[b]ঢাকা:[/b] নির্ধারিত পাঁচটি অর্থনৈতিক অঞ্চলের সাথে আরো দু’-একটি নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার। এর জন্য সম্ভাব্য স্থান নির্ধারণের কাজ এগিয়ে চলছে। শিল্পভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বর্তমান সরকার এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।
শিল্পমন্ত্রী আজ রোববার ঢাকা রোববার চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এর নব নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের নেতাদের সাথে বৈঠককালে এ কথা জানান। শিল্প মন্ত্রণালয়ে আজ এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, দেশে শিল্পায়ন ও ব্যবসা বাণিজ্যের উন্নয়নে যে কোনো সিদ্ধান্ত ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তাদের সাথে আলোচনা করে ঐকমত্যের ভিত্তিতে নেয়া হবে। শিল্পখাতে পরনির্ভরশীলতা কমাতে জাতীয় স্বার্থে সরকার এ সিদ্ধান্ত নেবে।
তিনি দেশিয় শিল্প-কারখানায় পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়াতে শিল্প উদ্যোক্তাদের প্রতি আহবান জানান। পর্যটন শিল্পসহ অন্যান্য সম্ভাবনাময় শিল্পের প্রসারে সরকারের নীতি সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।  
বৈঠকে ডিসিসিআই এর নেতারা বলেন, দেশে ভারসাম্যপূর্ণ ও দীর্ঘ মেয়াদি শিল্পায়নের স্বার্থে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতকে মূল শক্তি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। তারা শিল্প মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, এসএমই ফাউন্ডেশন ও ঢাকা চেম্বারের যৌথ উদ্যোগে এখাতের উন্নয়নে একটি চাহিদাভিত্তিক গবেষণা পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সাথে তারা একটি আদর্শ এসএমই শুমারি পরিচালনা জরুরি বলে অভিমত দেন।
ডিসিসিআই নেতারা জাহাজভাঙ্গা শিল্পের প্রসারে দ্রুত জাহাজ নির্মাণ শিল্প নীতিমালা অনুমোদন, ওষুধ শিল্পনগরি বাস্তবায়ন, শিল্প-কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, বিদ্যুৎ ও ইউটিলিটি সংযোগ প্রদান, দেশিয় শিল্পবান্ধব শুল্ক ও করকাঠামো নির্ধারণ, মেধা সম্পদের অধিকার সুরক্ষায় আইপিআর নামে পৃথক উইং স্থাপন ও অ্যাক্রেডিটেশন বিষয়ক জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।
এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড (বিএবি), ডিসিসিআই এবং বিজনেস ইনিসিয়েটিভ ফর লিডিং ডেভেলপমেন্ট এর যৌথ উদ্যোগে রাজধানীতে রপ্তানি উন্নয়নে অ্যাক্রেডিটেশনের ভূমিকা শীর্ষক সেমিনার আয়োজন করা হবে বলে তাঁরা মন্ত্রীকে অবহিত করেন।
বৈঠকে শিল্প সচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ, ডিসিসিআই’র প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ শাহজাহান খান, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ওসামা তাসির, ভাইস প্রেসিডেন্ট খন্দকার শহিদুল ইসলাম, সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বর্তমান পরিচালক মোঃ সবুর খান, পরিচালক আবুল হোসেন, হায়দার আহাম্মেদ খান, মোঃ ইফতেখার উদ্দিন, নিসার মাকসুদ খানসহ পরিচালনা পর্ষদের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে বাংলাদেশ এমব্রয়ডারি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন (বিইএমইএ) এর নেতারা শিল্পমন্ত্রীর সাথে তাঁর দপ্তরে সাক্ষাত করেন। সাক্ষাতকালে তাঁরা দেশে অর্থনীতিতে এ শিল্পখাতের অবদান এবং  শিল্প বিকাশের পথে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করেন।
আমির হোসেন আমু অ্যামব্রয়ডারি শিল্পখাতকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে উদ্যোক্তাদের সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের তাগিদ দেন। তিনি এ শিল্পের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সম্ভব সব ধরণের সহায়তার আশ্বাস দেন। সংগঠনের সভাপতি শাহনেওয়াজ চৌধুরীসহ অন্য নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
[b]ঢাকা, ২ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম)//এসএমআর[/b]