অস্থির আদার বাজার। ক্রেতা সাধারনের নাগালের বাইরে চলে গেছে আদার দাম। সরবরাহ সংকটের কারণে আদার দাম বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। এক মাসের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে পণ্যটির দাম কেজিতে ৩৫-৬০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১৪৫ টাকা পৌঁছেছে। আর খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৬০ টাকায়।
আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, চীনের বাজারে আদার দাম বাড়ায় বাংলাদেশের বাজারে তার প্রভাব পড়েছে। তাদের তথ্যমতে, গত বছরের তুলনায় এ বছর আর্ন্তজাতিক বাজারে এর দাম বেড়েছে ৩ গুন। গত বছর যেখানে এক টন দাম ছিল ৭০০ থেকে ৮০০ মার্কিন ডলার, সেখানে এ বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩০০ মার্কিন ডলার থেকে ২ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার ( যা বাংলাদেশি টাকায় ১ লাখ ৭৮ হাজার ৫৭৮ টাকা থেকে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৩৮ টাকা)।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য মতে, চলতি বছর ১৪ মার্চ রকমভেদে আদার দাম ছিল ১২০ টাকা থেকে ১৮০ টাকা। ১৪ এপ্রিল ২০১৪ এর দাম ছিল ১৭০ টাকা থেকে ২৪০ টাকা।
বর্তমানে খুচরা বাজারে চায়না আদা ২৬০ টাকা কেজি দরে এবং অন্য আদা ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। পাইকারি বাজারে চায়না আদা ২৩০ টাকা এবং অন্য আদা ১৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
তবে আদার দাম নিয়ে ধাঁধা লাগার তথ্যটি হচ্ছে পণ্যটির দাম এক বছরের ব্যবধানে তিন থেকে চারগুণ বেড়েছে। এক বছর আগে খুচরা বাজারে পণ্যটির দাম ছিল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা।
জানা গেছে, দেশের চাহিদার সিংহভাগই পূরণ হয় চীনা আদার মাধ্যমে। কিন্ত দাম বাড়ায় তিন মাস ধরে চীন থেকে পণ্যটি আমদানি বন্ধ রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। ইন্দোনেশিয়া, ভারত ও মিয়ানমার থেকে আদা আমদানি হলেও তা চাহিদার তুলনায় কম।
আমদানিকারকরা জানান, চলতি মৌসুমে চীনে আদার উৎপাদন কম। বছরের শুরুতে দেশটিতে প্রতি টন আদার দাম বেড়ে ২ হাজার ডলারে পৌঁছে। গত বছরের একই সময় এর দাম ছিল ৬০০-৭০০ ডলার। মূল্যবৃদ্ধির কারণে চীন থেকে আদা আমদানি বন্ধ করে দেন তারা। বর্তমানে দেশটির বাজারে প্রতি টন আদা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৪৫০ ডলারে।
বর্তমানে ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমার থেকে আদা আমদানি হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সর্বত্র আদার কিছু চাষ হলেও পার্বত্য চট্টগ্রাম, টাঙ্গাইল, দিনাজপুর, নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলায় ব্যাপকভাবে আদার চাষ হয়। বাংলাদেশে প্রতি বছর ৭ হাজার হেক্টর জমিতে আদার চাষ করা হয়। এর হেক্টর প্রতি গড় ফলন প্রায় সাড়ে পাঁচ টন। এ উৎপাদন চাহিদার তুলনায় কম। যার কারণে চাহিদা মেটানোর জন্য প্রতিবছর প্রচুর পরিমাণে আদা আমদানি করতে হয়।
এদিকে, কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশে দৈনিক আদার সার্বিক চাহিদা রয়েছে প্রায় আড়াই লাখ কেজি। সে হিসেবে বছরে দেশে প্রায় ১ লাখ টন আদার প্রয়োজন হয়।
আমদানিকারকরা জানান, ভারত ও মিয়ানমারে আদার মৌসুম শেষ। ইন্দোনেশিয়ায় পণ্যটির উৎপাদন মৌসুম মে মাস পর্যন্ত। মূলত রমজানের বাড়তি চাহিদার জন্য ইন্দোনেশিয়ার ওপরই ভরসা করতে হবে। বর্তমানে দেশটিতে প্রতি টন আদা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ ডলারে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আদার বাজার মূলত আমদানিনির্ভর। দেশী আদার উত্তোলন মৌসুম অক্টোবর-নভেম্বর। এ আদা এখন আর বাজারে নেই। রমজান আসতে আর মাস দুয়েক বাকি। বাংলাদেশের মতো পাকিস্তান, ইরান, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশের ব্যবসায়ীরাও ইন্দোনেশিয়ার আদার দিকে ঝুঁকবেন। এ কারণে দেশটিতে আদার মূল্যবৃদ্ধি পেতে পারে। তবে বর্তমানে আর বিকল্প কোনো বাজারও নেই। আমদানিকারকরা জানান, গত রমজানে চীনা আদার মূল্যবৃদ্ধি পায়। এজন্য অনেকে ভিয়েতনাম থেকে পণ্যটি আমদানি করেন। তবে দেশটি থেকে আমদানিকৃত আদার ৬৫-৭০ শতাংশই পচে যায়। এজন্য কেউ ভিয়েতনাম থেকে আদা আমদানিতে আগ্রহী হচ্ছেন না।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, চায়না আদার দাম বেড়েছে তার কারণ হল সে দেশের বাজারে এর দাম বেড়েছে। চীন থেকে এক টন আদা আমদানি করছি ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার। এর পর আবার পরিবহন খরচ বেড়েছে অনেক বেশি। আগে যখানে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা পরিবহন খরচ হত সেখানে এখন ১৭ থেকে ১৮ হাজার টাকা পরিবহন খরচ হচ্ছে। এসব কারণেই বাজারে আদার দামে উর্ধ্বগতি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
[b]ঢাকা, ২২ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]
অর্থনীতি
আদার বাজারে আগুন
অস্থির আদার বাজার। ক্রেতা সাধারনের নাগালের বাইরে চলে গেছে আদার দাম। সরবরাহ সংকটের কারণে আদার দাম বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। এক মাসের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে পণ্যটির দাম কেজিতে ৩৫-৬০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১৪৫ টাকা পৌঁছেছে। আর খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৬০ টাকায়।





