শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে খুলনার ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বরে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-যশোর-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চ উপলক্ষে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, লংমার্চে হাজারো মানুষের ভালোবাসা ও উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছেন তাঁরা। দাবি আদায়ের আন্দোলনে পাশে থাকার অঙ্গীকারও জানিয়েছেন অনেকে।
সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, ক্ষমতায় আসার আগে সরকার জলাবদ্ধতা দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সংসদেও এ বিষয়ে জোরালো বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কার্যকর কোনো কাজ হয়নি।
তিনি বলেন, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও অস্ত্রের মহড়া বন্ধের দাবিতে তাঁরা রাজপথে নেমেছেন। এসবের অবসান এবং দেশের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। এতে তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দাবি আদায়ে জনগণকে আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সাত দফা দাবি বাস্তবায়ন তাঁদের একার বিজয় নয়, বরং জনগণের বিজয়।
পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। টালবাহানার মাধ্যমে জনগণের মতামত উপেক্ষা না করতে তিনি সরকারকে সতর্ক করেন।
মামুনুল হক আরও অভিযোগ করেন, সরকার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দুর্নীতিবাজদের দুষ্টচক্রের কাছে জনগণকে জিম্মি করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে দেশের মানুষের মতামত উপেক্ষা করে বিদেশি স্বার্থ রক্ষার ষড়যন্ত্র চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।
১১ দলীয় ঐক্যের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারসংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ।
পথসভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ১১ দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।
ফুলতলার পথসভা শেষে লংমার্চের বহর যশোরের উদ্দেশে রওনা হয়। যশোরের মুড়লীর মোড় ও ঝিনাইদহ বাস টার্মিনালে পথসভা শেষে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে শনিবার সকাল ৭টায় রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে বহরটি শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবা, ফরিদপুরের ভাঙ্গা, গোপালগঞ্জের কাশিয়ানি এবং বাগেরহাটের ফকিরহাটের নওয়াপাড়া ও কাটাখালীর মোড় হয়ে খুলনা মহানগরীর বাবরী চত্বরে পথসভায় অংশ নেয়।
উল্লেখ্য, দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ১১ দল গত ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম অভিমুখে প্রথম এবং ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর অভিমুখে দ্বিতীয় লংমার্চ করেছিল।
এস
















