ঈদের আগে যথাসময়ে পোশাক কারখানাগুলো শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ করছে কি না, তা দেখভাল করার জন্য একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করেছে তৈরি পোশাক প্রস্তত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ।
কারখানা মালিকদের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে বেতন এবং ১৪ জুলাইয়ের মধ্যে বোনাস পরিশোধে বাধ্যসহ যেকোনো শ্রমিক অসন্তোষ ঠেকাতে কাজ করবে এই কমিটি।
সাতটি অঞ্চলে ভাগ করা এসব কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি (অর্থ) রিয়াজ-বিন-মাহমুদ দায়িত্বে রয়েছেন।
এ ছাড়া কারখানাগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতে বিজিএমইএ’র কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি ক্রাইসিস কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। বিভিন্ন শিফটে এসব কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করবেন।
বিজিএমইএ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
জানা যায়, এ মনিটরিংয়ে মোট ১৫টি টিম কাজ করবে। মনিটরিংয়ের অন্তর্ভুক্ত এলাকাগুলো হচ্ছে- ঢাকার রামপুরা, খিলগাঁও, সবুজবাগ, মতিঝিল, পল্টন, লালবাগ, ধানমন্ডি, শাহবাগ, নিউমার্কেট, মোহম্মদপুর, আদাবর, মিরপুর-১, দারুসসালাম, পল্লবী, কাফরুল, আগারগাঁও, ভাষানটেক, ক্যান্টম্যান্ট, তেজগাঁও, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ফার্মগেট ও ইন্দিরা রোড, শ্যামপুর, ডেমরা, পোস্তগোলা, সূত্রাপুর, কদমতলী, গুলশান, বনানী, বাড্ডা, ভাটেরা থানা, উত্তরা, উত্তরখান, দক্ষিণখান, তুরাগ, খিলক্ষেত, এয়ারপোর্ট, আশুলিয়া, গনকবাড়ী ইপিজেড, জিরানী বাজার, সাভার, নবীনগর, টঙ্গী, সাতাইশ রোড, বোর্ডবাজার, ভোগড়া, গাজীপুর চৌরাস্তা ও সদর, গাজীপুর চৌরাস্তা টু কোনাবাড়ী, কামিমপুর, সফিপুর, কারিয়াকৈর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহের ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী জেলা।
সূত্র জানায়, ঈদ পর্যন্ত যাতে কোনো কারখানায় বেতন-বোনাসের দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা না দেয় এবং মালিকেরা যাতে সঠিক সময়ে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধ করে, সেজন্যই এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে কোথাও কোনো অসন্তোষ দেখা দিলে, তা মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তা পেতে পুলিশ হেডকোয়ার্টারসহ সংশ্লিষ্ট জেলায় অনুরোধ করা হয়েছে। তবে যেসব কারখানা বিজিএমইএ’র সদস্য নয়, সেসব কারখানার বিষয়ে এ কমিটি নিয়ন্ত্রণ করবে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজিএমইএর সহসভাপতি রিয়াজ-বিন-মাহমুদ বলেন, ‘সবাই যেন সঠিক সময়ে বেতন-বোনাস পায়, সেজন্য সব কারখানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঈদকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্যই এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে যেসব কারখানা বিজিএমইএর সদস্য নয়, সেসব কারখানায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার দায়ভার বিজিএমইএ নিবে না।’
বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কারখানাগুলোতে কোনো অসন্তোষ দেখা যায়নি। তবে অনেক সময় শ্রমিকেরা কিছু অযৌক্তিক দাবি করেন; যা মেনে নেওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।’
অন্যদিক এ মনিটরিং কমিটিকে লোক দেখানো ও কেবল আনুষ্ঠানিকতা বলে আখ্যায়িত করলেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মাহবুবুর রহমান ইসমাইল।
তিনি বলেন, ‘বোনাসের বিষয়ে নীতিমালা না হওয়া পর্যন্ত এর সমাধান হবে না। এ কমিটি গঠন করে লাভ কি, যদি শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা না করা যায়।’
এমকে





