বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অনির্দিষ্টকালের অবরোধ আর বিচ্ছিন্ন হরতালের ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে রাজধানীর কাঁচাবাজারে।

অবরোধের কারনে বিভিন্ন স্থান হতে মালামাল না আসতে পারায় সব পণ্যেরই দাম বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ।

বিভিন্ন বাজার পর্যবেক্ষণ করে জানা যায়, এ সপ্তাহে শসা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, টমেটো, গাজর, পটল, কাঁচামরিচ, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, শিমসহ প্রায় সবধরনের সবজির দাম গড়পড়তা বেড়েছে ১০ টাকা থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত।

মুদি পণ্যের মধ্যে চাল, ডাল, তেল, আটা-ময়দাসহ প্রায় বেশিরভাগ পণ্যের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কেজি প্রতি ৫ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ডিমের দামও বেড়েছে হালিতে ৩ টাকা।

সড়ক ও মহাসড়কগুলোতে যানবাহন ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের কারণে পণ্যবাহী পরিবহন চলাচল সীমিত হওয়ায় বাজারের এ পরিস্থিতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

রাজধানীর কাওরান বাজার, শান্তিনগর, ফকিরাপুলসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে এ তথ্য জানা গেছে।

শান্তিনগর বাজারের সবজি বিক্রেতা ইসমাইল হোসেন জানান, হরতাল-অবরোধের কারণে রাজধানীতে পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ ছিল সীমিত। এতে বাজারে সব সবজির দাম চড়া।

কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি নতুন আলু ২০ থেকে ২২ টাকা, কাঁচা মরিচ ৪০ টাকা, শালগম ১৫-২০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, বেগুন ৩৫-৪০ টাকা, তাল বেগুন ৩৮-৪০ টাকা, শিম ২০-৪০ টাকা, গাজর ৩০ টাকা, পটল ৮০ টাকা, মূলা ১০-১৫ টাকা, শশা ৩০-৪০ টাকা, বরবটি ৬০-৭০ টাকা, পেঁপে ১৫ টাকা, ফুলকপি আকারেভদে ১৮-২০ টাকা, বাঁধাকপি ১৫-২০ টাকা।

 লাউ আকারভেদে ৩৫-৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০-৩৫ টাকা, চাল কুমড়া ৪০-৪৫টাকা, ঢেঁড়স ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০-৪৫ টাকা, কচুর মুখী ৬০ টাকা, টমেটো ৩০-৪০ টাকা, ঝিঙ্গা ৮০ টাকা, পিয়াজের কালি ৩০-৪০ টাকা, কাঁচা কলা ৩০-৪০ টাকা, লেবু প্রতি হালি ২০ টাকা, কচুর লতি ৪০-৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

প্রতি আঁটি লাল শাক ও সবুজ শাক ৬-৮ টাকা, পালং শাক ৮ টাকা, পুই শাক ১৫ টাকা ও ডাটা শাক ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি মটরশুটি ৫০-৫৫ টাকা, ক্যাপসিকাম আকারভেদে প্রতিটি ২০-৩৫ টাকা ও ব্রোকলি প্রতিটি ২৫-৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৪০-৪৫ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ৪০-৪৫ টাকা, দেশি রসুন ৯৫ টাকা, মোটা রসুন ৯০ টাকা ও এক দানা রসুন ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মুদি পণ্যের মধ্যে প্রতি কেজি দেশি মসুর ডাল ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা। প্রতি কেজি ভারতীয় মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৮২-৯০ টাকা দরে। মুগ ডাল প্রতি কেজি ১২০-১৩০ টাকা, বুটের ডাল ৭০-৮০ টাকা, মাসকলাই ১০০ টাকা, ছোলা ৫৫-৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

প্রতি কেজি খোলা চিনি ৪৪-৪৫ টাকা, প্যাকেট চিনি ৫০ টাকা, প্রতি কেজি খোলা ময়দা ৪০ টাকা, প্যাকেট আটা প্রতি ২ কেজি ৭৪ টাকা এবং প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১০-১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১১২-১২০ টাকা ও প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ৬ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা দরে।

মাছবাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি রুই ১৫০-২৫০ টাকা, কাতলা ২৫০- ৪০০ টাকা, পোয়া ৪০০-৪৫০ টাকা, মলা ৩২০-৩০০ টাকা, পাবদা ৫০০-৬০০ টাকা, শিং ৪৬০-৫৫০, দেশি মাগুর ৬৫০-৭০০ টাকা, শোল মাছ ৫০০-৫৫০ টাকা, সরপুঁটি ৩০০ টাকা, পাঙ্গাস ১১০-১৮০ টাকা, সিলভার কার্প ১৫০- ১৮০ টাকা, চাষের কৈ ২৫০-২৮০ টাকা, তেলাপিয়া ১৩০-১৬০ টাকা, বাটা মাছ ২৫০-২৮০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

ফার্মের লাল ডিম প্রতি হালি ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৩৩ টাকা এবং দেশি মুরগির ও হাঁসের ডিম ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৫০ টাকা, লেয়ার মুরগি ১৪৫ টাকা, দেশি মুরগি প্রতিটি আকারভেদে ৩২০-৩৫০ টাকা, হাঁস প্রতি কেজি ৩০০ টাকা এবং প্রতি কেজি গরুর মাংস ৩২০ টাকা ও খাসির মাংস ৫০০-৫৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

চালের বাজারেও বেশ কয়েক ধরনের চালের দর বেড়েছে কেজি প্রতি ৫-৭ টাকা করে। প্রতি কেজি মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৩৬-৩৭ টাকা দরে। এছাড়া মিনিকেট ৫০-৫২ টাকা, পারিজা ৪২ টাকা, নাজির শাইল ৫৫-৫৮ টাকা ও বিআর আটাশ ৩৭-৩৮ টাকা দরে বিক্রি হচেছ। সুগন্ধি চালের প্যাকেট পাওয়া যাচ্ছে প্রতি কেজি ১০০ টাকা দরে।

এসএইচ