শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে শিক্ষামন্ত্রী এ ঘোষণা দেন। চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর উত্তীর্ণ ও অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি এ বার্তা দেন।
প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী লেখেন, মন খারাপ হওয়া স্বাভাবিক। তবে এ সময়ে নিজেকে একা ভাবার কারণ নেই। পরিবারের সদস্য ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে নিজের ওপর বিশ্বাস রেখে আবারও চেষ্টা করতে হবে। এগিয়ে যাওয়ার পথে সরকার তাদের পাশে রয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা এক মাসের মধ্যে শুধু ওই বিষয়গুলোতে পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। একটি বা দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার কারণে তাঁদের যেন দীর্ঘ এক বছর অপেক্ষা করতে না হয়, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এবারের পরীক্ষায় পাসের হার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এহছানুল হক মিলন বলেন, সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা বজায় রেখে ফল প্রকাশের চেষ্টা করা হয়েছে। প্রকাশিত ফল শিক্ষার্থীদের শেখার অর্জন ও ঘাটতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে। এসব ঘাটতি চিহ্নিত করে শিক্ষার মান উন্নত করাই এখন সরকারের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, কম পাসের হার কোনো অর্জন নয়। শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে শিখে, আত্মবিশ্বাস নিয়ে পরীক্ষা দিয়ে নিজেদের যোগ্যতায় ভালো ফল করলেই প্রকৃত সাফল্য আসবে।
শিক্ষার্থীদের ফল খারাপ হওয়ার দায় শুধু তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী। শ্রেণিকক্ষে যথাযথ পাঠদান হচ্ছে কি না, শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় সহায়তা পাচ্ছে কি না এবং প্রশ্নপত্র ও মূল্যায়নব্যবস্থা যথাযথ কি না—এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করতে হবে বলে জানান তিনি।
শিক্ষকদের প্রতি শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে পরীক্ষার প্রস্তুতিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী। একই সঙ্গে অভিভাবকদের সন্তানদের মানসিক অবস্থার প্রতি যত্নশীল হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। সন্তানদের অন্যের সঙ্গে তুলনা না করে তাদের কথা শোনা এবং ফল যা-ই হোক, পরিবারের কাছে তাদের ভালোবাসা ও সম্মানের জায়গা অটুট রয়েছে—এ বিশ্বাস দেওয়ার আহ্বান জানান।
পোস্টে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তাঁদের সাফল্যের পেছনে নিজেদের পরিশ্রমের পাশাপাশি শিক্ষক ও পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
এস
















