ব্যবসায়িক সক্ষমতা অর্জনে পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি জেনেভাভিত্তিক বিশ্বের শীর্ষ অর্থনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

‘দ্য গ্লোবাল এনাবলিং ট্রেড রিপোর্ট ২০১৪’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদন অনুসারে, ব্যবসায়িক সক্ষমতা সূচকে ১৩৮ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১১৫তম। আর স্কোর ৭-এর মধ্যে ৩ দশমিক ৪। এর আগে ২০১২ সালে প্রকাশিত সূচকে ১৩২ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১০৯, স্কোর ছিল ৭-এর মধ্যে ৩ দশমিক ৫। এবার সূচকে ছয় ধাপ পেছানোর পাশাপাশি স্কোরও কিছুটা কমেছে।

চারটি উপসূচকের ওপর ভিত্তি করে ব্যবসায়িক সক্ষমতা সূচকটি প্রণয়ন করা হয়েছে। এগুলো হলো— মার্কেট অ্যাকসেস (বাজার প্রবেশাধিকার), বর্ডার অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (সীমান্ত প্রশাসন), অবকাঠামো ও ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ। এগুলোর মধ্যে শুধু অবকাঠামোয় বাংলাদেশের স্কোর কিছুটা বেড়েছে। বাকি তিন উপসূচকেই কমেছে স্কোর।

উপসূচক চারটির মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে সীমান্ত প্রশাসন। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৩ ও স্কোর ৩ দশমিক ২। এছাড়া অবকাঠামো উপসূচকে অবস্থান ১১৯ ও স্কোর ২ দশমিক ৮, ব্যবসা পরিচালনা পরিবেশে অবস্থান ৯৯ ও স্কোর ৩ দশমিক ৭ এবং বাজার প্রবেশাধিকারে অবস্থান ৫৭ ও স্কোর ৩ দশমিক ৮।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, সূচক প্রণয়নে বিবেচিত উপসূচকগুলো কয়েকটি স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। এগুলোর মধ্যে রয়েছে-বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে বিদেশী পণ্যের প্রবেশাধিকার, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের প্রবেশাধিকার, সীমান্ত প্রশাসনের দক্ষতা ও স্বচ্ছতা, পরিবহন অবকাঠামোর সহজলভ্যতা ও গুণগত মান, পরিবহন ব্যবস্থার সহজলভ্যতা ও গুণগত মান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সহজলভ্যতা ও ব্যবহার। এ স্তম্ভগুলো আবার বিভিন্ন নির্দেশকের ওপর নির্ভরশীল।

ব্যবসায়িক সক্ষমতা সূচকে এবারো শীর্ষে সিঙ্গাপুর। ৭-এর মধ্যে দেশটির স্কোর ৫ দশমিক ৯। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা হংকংয়ের স্কোর ৫ দশমিক ৫ ও তৃতীয় অবস্থানে থাকা নেদারল্যান্ডসের ৫ দশমিক ৩। শীর্ষ পাঁচে এর পর রয়েছে যথাক্রমে নিউজিল্যান্ড ও ফিনল্যান্ড। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শ্রীলংকার অবস্থান ৮৪, ভারত ৯৬, ভুটান ১০৭, পাকিস্তান ১১৪ ও নেপাল ১১৬তম।

প্রতিবেদনে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি বাধা চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু বাধা রফতানিতে ও কিছু আমদানিতে প্রভাব রয়েছে। রফতানির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হলো-অনুপযুক্ত উৎপাদন প্রযুক্তি ও দক্ষতা এবং বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অর্থায়নের (ঋণ প্রাপ্তি) সমস্যা।

এরপর রয়েছে সম্ভাবনাময় বাজার ও ক্রেতা চিহ্নিত করতে না পারা, পরিবহনগত জটিলতার কারণে পণ্য সরবরাহে দেরি হওয়া বা ব্যয় বৃদ্ধি, তুলনামূলক কম মূল্যে আমদানিকৃত কাঁচামাল প্রাপ্তির সহজলভ্যতার অভাব, ক্রেতার চাহিদা অনুপাতে গুণগত মানসম্পন্ন পণ্য সরবরাহে ব্যর্থতা প্রভৃতি। এর বাইরেও আরো কিছু বাধা রফতানি বাণিজ্যকে প্রভাবিত করে।

এদিকে আমদানির ক্ষেত্রে বড় বাধা হলো-শুল্ক ও আমদানি প্রক্রিয়ায় জটিলতা। এছাড়া সীমান্তে দুর্নীতি, পরিবহনগত জটিলতার কারণে বিলম্ব বা ব্যয় বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ কারিগরি প্রয়োজন ও মান, অপরাধ ও পণ্য চুরি, অপর্যাপ্ত টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো ইত্যাদি।

প্রসঙ্গত, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম বিশ্বের ১৩৮টি দেশ থেকে একই ধরনের প্রশ্নের উত্তর সংগ্রহ করে প্রতিবেদনটি প্রণয়ন করেছে। এজন্য প্রতিটি দেশে বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নেয়া হয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন তথ্য সরবরাহ করে প্রতিবেদনটি প্রণয়নে সহায়তা করে সিপিডি। অর্থনীতির বিভিন্ন কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য, অবকাঠামো, শুল্ক ও অশুল্ক অবস্থা ইত্যাদি সম্পর্কে প্রায় ১৫০টি প্রশ্নের উত্তর সরবরাহ করে সংস্থাটি।

ঢাকা, ৩ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এমআর