বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী কবি মতিউর রহমান মল্লিক সাহিত্য সম্পাদনা, সাংস্কৃতিক সংগঠন পরিচালনা, গান রচনা ও পরিবেশনসহ নানা ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন। তিনি সাপ্তাহিক সোনার বাংলা পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক, বিপরীত উচ্চারণ সাহিত্য সংকলনের সম্পাদক এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ সংস্কৃতি কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর বাঙালি মুসলিমদের সাংস্কৃতিক ধারা নির্মাণে তিনি স্বতন্ত্র রূপরেখা উপস্থাপন করেন। সেই ধারারই অংশ হিসেবে ১৯৭৮ সালে ঢাকায় তার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় জাতীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠী। এটি দেশ-বিদেশের ইসলামি সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর জন্য এক অনুকরণীয় মডেল হয়ে ওঠে। তার অনুপ্রেরণায় পশ্চিমবঙ্গ, আসামসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অসংখ্য সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

1011

তার সৃষ্ট জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে— “তোমার সৃষ্টি যদি হয় এত সুন্দর”, “রাসুল আমার ভালোবাসা”, “পৃথিবী আমার আসল ঠিকানা নয়”, “এলো কে কাবার ধারে” প্রভৃতি। এছাড়া তিনি নীষন্ন পাখির নীড়ে, আবর্তিত তৃণলতা, তোমার ভাষার তীক্ষ্ণ ছোরা, অনবরত বৃক্ষের গান ও রঙিন মেঘের পালকিসহ একাধিক কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেছেন। অনুবাদক হিসেবেও তিনি খ্যাতি অর্জন করেন; আফগান সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচিত পাহাড়ি এক লড়াকু তার উল্লেখযোগ্য অনুবাদ।

সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বহু পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেন, যার মধ্যে রয়েছে জাতীয় সাহিত্য পরিষদ স্বর্ণপদক, প্যারিস সাহিত্য পুরস্কার ও বায়তুশ শরফ সাহিত্য পুরস্কার।

মঙ্গলবারের কবর জিয়ারত ও দোয়ায় উপস্থিত ছিলেন— সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর সাবেক পরিচালক হাসনাত আব্দুল কাদের, আমিনুল ইসলাম, শিল্পী মশিউর রহমান, শিল্পী মালিক আব্দুল লতিফ, সাবেক পরিচালক শিল্পী আবু রায়হান, বর্তমান পরিচালক শিল্পী জাহিদুল ইসলাম ও অন্যান্য দায়িত্বশীলরা। কবর জিয়ারত শেষে কবির রূহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

এনএইচ