রাজধানীর মতিঝিলে মধুমিতা ভবনের পাঁচ ব্রোকারেজ হাউজ থেকে প্রায় আট লাখ টাকা চুরি হয়েছে। মঙ্গলবার মধ্যরাতের পরে কোনো এক সময় মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকার ওই ভবনের ৬ ও ৭ তলায় অবস্থিত হাউজগুলোতে চুরি সংঘটিত হয়।
ব্রোকার হাউজগুলো হল- খুরশিদ সিকিউরিটিজ লিমিটিড, আল মুনতাহা ট্রেডিং, কাইয়ুম সিকিউরিটিজ, টোটাল কমিউনিকেশন সিকিউরিটিজ ও ওষাধি সিকিউরিটিজ লিমিটেড।
এ ঘটনায় বুধবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ওই রাতে দায়িত্বরত চার নিরাপত্তাকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মতিঝিল থানায় নেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতেকটি ব্রোকারেজ হাউজের প্রধান প্রবেশদ্বার ও কলাপসিবল গেট ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে।
হাউজ কর্তৃপক্ষ ধারণা করছেন, কলাপসিবল গেট ও দরজা কোনো কিছু দিয়ে না কেটে চাপ ও মুচড়িয়ে তা ভেঙে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা। একই সঙ্গে পাঁচটি হাউজে চুরির ঘটনাকে তারা পরিকল্পিত হিসেবেই মনে করছেন।
মধুমিতা সিনেমা হলের দোতলায় উঠে দেখা যায়, ভবনে ওঠার মূল সিঁড়ি ও লিফট ঘেঁষে হলের পেছনের অংশে বিকল্প একটি কাঠের দরজা রয়েছে। হলের ভেতর থেকেই দরজাটির সিটকিনি লাগানোর ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এ দরজার সিটকিনি অক্ষত অবস্থায় দেখা গেছে।
ধারণা করা হচ্ছে, এই দরজা দিয়ে কারো সহায়তায় ভেতরে ঢুকে দুর্বৃত্তরা চুরির ঘটনা ঘটায়।
ভবনের ছয় তলায় আল মুনতাহা ট্রেডিংয়ের নির্বাহী শামসুল আলম বলেন, ‘কে বা কারা আলমারি ভেঙে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে গেছে। মঙ্গলবার শেয়ারবাজারের লেনদেনের টাকা বিকালে জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে সেন্ট্রাল ডিপোজিটর বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) বার্ষিক ফি, বিও হিসাব খোলার টাকা এবং পেটিক্যাশের টাকা অফিসে রাখা ছিল। এ ছাড়াও ভেতের আলমারি ও ড্রয়ারের মধ্যে চেক বইয়ের পাতা ও অন্যান্য কিছু ডকুমেন্ট এলোমেলো অবস্থায় মেঝেতে পড়ে ছিল।’
তিনি বলেন, ‘কিছু চেক বই পাওয়া যাচ্ছে না। সেগুলো খোঁজা হচ্ছে।’ অফিসের দু’টি মোবাইল সেটও খোয়া গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
সাত তলার খুরশিদ সিকিউরিটিজের অনুমোদিত প্রতিনিধি মো. আনিসুর রহমান বলেন, ‘মধুমিতা হলের ভেতরের প্রবেশদ্বার দিয়ে ভবনের ৬ ও ৭ তলায় আসার পথ রয়েছে। ওই পথ দিয়ে এসে এখানে চুরি করা সম্ভব। কারণ লিফট দিয়ে উপরে ওঠার অন্য সব ফটক সন্ধ্যা ৭টার পরেই বন্ধ করে দেওয়া হয়।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের অফিস থেকে ২০ হাজার টাকা খোয়া গেছে। এ ছাড়াও অফিসের কাঁচের দরজা, আলমারি ভাঙা হয়েছে।’
আনিসুর রহমান আরও বলেন, ‘আমরা মতিঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরির প্রস্তুতি নিচ্ছি। মামলা করা হবে কি না সে বিষয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
কাইয়ুম সিকিউরিটিজের নির্বাহী পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের অফিস থেকে ৩৫ হাজার টাকা চুরি হয়েছে। সকালে মতিঝিল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।’
ওষাধি সিকিউরিটিজের কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘অফিসের দরজা ভেঙে কে বা কারা প্রায় ৮০ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে গেছে। এ ছাড়া প্রায় ২০ হাজার টাকার মতো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে আমাদের ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা এবং এর ডিভাইস খুলে নিয়ে গেছে। হয়তো তাদের পরিচয় যেন ফাঁস হতে না পারে সে জন্যই এগুলো খুলে নিয়ে যাওয়া হয়।’
টোটাল কমিউনিকেশন সিকিউরিটিজের পরিচালক (অর্থ) আব্দুর রউফ তুহিন বলেন, ‘এটি একটি পরিকল্পিত ঘটনা। এর আগে এই ভবনে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে দেখিনি। রাতে অফিসের ৮৫ হাজার টাকা চুরি হয়। আমার ধারণা, এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মীদের যোগসাজস থাকতে পারে।’
মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফিরোজ হোসেন এ ঘটনাকে চুরি দাবি করে বলেন, ‘এ ঘটনায় রাতে দায়িত্বরত চারজন নিরাপত্তাকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বুধবার দুপুরে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তবে এখনও তাদের সম্পৃক্ততা বা কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে সে সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।’
ঢাকা স্টক এক্সেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. স্বপন কুমার বালা বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে ভুক্তভোগী ব্রোকারেজ হাউজগুলোর কেউ এখনও (দুপুর পর্যন্ত) যোগাযোগ করেনি। যদি কেউ পরামর্শের জন্য আসতে চায়, আসতে পারে। তবে মামলার জন্য অনুমতির কোনো প্রয়োজর আছে কি না জানা নেই। হাউজ কর্তৃপক্ষ চাইলে নিজেরা এ বিষয়ে আইনানুগ পদক্ষেপ নিতে পারে।’
জেআই





