রেহমান সোবহান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে নরসিংদীর ঘোড়াশালে এক নির্বাচনী প্রচারাভিযানে যাচ্ছিলাম। পথে বঙ্গবন্ধু আদমজী পাটকল এলাকায় নামলেন। সেখানে দুই লাখ মানুষের সমাগম। সবাই মেহনতি মানুষ। আসলে মেহনতি মানুষের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্কটা আগে ছিল, এখন নেই।’ তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু একদিন বললেন কলকারখানা শুধু সরকারের হাতে এলেই হবে না, এতে শ্রমিকশ্রেণির অংশ থাকতে হবে। অর্থাৎ শ্রমিকশ্রেণির মালিকানা থাকতে হবে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর এই দর্শন বর্তমানে হাওয়ায় উড়ে গেছে।

মঙ্গলবার ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনটি এ কথা বলেন তিনি ।

ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি শ্রমিকনেতা সহিদুল্লাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের তিন সহসভাপতি মাহাবুব আলম, তপন দত্ত ও আবদুর রাজ্জাক, সাধারণ সম্পাদক ওয়াজেদুল ইসলাম খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল মালেক, দপ্তর সম্পাদক সাহিদা পারভীন শিখা, অর্থ সম্পাদক কাজী মো. রুহুল আমিন, প্রবীণ শ্রমিকনেতা লুৎফর রহমান, চপল বাশার প্রমুখ। তাঁরা আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কনভেনশন অনুযায়ী শ্রম আইন ও বিধি প্রণয়নের দাবি জানান।

রেহমান সোবহানও বলছিলেন, শিল্পকারখানায় শ্রমিকশ্রেণির মালিকানা থাকার কথা তিনি তখনো বলতেন, এখনো বলছেন, ভবিষ্যতেও বলে যাবেন। তবে মুজিব বর্ষ শুরু হওয়ার প্রাক্কালে শ্রমিক সংগঠনগুলোর কণ্ঠও এ ব্যাপারে জোরালো হতে হবে।

পোশাক খাতের কারখানাগুলোতে শ্রমিকদের মালিকানা থাকার কথা ২০ বছর ধরে বলে এলেও কেউ কর্ণপাত করছেন না বলে উল্লেখ করে রেহমান সোবহান বলেন, ‘ট্রেড ইউনিয়নগুলোর পক্ষ থেকেও জোর গলায় এমন দাবি নেই। অথচ আমি বিশ্বাস করি কারখানায় শ্রমিকদের মালিকানা থাকলে তাঁরা মন দিয়ে কাজ করবেন। এতে সামাজিক অস্থিরতাও দূর হবে।’ তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর অনেক স্বপ্ন বাস্তবায়নের কথা বলা হয়। মুখে বললে তো হবে না। সামনে মুজিব বর্ষ। বর্তমান সরকারের সামনে এখনই তুলে ধরতে হবে যে সমাজে বৈষম্য না রাখা এবং শ্রমিক শোষণ না করার স্বপ্নও ছিল বঙ্গবন্ধুর।

এএইচ