০০০ শিল্প কারখানা পরিচালিত হচ্ছে এ ব্যাংকের অর্থায়নে।

মুস্তাফা আনোয়ার বলেন, ইসলামী ব্যাংকের মোট বিনিয়োগের প্রায় অর্ধেকই শিল্পখাতে। স্পিনিং শিল্পে এ ব্যাংকের মার্কেট শেয়ার এক-চতুর্থাংশ এবং লৌহ ও ইস্পাত শিল্পে ২১ শতাংশ। ইসলামী ব্যাংকের প্রতি আস্থা ও ভালবাসার কারণে তিনি গ্রাহক, স্টেকহোল্ডার ও শুভানুধ্যায়ীসহ দেশের মানুষের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ইঞ্জিনিয়ার মো. ইসকান্দার আলী খান বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, ইসলামী ব্যাংক দেশের শীর্ষ আমদানি-রপ্তানিকারক ব্যাংক, যার মার্কেট শেয়ার যথাক্রমে ১১% ও ১০%। এসএমই খাতে এ ব্যাংকের বিনিয়োগগ্রহীতা ৬ লাখ যার সাড়ে ৪ লাখই নারী উদ্যোক্তা।

তিনি বলেন, দেশের মোট এসএমই বিনিয়োগের ১৬ শতাংশই ইসলামী ব্যাংকের। আবাসন খাতের ব্যাংকটির মার্কেট শেয়ার ১২%, যা ২৫ লাখ লোকের আবাসন নিশ্চিত করেছে। পরিবহন খাতে ব্যাংকের মার্কেট শেয়ার ১৪% যার সুবিধাভোগী ২ কোটি মানুষ।

মোহাম্মদ আবদুল মান্নান সভাপতির বক্তব্যে বলেন, ক্ষুদ্র বিনিয়োগের মাধ্যমে ১৯০০০ গ্রামের ১০ লাখ প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে ইসলামী ব্যাংক। যার সুবিধাভোগী ৮০ শতাংশই নারী।

তিনি বলেন, বিশ্বের মোট ইসলামিক মাইক্রোফাইনান্সের ৫০ শতাংশ এককভাবে পরিচালিত হচ্ছে এ ব্যাংকের মাধ্যমে। ইসলামী ব্যাংক শরীয়াহ পদ্ধতি অনুসরণের সঙ্গে সঙ্গে শরীয়াহর মাকাসিদ বা লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছে। ১৯৮৩ সালে যাত্রা শুরু করে এ ব্যাংক আজ বিশ্বসেরা হাজার ব্যাংকের তালিকায় বাংলাদেশের একমাত্র ব্যাংক হিসেবে স্থান করে নিতে সক্ষম হয়েছে।

এম আর