কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া হবে না বলে অর্থমন্ত্রী ঘোষণা দিলেও অর্থনীতি সমিতি ‘কঠিন’ শর্তে অবকাঠামো খাতে এ সুযোগ দেয়ার সুপারিশ করেছে।
প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে শনিবার সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সভাপতি আবুল বারকাত বলেছেন, “দেশে পুঞ্জিভূত কালো টাকার পরিমাণ ৫ থেকে ৭ লাখ কোটি টাকার মতো,এই বিশাল অঙ্কের অর্থ উদ্ধারের প্রয়োজন।
“বিশেষ করে দেশের রাস্তা-ঘাট,সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বড় বড় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে বিনিয়োগের মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া যেতে পারে।”
টাকা সাদা করার সুপারিশ করলেও করদাতারা যেন নিরুৎসাহিত না হন,সেজন্য কঠিন শর্ত আরোপের পরামর্শ দিয়েছে অর্থনীতি সমিতি।
“জরিমানা বা শর্ত এমনভাবে আরোপ করতে হবে,যাতে সৎ করদাতারা কোনো অবস্থাতেই কর দিতে নিরুৎসাহিত না হন” বলেন বারকাত।
রাজধানীর ইস্কাটনে সমিতির সম্মেলন কক্ষে ‘২০১৪-২০১৫ অর্থবছরের বাজেট : প্রতিক্রিয়া ও সুপারিশ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক তৌফিক আহমদ চৌধুরী।
তৌফিক আহমদ তার লিখিত বক্তব্যে ‘কঠিন’ শর্তে অবকাঠামো খাতে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়ার পরামর্শ দেন। পরে বারকাত তার ব্যাখ্যা দেন।
তিনি বলেন,“বর্তমানে আবাসন খাতে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকলেও তা বের হচ্ছে না। অর্থমন্ত্রী নিজেই বলেছেন প্রণোদনা দিলেও কালো টাকা বের হচ্ছে না।
“যেহেতু উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের চাহিদা অনেক বেশি সেহেতু ‘শক্ত’ শর্তে অবকাঠামো খাতের রাস্তা-ঘাট,সেতু বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ শিল্প খাতে কালো টাকা সাদা করা যেতে পারে।”
এ বিষয়ে সরকারকে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং কমিশন গঠনের পরামর্শ দেন বারকাত।
‘কালো টাকা বা অপ্রদর্শিত আয়ের’ বিষয়টি স্পর্শকাতর উল্লেখ করে তিনি বলেন,এমন কোনো পথ বা পদ্ধতি অবলম্বন করা উচিত হবে না যার ফলে সৎ ব্যক্তিরা ভবিষ্যতে অসৎ হতে প্রণোদিত হতে পারেন।
“অর্থনীতি সমিতি এই অনৈতিক সুযোগকে সমর্থন করে না। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে- এই অর্থ উদ্ধার প্রয়োজন,” নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন সমিতির সভাপতি।
বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী সংসদে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের যে বাজেট পেশ করেছেন,তাতে কালো টাকা সাদা করার বিষয়ে কিছু বলেননি। তবে পরদিন বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,কোনো খাতেই কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নেই।
“বাজেট বক্তৃতায় যদিও বিষয়টি আমি বলিনি। তবে এখন বলছি, আগে এ বিষয়ে যেসব সুযোগ ছিল,তা বাতিল হল।”
চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরে তিনটি খাতে (ফ্লাট ও জমি কেনা এবং ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ) কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া হয়। এই সুবিধা নিয়ে এ পর্যন্ত ৩৪০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকার ট্যাক্স পেয়েছে ৩৪ কোটি টাকা।
অর্থমন্ত্রী তার প্রস্তাবিত বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৩ শতাংশ অর্জনের যে লক্ষ্য ঠিক করেছেন, তা কঠিন হলেও সম্ভব বলে মনে করে অর্থনীতি সমিতি।
“তবে তা নির্ভর করবে অনেকগুলো ‘যদি’র ওপর। সরকার যদি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত এবং সুযোগসন্ধানীদের (রেন্ট সিকার) নিয়ন্ত্রণ করতে পারে তাহলে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জন সমস্যা হবে না।”
সম্পদ হরণ,দখল,আত্মসাতের মাধ্যমে বিত্তশালী ও সম্পদশালীদের হাতে এখন রাষ্ট্র পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ বলে অর্থনীতি সমিতির পর্যবেক্ষণ।
“সরকার যদি এসব রেন্ট সিকারদের হাত থেকে মুক্ত হতে পারে, তাহলেই কেবল ৭ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি সম্ভব।”
লিখিত বক্তব্যে তৌফিক আহমদ বলেন, ঘাটতি বাজেট মেটাতে অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি উৎসের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে যারা কর দিতে সক্ষম তাদেরকে চিহ্নিত করে কর আদায় বাড়ানো যেতে পারে।
এক্ষেত্রে চিকিৎসকদের চেম্বার,ল ফার্ম,অ্যাকাউন্টিং ফার্মগুলোর মানব সম্পদ,পরামর্শক, আউটসোর্সিং কর্মকাণ্ড -এর ওপর করপোরেট কর হার প্রয়োগ করা যেতে পারে বলে পরামর্শ তার।
“বাংলাদেশে আনুমানিক ৫০ জন ব্যক্তি বছরে এক কোটি বা তার বেশি ব্যক্তিগত আয়কর দিয়ে থাকেন। কিন্তু অর্থনীতি সমিতির হিসাবে বছরে কমপক্ষে এক কোটি টাকা বা তদুর্ধ্ব ব্যক্তিগত আয়কর দেয়ার যোগ্য মানুষের সংখ্যা ৫০ হাজার। অর্থ্যাৎ এই ৫০ হাজার মানুষের কাছ থেকে বছরে ৫০ হাজার কোটি টাকা আহরণ সম্ভব।”
বাজেট বইয়ের প্রচ্ছদে তারিখ ভুল
২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেট বইয়ের প্রচ্ছদে তারিখ ভুলের কঠোর সমালোচনা করে তৌফিক আহমদ বলেন,এই ভুল কিছুতেই গ্রহণযোগ্য নয়।
অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে ২ লাখ ৫০ হাজার ৫০৬ কোটি টাকার যে বাজেট উপস্থাপন করেছেন, সেই বাজেট বইয়ের প্রচ্ছদ পৃষ্ঠায় তারিখ উল্লেখ রয়েছে ২১ জ্যৈষ্ঠ,১৪২১/ ৫ জুন ২০১৪।
অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতার প্রচ্ছদে উল্লেখিত বাংলা তারিখটি সঠিক নয়,তা হবে ২২ জ্যৈষ্ঠ।
“আমরা মনে করি এটি কোনো সাধারণ ভ্রান্তি নয়। এই ভ্রান্তি অমার্জনীয়,” বলেন তৌফিক।
[b]ঢাকা: কেএ ৭ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম)//[/b]
অর্থনীতি
কালো টাকা অবকাঠামো খাতে চায় অর্থনীতি সমিতি
কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া হবে না বলে অর্থমন্ত্রী ঘোষণা দিলেও অর্থনীতি সমিতি ‘কঠিন’ শর্তে অবকাঠামো খাতে এ সুযোগ দেয়ার সুপারিশ করেছে।





