দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দরে সামগ্রিক কর্মব্যস্ততা বাড়ছে প্রতিদিন। হরতাল-অবরোধের মতো রাজনৈতিক অস্থিতিশীল কোনো কর্মসূচি না থাকায় চট্টগ্রাম বন্দর এখন পরিপূর্ণ কর্মচঞ্চল। আমদানি-রপ্তানির গতি যেমন প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, পাশাপাশি বাড়ছে বন্দরের আয়।

গত অর্থবছরে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক মন্দাভাবের মধ্যেও চট্টগ্রাম বন্দরে আয় বেড়েছে প্রায় সোয়া ১৮ কোটি টাকা। বাইরে হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি চললেও কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রভাব পড়েনি বন্দরের অভ্যন্তরে।

জাহাজে পণ্য ওঠানো-নামানোসহ বন্দরের যাবতীয় অভ্যন্তরীণ কাজ চলছে স্বাভাবিকভাবে। এখন রাজনৈতিক কর্মসূচি না থাকায় বন্দরে নেই কোনো কনটেইনারজট। আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যেও কোনো রকমের প্রতিবন্ধকতা অনুভব করছেন না বন্দরের সেবা গ্রহণকারীরা।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্যমতে, ২০১২ সালে যেখানে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আয় হয়েছিল ১ হাজার ৫৬৪ কোটি ২ লাখ টাকা, সেখানে গেল বছর ২০১৩ সালে আয় হয়েছে ১ হাজার ৫৯২ কোটি ১৩ লাখ টাকা। রাজনৈতিক অস্থিরতার বছরে এটা অনেক বড় সাফল্য বলে মনে করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। চলতি বছরের শুরু থেকেই চট্টগ্রাম বন্দরে আয় বৃদ্ধির প্রবণতা রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ ফরহাদ উদ্দিন বলেন, ‘গেল বছর রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতার কারণে বন্দর অভ্যন্তর থেকে পণ্য ডেলিভারিতে সমস্যা হলেও বন্দরের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম সচল থাকায় নেতিবাচক কোনো প্রভাব পড়েনি চট্টগ্রাম বন্দরে।’

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, দেশের আমদানি-রপ্তানির ৯০ শতাংশের বেশি পরিচালিত হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে।

চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে গত বছর ১৫ লাখ টিইইউএস (প্রতি ২০ বর্গফুট হিসাবে) কনটেইনার হ্যান্ডলিং করার মাধ্যমে পণ্য হ্যান্ডলিং হয় প্রায় চার কোটি টন, যা আগের বছরের চেয়ে ৫ শতাংশ বেশি । এ বছর পণ্য হ্যান্ডলিং করে আয় ছাড়াও নদীতে মুরিং ভাড়া, জাহাজ চলাচল, জেটি ভাড়া ও পানি বিক্রিসহ আরো কিছু খাত থেকে অর্থ আয় করেছে চট্টগ্রাম বন্দর।
২০১৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে সর্বমোট আয় করে ১ হাজার ৫৯২ কোটি ১৩ লাখ টাকা। বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, জাহাজ ক্রয়, যন্ত্রাংশ আমদানি ও অন্যান্য খরচ বাবদ বন্দরের খরচ হয় ৭২৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে কয়েক বছরজুড়ে বকেয়া থাকা হোর্ডিং ট্যাক্স বাবদ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে এককালীন ১২২ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, গত বছরের ধারাবাহিকতায় চলতি ২০১৪ সালের শুরু থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মচাঞ্চল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। আয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে বিভিন্ন খাতে। বন্দর কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করে বলেন, জাতীয় সেবা খাত হয়েও চট্টগ্রাম বন্দরের এমন আয় জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই